অন্ধকার শানের ওপর দিয়ে হেঁটে যায় চাকা,
কারখানার ভোঁ বাজে যান্ত্রিক ভোরে;
শীতের ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ে আকালের চাদর।
পাকা রাস্তার তলায় জমে থাকা ইতিহাস,
সেখানে রক্তের প্রতিটি দাগ হিসাব চায়
বাণিজ্যলক্ষ্মীর সোনার সিংহাসনের নিচে।
আমরা দেখেছি উপবাসের ভিড়ে শুকিয়ে যাওয়া চোখ,
স্বপ্নের নাম করে বিক্রি হয়ে গেছে এক চিলতে জমি;
তবু পচে যাওয়া এ রাজত্বে কেবলই প্রতিশ্রুতির ছাই।
উঁচু ইমারতের জানলায় চোখ রেখে কারা হাসে?
কারা চুষে নেয় মেহনতী হাতের শেষ ফোঁটা ঘাম?
ঘৃণার এই স্তূপ থেকে জন্ম নেয় আগামী দিন।
ভাঙা কাঠবোর্ডের মণ্ড দিয়ে সাজানো এ শহর,
আজ তার কৃত্রিম মুখোশ খুলে পড়ার সময় এসেছে।
কোনো করুণা নয়, কোনো মিছে আশ্রয়ের প্রার্থনা নয়।
মাটির তলা থেকে উঠে আসছে একটা ভারী পদশব্দ,
যে দিন বদলাবে তার ইস্পাতকঠিন প্রত্যয়ে,
রক্তাক্ত হাতের বজ্রাঘাতে চুরমার হবে অন্যায়ের সব দুর্গ।