কথা ছিল ভাঙনের পর এই রুক্ষ মাটিতে নামবে পলি,
কথা ছিল রক্তে ধোওয়া রাজপথ ধরে হেঁটে যাবে অমলিন ভোর।
অথচ তোমরা কী নিখুঁত দক্ষতায় বদলে নিলে হাতের পতাকা,
আগেরই ক্ষমতার ভারী বুট দিয়ে পিষে দিলে সদ্য জন্মানো ঘাস।
যে বালক নিজের বুক পেতে নামিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রোদ,
তার স্মৃতি আজ বন্দি কেবলি সুবিধাবাদী বেদির মিছিলে।
তোমরা আবার মেপে নিচ্ছ শব্দ, মেপে নিচ্ছ সুবিধাজনক পদবী,
পুরোনো অত্যাচারীর বর্ম পরে সেজে উঠছ নুতন ঈশ্বর।
সাধারণ মানুষ এখনো একই আতঙ্কে রাতে বন্ধ করে দেয় জানলা,
শোনে শুধু রাজপথের দখল পালটানোর হিংস্র কোলাহল।
আসলে সিংহাসনের কোনো কাণ্ডজ্ঞান থাকে না,
কেবল মুখ বদলে যায়, আর চাবুকের আঘাতটা জমা হয় সেই পুরোনো পিঠেই।
তবে মনে রেখো, এই জমাট নিস্তব্ধতার গভীরেও ফুঁসে ওঠে বীজ,
একদিন এই বন্ধ জানলার কাচ ভেঙে আবার প্রকম্পিত হবে রাজপথ।