কবিতা, গল্প কিংবা উপন্যাস লেখার চেয়ে এখন মনে হচ্ছে, সাহিত্যে সত্যিকারের ভ্যালু অ্যাড করতে চাইলে সাহিত্যচর্চার শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া আরও জরুরি।
বাংলা ভাষায় আগ্রহী লেখকের অভাব নেই। প্রতিদিনই নতুন নতুন লেখক জন্ম নিচ্ছেন। কিন্তু লেখার এই বিপুল আগ্রহের বিপরীতে ঘাটতি রয়ে গেছে সাহিত্যবোধের—সাহিত্য আসলে কী, কীভাবে সাহিত্য পড়তে হয়, একটি লেখা কীভাবে শিল্প হয়ে ওঠে, কিংবা সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব, ইতিহাস ও বিশ্লেষণ কীভাবে বুঝতে হয়।
আমরা অনেকেই লিখতে চাই, কিন্তু লেখক হয়ে ওঠার দীর্ঘ শিক্ষাপ্রক্রিয়া সম্পর্কে কতটা জানি? লেখার আকাঙ্ক্ষা আছে, অথচ পাঠ, অনুশীলন, আত্মসমালোচনা ও সাহিত্যবোধ নির্মাণের চর্চা তুলনামূলকভাবে কম।
এই উপলব্ধি থেকেই সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি সাহিত্যকে বোঝার, পড়ার, বিশ্লেষণ করার এবং সাহিত্যচর্চার জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। জ্ঞানী দাবি করছি না, যা-টুকু আহরণ করতে পেরেছি মোটামুটি দীর্ঘ এ জীবনে।
বিশ্বাস করি, ভালো সাহিত্য সৃষ্টির জন্য প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন নিবিড় পাঠ, নান্দনিক বোধ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং নিজের লেখাকে প্রশ্ন করার সাহস।
সেই ভাবনা থেকেই এই প্ল্যাটফর্ম -এই কাজটা শুরু করব ভাবছি।
সাহিত্য শেখানো মানে কোনো বাঁধাধরা সূত্র শেখানো নয়; বরং প্রশ্ন করতে শেখানো, পাঠের গভীরে যেতে শেখানো এবং প্রত্যেককে নিজস্ব সাহিত্যবোধ নির্মাণে সহায়তা করা।
লেখালেখির পাশাপাশি আরও মানুষকে সাহিত্য বুঝতে, ভাবতে ও ভালোবাসতে সাহায্য করতে পারাও একধরনের সাহিত্যকর্ম বলে মনে করি।
চাই বাংলা সাহিত্যে লেখকের সংখ্যা নয়—বাড়ুক মান।
Quality over quantity, that is what we want!!
প্রস্তুতির জন্য কিছু সময় নেবো। গতকাল শুরু করা ধারাবাহিক ‘পুরস্কারকেন্দ্রিক সাহিত্যবোধ ও সম্মিলিত আত্মপ্রবঞ্চনা’ শেষ করেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামবো ভাবছি। ধারাবাহিক আলোচনাটাই আসলে ’লেখালেখির ইশকুল’ ভাবনাটার, বলা যায়, আঁতুড়ঘর।
চোখ রাখুন।।