Novel

যৌদ্ধা (পর্ব ০৬) রুদ্র সিয়াম

October 8, 2026

27 views

রিয়াদ সকালবেলা দরজা খুলে দেখলো দুজন পুলিশ এসেছে। এদিকে রিয়াদের খাটের নিচে মকবুলকে গতরাতে রিয়াদ কবর দিয়ে দিসে। যা কেউ জানে না।

রিয়াদ পুলিশের পোষাকে নাম দেখে নিল। একজনের নাম মামুন, আরেকজন ইলিয়াস।

মামুন বলল, দুঃখিত। ঘুমাচ্ছিলেন বুঝি। অবশ্য সকাল ১০টা বাজে। অসময়ে ডিস্টার্ব করলাম।

রিয়াদ ঘুমের ভান করে হাই তুললো। যেন মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে।

মামুন বলল, আপনি কি জানেন গতরাতে নুসাইবাকে তার গোসলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে? আমাদের সন্দেহ মকবুল এই কাজ করেছে। কারন গতরাত থেকে মকবুল নিখোঁজ।  আমরা আপনার ঘর তল্লাসি করলে কিছু মনে করবেন না তো?

রিয়াদ খাটের নিচ থেকে মানিব্যাগ বের করে নিজের আর্মি আইডি কার্ড দেখালো।

আইডি দেখে মামুন বলল, ও আপনি তাহলে এক্স-আর্মি। তবে স্যার। আমাদের ডিউটি আমরা আপনার ঘরটাও তল্লাসি করতে বাধ্য। সবার ঘর তল্লাসি করা হয়েছে। শুধু আপনারটা বাকি।

রিয়াদ ভেবেছিল নিজের পরিচয় দিলে পুলিশরা তল্লাসি করবে না। তবে তার প্লান ফেইল হলো। এদিকে তার পকেটে ৮ পিস ইয়াবা। পকেটে হাত দিলেই ধরা খাবে।

মামুন ইলিয়াসকে ঈশারা করতেই। ইলিয়াস ঘর তল্লাসি করা শুরু করলো। রিয়াদের চোখ খাটের নিচে খাট সড়ালেই সে ধরা খাবে। তখন রিয়াদ কি করবে?

ইলিয়াস আলমারীর সকল কাপড় ফেলে দিল মাটিতে। আলমারীতে কিছু পেল না। তারপর তার নজর পড়লো খাটের ওপর। খাটের তোষক উঠাতেই দেখলো ১প্যকেট মারবোরো সিগারেট।  সেই সিগারেট এর প্যকেট খুলেও চেক করলো। সব সিগারেট বের করে তোষকের ওপর রাখলো ভেতরটা ভালোভাবে চেক করে একবার রিয়াদের দিকে তাকালো।

রিয়াদ নিজেকে বাইরে নরমাল রেখেছে। যেন এসব নরমাল বিষয়। সিগারেট খায় সে। আর  এটা আইনীভাবে নিষেধ না।

হঠাৎ ইলিয়াসের নজর পড়লো খাটের নিচে মাটিগুলোর দিকে। ইলিয়াস খাটের নিচে লাইট মারলো।

ইলিয়াস বলল, স্যার। মাটি খোড়া হয়েছিল।  মনে হয় মাটির নিচে কিছু পুতে রাখা।

মামুনের ঠোঁটে হাসি যেন অপরাধী ধরে ফেলেছে। মামুন পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালো। তারপর মামুন বললেন, খাট সড়াও। ওই জায়গাটা খুড়ে ফেলো কোদাল দিয়ে। আমার মনে হয় ওখানেই নুসাইবার মৃতদেহ পাবে।

তারপর সিগারেটে টান দিয়ে ধোয়া ছাড়লেন মামুন। উত্তেজনায় উনার হাত হালকা হালকা কাপছে। এই প্রথমবার এতো সহজে ক্যাস সলভ হবে।

