আরবি সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিতে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে ব্রাজিল, ভারত থেকে শুরু করে উত্তর মেসিডোনিয়ায় নতুন পাঠক খুঁজে পাচ্ছে আরবি ভাষার বইগুলো।
এই উদ্যোগের মূল কারিগর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (এএলসি)। তাদের বিশেষ অনুবাদ কর্মসূচি ‘কালিমা টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই মেলায় বেশ কয়েকটি নতুন অনুবাদ ও যৌথ প্রকাশনা চুক্তি সই করা হয়েছে।
এবারের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় এএলসি ১০টি প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক অংশীদারের সাথে যৌথভাবে সাতটি ভাষায় মোট ১৪টি অনুবাদ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্তুগিজ, মেসিডোনিয়ান, হিন্দি, উর্দু, গ্রিক, স্প্যানিশ এবং ইংরেজি ভাষা।
এই অনুবাদগুলোর মধ্যে শুধু কথাসাহিত্য বা ফিকশনই নয়, বরং শিশুদের সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমাজবিজ্ঞান সংক্রান্ত বইও স্থান পেয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমিরাতি ও আরবি বইয়ের অনুবাদ ও প্রকাশনাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে গত বছরের মেলায় এই কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল।
এদিকে উত্তর মেসিডোনিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা 'বাটা প্রেস' এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যেই মিশরের নোবেলজয়ী নাগিব মাহফুজ ও সমসাময়িক আরব লেখকদের বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ করেছে। এবার তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি তেলভিত্তিক উন্নয়নের আগের জীবনযাত্রা নিয়ে লেখা একটি বিশেষ আমিরাতি উপন্যাস মেসিডোনিয়ান ভাষায় প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
বাটা প্রেসের প্রকাশক ফিলিপ বাটকোস্কির ধারণা, অটোমান (উসমানীয়) আমলের যৌথ ইতিহাসের কারণে উত্তর মেসিডোনিয়ার সাথে আরব বিশ্বের এক গভীর সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে, যা এই অঞ্চলের পাঠকদের আরবি সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট করবে।
তিনি বলেন, 'আসলে আরব বিশ্ব এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার মধ্যে অনেক যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা ৫০০ বছর ধরে অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আর অটোমান সাম্রাজ্যের ওপর নিঃসন্দেহে আরব বিশ্বের বিশাল প্রভাব রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আরবদের সাথে আমাদের যে কত মিল রয়েছে, তা আপনি বিশ্বাসই করবেন না। আমি বলব, পশ্চিম ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় আরবদের সাথেই আমাদের ঘনিষ্ঠতা বেশি।'
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভারতের ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট এবং পাকিস্তানের বুক কর্নার ও ন্যাশনাল বুক ফাউন্ডেশনের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে হিন্দি ও উর্দু অনুবাদও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গ্রিক প্রকাশক কাক্তোস এবং ভাক্সিকনও এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে।
এছাড়া ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় এএলসি এবং আরব প্রকাশক সমিতির মধ্যেও একটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রসঙ্গত, আরব প্রকাশক সমিতি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে আরব প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন। এই উদ্যোগের ফলে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল থেকে শুরু করে দক্ষিণ ইউরোপের উত্তর মেসিডোনিয়ার পাঠকরা এখন ঘরে বসেই অনুবাদ সাহিত্যের মাধ্যমে আরব সংস্কৃতিকে চেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বইমেলা ও প্রকাশনা শিল্পের মিলনমেলা।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল