আমাদের ঘরদুয়ারের আটপৌরে জীবনে
কখন যে রূপকথারা এসে চুপচাপ ভিড় করে,
তা আমরা টের পাই না কোনো ব্যস্ত সকালে,
যেখানে চায়ের ধোঁয়ায় উড়ে যায় প্রাত্যহিক ক্লান্তি।
রান্নাঘরের মশলার চেনা ঘ্রাণ আর প্রেশার কুকারের সিটিতে
যে সুর বাজে প্রতিদিন, তা কোনো সাধারণ সংগীত নয়;
সেটা আসলে দুটো মানুষের সংসার করার নীরব দারুণ গান,
যার ছন্দ লুকিয়ে থাকে তোমার এলোমেলো শাড়ির আঁচলে।
বিকেলের বারান্দায় যখন একচিলতে রোদ এসে পড়ে,
আর তুমি আলতো হাতে গুঁজে দাও নিজের ক্লিপটা চুলে,
আমার মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত সাজগোজের চেয়ে
তোমার এই সাধারণ ঘরোয়া রূপটাই কত বেশি নিখুঁত।
মাসকাবারি হিসাবের খাতার আড়ালে কিংবা
সাঁঝবাতি জ্বালানোর মোহাচ্ছন্ন কোনো মুহূর্তের ফাঁকে,
তোমার আঙুলের ছোঁয়া লেগে থাকা ওই সিরামিকের কাপে
আমি খুঁজে পাই এক চিরন্তন প্রেমের সুবাস।
অগোছালো বিছানার চাদর কিংবা ধুলো জমা কাচের জানালায়
প্রেম প্রতিদিন নতুন করে জন্ম নেয় কোনো ঘটা না করেই;
অভিমান জমে, আবার রাতের নিস্তব্ধতায় শান্ত হয় দুটো মন,
একই বালিশে মাথা রেখে গড়িয়ে যায় অনুভূতির শান্ত নদী।
বাইরের পৃথিবীর সব কোলাহল, কৃত্রিম পোশাকের মুখোশ খুলে
যখন আমরা আশ্রয় নিই এই চার দেয়ালের বিশ্বস্ত আশ্রয়ে,
তখন বুঝি, আকূল ভালোবাসা আসলে কোনো দূর সমুদ্রতীরে নয়,
লুকিয়ে আছে আমাদের এই অতি সাধারণ, আটপৌরে যাপনেই।