খাট সড়িয়ে মাটি খোড়া হচ্ছে। এদিকে রিয়াদ কে দেখা গেল টেনসন ফ্রি। রিয়াদ গোসলখানায় ঢুকে দাত ব্লাশ করলো। তারপর গোসল করে কালো শার্ট পড়ে নিল। খাবার টেবিলে বসে শিউলী খালাকে বলল, নাস্তা দিতে। শিউলি খালা নাস্তা দিল।  রিয়াদ পরোটা দিয়ে ডিমবাজি খাচ্ছে। যেন তার কোন টেনসন ই নাই।

শিউলি খালা বললেন, আমি জানি তুই নুসাইবার সাথে তোর সম্পর্ক ছিল রিয়াদ।

রিয়াদ এমন ভান করলো যেন কিছু শুনলো না। সমস্ত জগৎ থেকে সে আলাদা এক অন্যজগতে তার ব্রেইন চিন্তাভাবনা করছে।

শিউলি খালা বললেন, তুই কি নুসাইবাকে খুন?

রিয়াদ বলল, ভালোবাসি তাই বলে কি খুন করবো না। হাহাহা।

শিউলি খালা বললেন, তোর পাগলামি এখনও গেল না। ৪দিন আগে নানী মারা গেল তোর। এখন আবার তোর প্রিয় মানুষ। তবুও তুই এতো শান্ত কিভাবে?

রিয়াদ রেগে গেল। ভাজির ওপর চামচটা ছুড়ে ফেলল মাটিতে। তারপর বলল, তাহলে কি করবো? কান্না কাটি করব? আমার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। আমার বন্ধু যুদ্ধে আমার চোখের সামনে সে গুলি খেয়ে মারা যায়।।আমি কিছু করতে পারিনি। কারন আমি একটা অপদার্থ।

কথাগুলো বলে খাবার টেবিল থেকে উঠে পড়ে রিয়াদ। তারপর নিজের রুমে আসে। দুজন কৃষক ঘরের মাটি খুড়ছে। রিয়াদ সেদিকে মনোযোগ দিল না।  খাটের ওপর থেকে মালবোরো সিগারেট নিয়ে ধরিয়ে দিল পুলিশের সামনেই। মামুন একবার তাকালো রিয়াদের দিকে তবে কিছু বললো না।

হঠাৎ কৃষক বলল, স্যার দেখেন এটা কী? সাদা কাপড়ে মোড়ানো?

মামুন আগ্রহ নিয়ে দেখলো সবাই অবাক হয়ে দেখলো। কিছুক্ষণ পর রিয়াদও উকি মেরে গর্তে তাকিয়ে দেখলো।

জিনিসটা কি ছিল?  আর সবাই অবাক কেন? লাশ না অন্যকিছু? কে কার সাথে মাইন্ডগেম খেলছে? রিয়াদ কি ধরা পরিয়াদকে জেলখানায় এনে রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে৷  তারপর তাকে একজন মহিলা অফিসারের সামনে আনা হয়েছে। মহিলার নাম মারজান চৌধূরী। তাদের সামনে একটা টেবিল। টেবিলের একপাশে চেয়ারে বসা মারজান। আরেকপাশে মার খাওয়া ঠোট কেটে রক্ত পড়তে হ্যন্ডকাপ অবস্থায়  রিয়াদ। মারজান ৬মাসের প্রেগন্যন্ট। তবুও সিগারেট টানছেন।

মারজান বলল, কেন মকবুলকে খুন করলেন?

রিয়াদ শুধু তাকিয়ে আছে মারজানের দিকে। কোন উত্তর দিল না।

মারজান হাতের ঘড়ির দিকে তাকালেন। আর বিরক্ত হলেন।

মারজান বললেন, মকবুল কে যদি আপনি মারেন? তাহলে নুসাইবাকে কে মেরেছে?

রিয়াদ বলল, আপনারা গোয়েন্দা এসব আপনাদের কাজ। আমি কি করে বলবো?

