বুকের মাঝে কষ্ট নদি বহে বারো মাস
লুকিয়ে রেখে মেকি হাসির করি শুধু চাষ।
চোখের কোণে অশ্রু জমে শুকায় আপনমনে
গোপন ব্যথা গুমরে মরে মনের গহীন বনে।
বাইরে থাকে আলোর মেলা উজ্জ্বল সাজানো
ভেতরে এক আঁধার কালো নীরবতায় ছড়ানো।
সবাই ভাবে সুখে আছি নেই তো কোনো দুখ
অশান্তিরই আগুনে যে পুড়ছে সদা বুক।
মুখোশ পরে চলছি রোজ নিত্যদিনের হাটে
বেদনাদের দীর্ঘ মিছিল একাকী দিন কাটে।
মনের কথা বলতে গিয়েও থমকে যায় ভাষা
মিছে মায়ার হাতছানিতে বাঁধি কত আশা।
নদীর মতো কান্না আমার গোপনে বয় স্রোতে
পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি একলা কোন পথে।
ক্লান্ত হৃদয় ক্লান্ত পরাণ শান্তি নাহি পায়
অশ্রুধারা জমিয়ে রেখে বেলা বয়ে যায়।
কেউ তো কভু জানতে চায় না ভেতরের খবর
বুকের ভেতর গড়েছি যে ব্যথার এক কবর।
হাসির তোড়ে ঢেকে রাখি ক্ষতের যত দাগ
আমার ভাগে রইল জমা শুধুই বৈরাগ।
দিনের শেষে যখন নামে আঁধার রাতের ছায়া
স্মৃতির পাতা মেলে ধরে নিঠুর কোনো মায়া।
একলা ঘরে বালিশ ভিজে ব্যথার ধারাপাতে
ঘুম আসে না দীর্ঘশ্বাসই সঙ্গ দেয় এ রাতে।
তবুও তো বাঁচতে হবে ভোরের রবি দেখে
নতুন করে মেকি হাসির তুলি দিয়ে এঁকে।
জগৎ শুধুই দেখতে শেখে বাইরের রূপখানি
ভেতরের সেই পুড়তে থাকা কান্না নাহি জানি।
অভিনয়ের চাদর গায়ে কেটে যায় এ বেলা,
হৃদয় জুড়ে চলছে যেন ধ্বংসের এক খেলা।
পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে চলছি অবিরত
সময়ের স্রোতে আজও তাজা মনের ক্ষত।
ভাগ্যের এই পরিহাসে মানিয়ে নিয়ে মন
একলা লড়াই লড়ছি আমি একাকী সর্বক্ষণ।
হাসির আড়ে লুকিয়ে থাকে সহস্র নিঃশ্বাস
বুকের মাঝে কষ্ট নিয়ে কাটছে বারো মাস।