Poetry

রবীন্দ্র-তর্পণ

October 11, 2026

12 views

নাগরিক রাত্রির আকাশে

প্রাচীন গ্রামোফোন এক বাজছিল নিরন্তর -

তারই সুরের ধোঁয়ার কুণ্ডুলি থেকে

উঠে এলেন রবীন্দ্রনাথ, এবং

কী বিস্তৃত টানাটানি চলছে তাঁকে নিয়ে-

সে সংবাদকে নেহাৎই অবান্তর গণ্যে,

হেঁটে চললেন মহানগরের উড়ালপথ ধরে,

যেখানে প্রতিটি ধাবমান যান

নিজেকে এক-একটি অতৃপ্ত সুর বলে ভ্রম করে।

তাঁর কেশদামে জ্যোৎস্নার রূপালি জাল,

শুভ্র শ্মশ্রুতে জমে আছে যেনবা

ঝরে পড়া তারাগুলোর বিষণ্ণ বার্তা-

অকস্মাৎ এক ট্রাফিক লাইট

সবুজ হওয়ার বদলে গেয়ে উঠল-

"একলা চলো রে …."

শুনে, মুহূর্তেই শহরের সব বিলবোর্ডগুলো

নিজস্ব বিজ্ঞাপনী খোলস ছিঁড়ে

হয়ে উঠল একেকটি অমলিন কবিতা।

রবীন্দ্রনাথ তখন এক যান্ত্রিক লিফটে চড়ে

স্কাইস্ক্র্যাপারের শিখর থেকে নামছেন-

তাঁর উত্তরীয়র ভাঁজে রাখা

এক ক্ষুদ্র শান্তিনিকেতন-তার নিবিড় তরুরাজি

স্বপ্ন বুনে চলছিল ধ্রুপদী ভাষায়।

লিফটটা থামতেই এক পরিশ্রান্ত বার্তাবাহক

তাঁর হাতে তুলে দিল পলিথিনে মোড়া

কেজি খানেক গুমোট বিষণ্ণতা।

তিনি সেই মোড়ক খুললেন-

নির্বিকার দৃষ্টিপাতে প্রত্যক্ষ করলেন

ভেতরকার অবিরল বর্ষণ, অসমাপ্ত বিরহ-গাথা।

তাঁর চোখের মণিকোঠায় ছলকে ওঠে

এক স্বচ্ছ কাঁচের জলাধার-

সেখানে অলস সন্তরণে রত

সাদা-কালো ছুটির দুপুর,

পুরোনো আকাশবাণীর সুর,

আর এই ধরিত্রীর শেষের কবিতা।

অতঃপর তিনি, রবীন্দ্রনাথ, নিঃশব্দে

খুলে দিলেন এক আকাশ-ছোঁয়া জানালা-

আর সেই বাতায়ন পথে সহস্র বিহঙ্গ

ডানা মেলল-অযান্ত্রিক অন্ধকারে।।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login

  • Borhan mahmud 5 hours ago

    ক্লাসিক লিখেছেন। শুভেচ্ছা রইল।