কী এক বিশৃঙ্খলা
নির্দ্বিধায় কেড়ে নিতে পারে নিরাপত্তা,
মুহূর্তে চলে যেতে পারে জীবন।
না, কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের কথা বলছি না;
এখানে নিজেরাই নিজেদের শত্রুপক্ষ,
একাকারে ধৈর্যহারা পথভ্রষ্ট।
গড্ডালিকা প্রবাহে
গা ভাসাই একস্রোতে।
মতের অমিল হলেই কচুকাটা,
সহ্যশক্তি আজ জলাঞ্জলি!
এমনি এক বিভক্ত জাতি,
কিছুতেই পারি না এক হতে;
সবাই যেন আলাদা আলাদা দল।
বড্ড রাতারাতি ভুলে যেতে পারি সব,
কোথায় যেন আমরা হেরে যাচ্ছি।
কিন্তু এমনটা কি কথা ছিল?
কথা ছিল অনিয়ম বাতিলের,
পুরনো আবর্জনা পরিষ্কারের।
লড়াইটা যাদের বিরুদ্ধে ছিল,
তাদের হাতেই সব তুলে দেয়ার
কথা তো ছিল না।
কোথাও নেই কোনো জবাবদিহিতা,
কেউ তার ধারও ধারে না!
চাহিবামাত্র চুকাতে হবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিল,
হোক না তা যতই অযৌক্তিক!
গুনতে হবে মোটা অঙ্কের মাশুল,
বাজনা বাজিয়ে দিতে হবে খাজনা!
সত্য প্রকাশের অপরাধে
ঠুকে দিতে পারে মামলা,
মুখে এঁটে দেবে তালা।
আফসোস,
কারো ওপর আস্থা রাখা যায় না,
মুহুর্মুহু মুখোশ পাল্টাতে
কারো আর লজ্জা করে না।
হতভাগা দেশটা যার হাতেই যায়,
সেই গোগ্রাসে ছিঁড়েখুঁড়ে খায়,
যুগ যুগ ধরে তাই দেখে আসছি;
আমরাই বারবার ভুলে গিয়ে,
স্বপ্ন দেখার ব্যর্থ চেষ্টা করি।
শহরের দেয়ালের চাওয়া-পাওয়ার ফর্দ, মলিন।
পাওয়ার প্র্যাকটিস ছাড়া কিছু মিলবে না, তা স্পষ্ট।
সবকিছু মুখ বুঁজে চোখ বুঁজে সইতে
আমাদের জুড়ি নেই।
পরাধীনতার শেকল স্বেচ্ছায় বরণ করে নিয়েছি,
স্বাধীনতার যোগ্য হওয়ার ভাগ্য হয়তো আমাদের হয়নি।
যেন প্রাপ্যটুকুই বুঝে পাচ্ছি।
পাথর ছাড়া খালি পাল্লায়
একদিকে কেবল পাপের বোঝা,
আর অন্যদিকে প্রায়শ্চিত্তে দণ্ডিত বাটখাড়া।
সবকিছু কেমন অনড়, চলছে মন্থর গতিতে
কিংবা কিছুই যেন চলছে না।
বুঝে উঠতে পারি না কিছুই,
সব গোলমেলে লাগে।
ফুলগুলো সব না বলা কথা হয়েই ঝরে যায়।
আর আমি আপন দুঃখ ভুলতে লিখে যাই আশার বাণী…