নাগরিক রাত্রির আকাশে
প্রাচীন গ্রামোফোন এক বাজছিল নিরন্তর -
তারই সুরের ধোঁয়ার কুণ্ডুলি থেকে
উঠে এলেন রবীন্দ্রনাথ, এবং
কী বিস্তৃত টানাটানি চলছে তাঁকে নিয়ে-
সে সংবাদকে নেহাৎই অবান্তর গণ্যে,
হেঁটে চললেন মহানগরের উড়ালপথ ধরে,
যেখানে প্রতিটি ধাবমান যান
নিজেকে এক-একটি অতৃপ্ত সুর বলে ভ্রম করে।
তাঁর কেশদামে জ্যোৎস্নার রূপালি জাল,
শুভ্র শ্মশ্রুতে জমে আছে যেনবা
ঝরে পড়া তারাগুলোর বিষণ্ণ বার্তা-
অকস্মাৎ এক ট্রাফিক লাইট
সবুজ হওয়ার বদলে গেয়ে উঠল-
"একলা চলো রে …."
শুনে, মুহূর্তেই শহরের সব বিলবোর্ডগুলো
নিজস্ব বিজ্ঞাপনী খোলস ছিঁড়ে
হয়ে উঠল একেকটি অমলিন কবিতা।
রবীন্দ্রনাথ তখন এক যান্ত্রিক লিফটে চড়ে
স্কাইস্ক্র্যাপারের শিখর থেকে নামছেন-
তাঁর উত্তরীয়র ভাঁজে রাখা
এক ক্ষুদ্র শান্তিনিকেতন-তার নিবিড় তরুরাজি
স্বপ্ন বুনে চলছিল ধ্রুপদী ভাষায়।
লিফটটা থামতেই এক পরিশ্রান্ত বার্তাবাহক
তাঁর হাতে তুলে দিল পলিথিনে মোড়া
কেজি খানেক গুমোট বিষণ্ণতা।
তিনি সেই মোড়ক খুললেন-
নির্বিকার দৃষ্টিপাতে প্রত্যক্ষ করলেন
ভেতরকার অবিরল বর্ষণ, অসমাপ্ত বিরহ-গাথা।
তাঁর চোখের মণিকোঠায় ছলকে ওঠে
এক স্বচ্ছ কাঁচের জলাধার-
সেখানে অলস সন্তরণে রত
সাদা-কালো ছুটির দুপুর,
পুরোনো আকাশবাণীর সুর,
আর এই ধরিত্রীর শেষের কবিতা।
অতঃপর তিনি, রবীন্দ্রনাথ, নিঃশব্দে
খুলে দিলেন এক আকাশ-ছোঁয়া জানালা-
আর সেই বাতায়ন পথে সহস্র বিহঙ্গ
ডানা মেলল-অযান্ত্রিক অন্ধকারে।।