মফস্বলের এই মোড়ের মাথায় যখন হঠাৎ কড়া বৃষ্টি নামে,
আমার মনে পড়ে শৈশবের সেই পুরোনো সাইকেলের কথা,
যেটা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ তুলে থেমে যেত তোমার আধভাঙা কাঠের গেটের সামনে।
তখনও মেঘের মধ্যে কোনো রাজনীতি ছিল না, ছিল শুধু দুটো উসকোখুসকো মন।
জল জমে যাওয়া গলিটার দিকে তাকিয়ে আজকাল আমার খুব একা লাগে,
তোমার সেই ছাতাটা কি আজও জমা আছে কোনো স্টোররুমে?
নাকি অন্য কারো ভেজা কাঁধ ঢেকে দিতে দিতে সেও ভুলে গেছে এই শহরের নাম?
বৃষ্টির ছাঁটে ভিজতে ভিজতে আমি একটা চায়ের দোকান পার হয়ে যাই,
যেখানে বেঞ্চিতে বসে আমরা একদিন চায়ের কাপে পুরো জীবনটাকে মেপে ফেলেছিলাম।
তুমি তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, কোনো ট্রেনেই আর নামবে না এই প্ল্যাটফর্মে,
তবুও এই বৃষ্টিটা এলে স্টেশন রোডটা কেন যেন ঠিক আগের মতোই চেনা হয়ে ওঠে।
ছোট শহরের এই এক বিষাদ, কোথাও পালানোর কোনো পথ থাকে না,
যেদিকেই তাকাই, সব দোকানের ঝাপ বন্ধ হতে দেখে শুধু তোমার নামটাই মনে পড়ে।
কাঁচের জানলায় হাত রেখে আজ আবার তোমাকে একটা মিথ্যে চিঠি লিখতে ইচ্ছে করছে,
বলব, আমি একদম ভালো আছি, কেবল এই বর্ষায় আমার শহরে ভীষণ অন্ধকার নেমেছে।
আসলে ভালোবাসা তো সেই কবেই মরে গেছে, রয়ে গেছে শুধু এই একটানা বৃষ্টির শব্দ,
আর এক বুক হাহাকার, যা কোনোদিন কোনো বৃষ্টি দিয়েই ধুয়ে দেওয়া যাবে না।