একদিন মধুমতী নদীর ধারে
রৌদ্র নেমে এসেছিল নিঃশব্দে
একটি ম্লান দুপুরের কাঁধে,
ঝাউপাতার কাঁপনে কাঁপনে
এক ছবি জন্ম নিয়েছিলো।
সে ছবি কি মানুষ? না নিছকই রূপক?
তবু তার চোখে ছিল জলের ছায়া,
চুলে রৌদ্রজাল, হাঁটুর কাছে
মেখে নিয়েছিল কাদামাটি আর নদীর স্মৃতি।
সে হেঁটেছিল জলরেখা মেপে,
তার পায়ের তলায় পদ্ম ফুটেছিল নিশব্দে।
মধুমতীর ঢেউ তাকে ডাকতো নাম ধরে,
আর সে,
সে যেন নীরবতার ভাষান্তর,
এক নির্মিলিত নাব্যতার নাম।
তার ঠোঁটে ছিল দিগন্তের স্বপ্ন,
বুকের ভেতর ঢুকে পড়া নদীর ঢেউ,
তার চুলের ভাঁজে জোয়ারের ছলছল শব্দ।
শুনেছি, হৃদয়কে ছুঁয়ে যাওয়া কথারা
কখনো মুখ খোলে না,
শুধু চেয়ে থাকে, নৈশব্দের মতো।
তুমি যদি খুঁজে পাও তাকে,
দেখবে সে আজো বসে আছে নদীর ঘাটে,
এক ফালি আলোয় গায়ে গুঁজে রেখেছে জীবন,
তুমি কে? প্রশ্ন করলে সে হাসে,
আর বলে,
আমি শুধু ছবি,
প্রতিচ্ছবিতে তুমি আমাকেই দেখবে।
(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)