যেখানে দুঃখের সমুদ্র শেষ হয় না,
সেখানেই একদিন তোমাকে হারিয়েছিলাম—
শেষ বিকেলের নরম আলোয়
তোমার চোখে তখনও
ফিরে আসার মতো কিছু স্বপ্ন ছিল।
তারপর কত ঋতু চলে গেল,
কত নদী শুকিয়ে গেল রৌদ্রের ভিতর,
কত পাখি তাদের পুরোনো নীড় ভুলে
অচেনা আকাশে উড়ে গেল—
শুধু আমি দাঁড়িয়ে রইলাম
একই শূন্যতার কিনারায়।
সমুদ্রের নীল জলের দিকে তাকালে
আজও মনে হয়,
এই নীল কোনো আকাশের নয়—
এ আমার বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা
অসংখ্য না-বলা কান্নার রং।
তুমি চলে যাওয়ার পর
আমি অনেকবার সমুদ্রের কাছে গেছি;
ঢেউ এসে পায়ের কাছে ভেঙে পড়েছে,
আবার ফিরে গেছে গভীরে—
যেন তারা জানে,
কিছু মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় না,
শুধু তাদের অভাবের কাছে
বারবার ফিরে যেতে হয়।
রাত নামলে সেই সমুদ্র
আরও নীল হয়ে ওঠে,
আরও নিঃসঙ্গ।
দূরের বাতিঘরটাকে তখন মনে হয়
কোনো মৃত মানুষের চোখ—
যে এখনও অপেক্ষা করে আছে
একটি অসম্ভব নৌকার জন্য।
আমি ভেবেছিলাম
একদিন দুঃখও ক্লান্ত হবে;
একদিন তোমার স্মৃতি
পুরোনো কোনো ঘরের ধুলোর মতো
নিঃশব্দে ঝরে পড়বে।
তা হয়নি।
কিছু শূন্যতা
মানুষের সঙ্গে মরে না,
বরং মানুষের ভেতরেই
একটি দীর্ঘ সমুদ্র হয়ে বেঁচে থাকে।
আজ এত বছর পরও
যখন সন্ধ্যার বাতাসে
দূর সমুদ্রের নোনা গন্ধ পাই,
মনে হয়—
তুমি খুব কাছে কোথাও আছো,
শুধু ছুঁতে গেলেই
আরও একটু দূরে সরে যাচ্ছো।
আর আমি—
তোমাকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয়,
শুধু তোমাকে হারানোর সেই মুহূর্তটুকু
আরেকবার মনে করার জন্য
হেঁটে যাই সেই নীল জলের ধারে;
যেখানে ঢেউ আছে,
বাতাস আছে,
অন্ধকার আছে—
কিন্তু দুঃখের সমুদ্র
শেষ হয় না।