একদিন কাঠ দিয়ে তৈরি হলো এক জাঁকজমক চেয়ার,
তারপর থেকেই শুরু হলো এক আজব রাজত্বের ফেয়ার।
কাঠটা ছিল মেহগনি, আর পায়ে ছিল সোনার পাত মাখা,
সেই চেয়ারে বসলেই নাকি বদলে যায় ভাগ্যরেখা।
যে আসে সে-ই বুকে হাত দিয়ে বলে, আমি জনতার লোক,
অথচ চোখ দুটো চেয়ারে, লোভে চকচকে চোখ।
চেয়ারে বসামাত্রই তার চামড়া হয়ে যায় দারুণ মোটা,
সে তখন দেখতে পায় না মানুষের কান্নার ফোঁটা।
ভাষণে ঝরে শুধুই মধু, আশ্বাস আর নানান প্রতিশ্রুতি,
আসল কাজ বলতে কেবল আখের গুছিয়ে নেওয়ার গতি।
প্রজারা ক্ষুধা আর ট্যাক্সের ভারে যখন ভেঙে পড়ে রাস্তায়,
হেলান দিয়ে ওই চেয়ারে রাজা তখন ঘুমায়।
চাটুকারের দল বসে বসে হাততালি আর জয়ধ্বনি দেয়,
রাজা ভাবে, তার মেয়াদ বুঝি এবার চিরকাল রয়।
চেয়ারের পায়ায় জমে থাকে শোষিত মানুষের নিঃশব্দ রক্তের দাগ,
সভার মাঝে রাজা বলে নিজের বাহাদুরি আর বড়াইয়ের ভাগ।
পাঁচ বছর পর যখন আবার নেমে আসে নতুন ভোটের দিন,
পুরনো রাজা তখন কেঁপে কেঁপে গোনে পদচ্যুতির দিন।
পদচ্যুতি হলো রাজার, ভেঙে যায় অহংকারের ভুল,
নতুন আরেকজন এসে বসে চেয়ারে, একই ছলনার ফুল।
আসলে কাঠের এই চেয়ারে আছে এক গোপন জাদুটোনা,
যেই বসে, সেই বধির, অক্ষম সে মানুষের কান্না আর হাহাকারটা শোনা।
রাজারা আসে, রাজারা যায়; নাম বদলে নতুন মুখের,
আর বোকা প্রজার জীবন একই থাকে, বড় দুঃখের।
Comments
Be this story’s first reader
+25 XPNobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.
Sign in to claimFirst reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
sayed Hossain 5 hours ago
ওইটাই আমাদের জনগণের বিচারে অভিশপ্ত চেয়ার আর রাজাদের জন্য অসীম সম্পদের হাতছানির আহবান।