এক চুমুক, দুচুমুক;
এটা কি চা, নাকি শাসকের কফ খাচ্ছি!
গলায় নামে শ্লেষ্মার পিণ্ড,
চিনির কণায় দেখা যাচ্ছে রক্তের দাগ।
দেশটাকে এরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
প্রশ্নটা উগরে দেয় পেটের পাঁজর,
ঘৃণার সাথে থুতু ফেলে রিকশাওয়ালা।
দেখো, ওই লাল ভবন!
মাথার খুলিতে বসে যারা, তাদের হাসিতে
পোড়া ইটের ভাঙা টেরাকোটা।
পলেস্তারা খসে পড়ে শান্তির স্বপ্নে,
ফাঁকে ফাঁকে শুধু শেয়ালের দাঁতের কামড়।
উন্নয়নের নেশায় মত্ত, খেতাবের জৌলুসে
চোখ ধাঁধানো অন্ধকার।
তাদের জিহ্বা, যেন হেক্সাব্লেড, শব্দ কাটে।
তাদের প্রতিহিংসায় গড়ে উঠেছে শবাধারের নতুন কারখানা।
রাজপথ? না, অর্থ স্রোত!
যেখানে পা ফেলি, সেখানেই শুধু আত্মার কান্না।
গণতন্ত্রের মিছিলে হাঁটি,
পায়ের তলায় শুধু কঙ্কালের হাঁড়ের শব্দ।
লাল-সবুজের পতাকা উড়ে,
বাতাসে মিশে বিষাক্ত ভোটের গ্যাস।
নির্বাচনের নাটকে শুধু মুখোশ বদল,
একই পচা গন্ধে ভাসে একই আকাশ।
আর আমরা?
গিনিপিগের দল, ল্যাবের খাঁচায় চর্বি জমাই।
টেলিভিশনের পর্দায় বিষ,
খবরের কাগজে মলমের স্তর।
তোয়াজকারীদের সমস্বরে স্তুতিতে "ভালো আছি"
বাক্যে মিথ্যার থকথকে লালা।
চোখ বুজে গুনি গাঁটের কড়ি, কবর খোঁড়ার মজুরি হিসাব!
মুক্তিযুদ্ধের সুর? তার চেয়ে জোরে বাজে
কোটিপতির গাড়ির হর্ন,
ব্যাংক লোনের সুদের হিসাব।
শহীদের রক্তে ভেজা মাটি,
তাতেই আজ গজায় শপিং মল!
আর জাতীয়তাবাদ এর জিকিরের শব্দের
হুল্লোড়ে মত্ত নতুন রক্তচোষার দল।
এখন কী চাই?
কাগজের ফুল? শোকের সভা?
নেতার ভাষণের বাণীতে পূর্ণ প্ল্যাকার্ড?
না!
চাই রাস্তার প্রতিটি ইট ফুঁড়ে ওঠা আগ্নেয়গিরির মুখ!
চাই এই নিষ্পেষণে পিষ্ট হাড়ের চূর্ণ থেকে জেগে ওঠা অগ্নিশিখা!
চাই মিথ্যার প্রাসাদে বোমারুর বৃষ্টি,
সত্যের টুকরোর গোলা।
চাই গিলোটিনের ফিতা, উড়ে যাক তাদের মাথা,
যে মাথারা ভাবে এদেশ তার বাপের সম্পত্তি!
ফুটপাতের চায়ের কাপে ভাসে না স্বপ্ন,
ভাসে বিষ।
দেশটাকে এরা কোথায় নিয়ে আচ্ছে?
প্রশ্ন নয়, এটা চিৎকার।
জ্বলুক আগুন আবার!
কবর থেকে জাগবে আবার বাংলাদেশ!
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙা পতাকা,
শবাধার থেকে উঠে আসবে আবার।
(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)