মারজান বলল, নুসাইবার সাথে আপনার কি সম্পর্ক কী?

রিয়াদ বলল, আপনার হাতের সিগারেট টা দেন।

মারজান তার হাতে থাকা জলন্ত সিগারেট দিল না। প্যকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে রিয়াদকে দিল। রিয়াদ সিগারেট ধরালো।

রিয়াদ বলল, রাশিয়া_ইউক্রেনের যুদ্ধ আমরা সৌদী আরব থেকে ট্রেনিং নিয়ে আমি আর ইসহাক। যাই তারপর আমি ফিরে আসলেও বেস্টফ্রেন্ড ইসহাক ফিরেনি সেদিন।হয়তো সেই ট্রমা থেকেই এমন হয়েছি।

মারজান বলল, ইন্টারেস্টিং।

দুপুরে ভাত দেওয়া হলো রিয়াদকে। সেই ভাতের চাল ইটের মতো শক্ত। একটু মুখে দিয়ে চাবাতেই রিয়াদ আর গিলতে পারলো না। ফেলে দিল সব খাবার।

হঠাৎ তার মাথায় আইডিটা আসলো। প্লাস্টিকের প্লেট টা ভেঙ্গে ফেলল। পুলিশ গার্ড এসে চেচিয়ে বলল, প্লেট ভাঙলেন কেন?

রিয়াদ বলল, হাত থেকে পড়ে গেছে।

এদিকে রিয়াদ তখন প্লেটের একটা অংশ রেখে দিল নিজের কাছে। তারপর সবাই যখন গুমিয়ে যেত। রিয়াদ তখন দেয়ালে গর্ত করতে লাগলো। এভাবে ৭দিন কেটে গেল। গর্তের ওপর একটা ক্যরেন্ডার দিয়ে দিয়েছিল রিয়াদ। তাই কোন পুলিশের নজরে পড়েনি।

এই ৭দিনে রিয়াদ শুধু লাইব্রেরির বই পড়ে কাটিয়েছে। দিনটা ভালোই কেটেছে।

আজ শুক্রবার। বিকেলবেলা সবাই মাঠে খেলছে ক্রিকেট। রিয়াদ বই পড়া রেখে এগিয়ে গেল। দুজন কয়েদী ছেলে গাজা খাচ্ছে। রিয়াদ তাদের থেকে গাজা চাইল। তারা টাকা চাইলো। রিয়াদ টাকা দেওয়ায় তাকে গাজা দিল।

রাতের বেলা ১২ টা বাজে রিয়াদ সেই গর্ত দিয়ে পালিয়ে গেল। কেউ জানলো না।

সকালবেলা পুলিশগার্ড চর্টলাইট মারলো রিয়াদের জেলে। দেখে রিয়াদ নাই। তবে বাইরে তালা ঠিকই ঝুলছো। মারজানকে ডাকা হলো। উনি তালা খুলে ভেতরে ঢুকলেন। তারপর ক্যলেন্ডার সড়াতেই বুঝলেন। রিয়াদ সেখানে সুড়ঙ্গ করে পালিয়েছে।

মারজান এর ঠোঁটের কোনে হাসি। মারজান বললেন, খুব স্মার্ট ইম্প্রেস হয়ে গেছি। তবে আমাকে চ্যলেন্জ করলে রিয়াদ। তোমাকে দেখে নিব। আমার কারাগার থেকে পালাইসো৷ কাজটা ঠিক করোনি।

রিয়াদ বাইরে রাস্তায় মানবতার দেয়ালে ঝুলানো জামা কাপড় দেখলো। তারপর কয়েদীর পোষাক পাল্টে সেগুলো পড়ে নিল। এখন সে জঙ্গলে চলে যাবে। সেখানে পরিচয় পাল্টে বসবাস করবে। হয়তো কোন চাকমা মেয়েকে বিয়ে করে নিবে।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login