এখনো তোমার চা খাওয়ার অভ্যাসটা আছে?
নাকি ব্যস্ততায় বদলে গেছে সেই চিরচেনা চুমুকগুলো?
সারাদিনে তোমার অসংখ্য চা খাওয়ার গল্পটা আমি অনেককে বলেছি,
বলতে বলতে কখনো হেসে ফেলেছি,
কখনো বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠেছে গোপনে।
তুমি বলতে, চা নাকি মাথার ভেতরের সব অন্ধকার সাফ করে দেয়,
অথচ আমাদের মাঝের ধোঁয়াশাটুকু কোনোদিনই কাটল না।
এখন কোথায় থাকো? কোন শহরে?
যে শহরটাতে আছ, সেখানকার আকাশ কি আমাদের শহরের মতো?
সে শহরের সন্ধ্যাগুলো কি বিষাদ ছড়ায়?
সেখানকার কোনো ধোঁয়া ওঠা চায়ে কি আমার নাম মনে পড়ে?
নাকি নতুন শহরে নতুন কারো মুখোমুখি বসে
এখনো চায়ের কাপে তুফান তোলো সেই আগের মতো করেই?
আমি আজও বিকেলের রোদটা নিভে গেলে কাপে চা নিয়ে বসি,
কিন্তু উল্টো দিকের চেয়ারটা শুন্যতায় খাঁ খাঁ করে;
চা জুড়িয়ে যায়, আমার আর চুমুক দেওয়া হয় না।
ঢাকা থেকে কতদূরে কোন অচেনা মেট্রোপলিটনে,
কোথায় যে হারালে তুমি, যার কোনো ঠিকানা আমার জানা নেই।
যে মানুষের সাথে একসময় নিঃশ্বাসের দূরত্ব ছিল,
সে আজ শুধুই কোনো অজানা ভৌগোলিক দূরত্বের এক নাগরিক।
স্মৃতিগুলো আজ ভীষণ ভারী, বড্ড একঘেয়ে এই নিঃসঙ্গতা,
তোমার দেওয়া অভ্যাসের ক্ষত বহন করে আমি বেঁচে আছি একা।
চা গরম হতে হতে যেমন বাষ্প হয়ে উবে যায় চেনা গন্ধ,
যেভাবে কোনো এক ভিড়ের শহরে তুমিও হারিয়ে গেলে চিরতরে।