বাপের ভিটেয় পা রাখতেই বুকটা কেমন ছ্যাঁৎ করে উঠলো,
মাটির সোঁদা গন্ধে ভেসে এলো শৈশবের চেনা আলপথ।
ধানখেতের বাতাসে এখনো যেন মায়ের হাতের স্পর্শ,
গাছের পাতাগুলো নড়ে উঠে জিজ্ঞেস করে, কেমন আছিস রে?
পুকুরঘাটের শ্যাওলা পড়া পিচ্ছিল সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে
মনে পড়ে গেল কতকাল পর আমি আবার নিশ্বাসে স্বাধীন।
শ্বশুরবাড়ির হাজারটা নিয়মের শিকল ভেঙে
আজ আমি কেবলই এই বাড়ির সেই দুরন্ত ছোট মেয়েটি।
বাঁশঝাড়ের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা পুরানো টিনের ঘরটা
আমাকে দেখে যেন নিঃশব্দে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
কত প্রহর পার হলো পরবাসে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যুদ্ধে,
অথচ কেবল এই ঘরের বারান্দায় এলেই সব ক্লান্তি মুছে যায়।
সন্ধ্যা নামলে মা যখন মেটে প্রদীপের সলতেটা উসকে দেয়,
মনে হয়, এই ঘরটাই তো আমার চিরকালের একমাত্র ঠিকানা।