তপ্ত পিচঢালা রাজপথ থেকে
আগুনের বাষ্প উঠছিল অবিরাম।
সেই তীব্র দহনে নিঃসঙ্গ তরুণের
পদচিহ্ন গলে যাচ্ছিল ধোঁয়ায়।
নগরীর ধাতব বিকট গর্জন আর
মানুষের এই যান্ত্রিক ছোটাছুটি;
সবকিছু মিলিয়ে সহসা তার কাছে মনে হলো
এক বিজাতীয় অসংলগ্ন অচেনা রাজ্য।
মাথার ওপর মধ্যাহ্নের এই প্রখর সূর্য
যেন এক নির্দয় তামার পাত্র,
যেখান থেকে অঝোরে ঝরে পড়ছে
অপরিচিত এক রুক্ষ আলো।
অনাবৃত শরীরে স্পর্শ করা হাওয়ায়
কোনো আর্দ্রতার লেশমাত্র নেই,
যেন এই মৃত্তিকা আর নিঃশ্বাসের কার্বন,
কোনোটাই তার চেনা স্বদেশের নয়।
হঠাৎ তার বুকের গহীনে জেগে উঠল
সুদূর নক্ষত্রলোকের হিমশীতল হাহাকার,
এক তীব্র বিচ্ছিন্নতায় সে স্তব্ধ হলো
এই জ্বলন্ত গ্রহের ধূলিকণায়।
সে কি তবে ভুল করে নেমে এসেছে
কোনো অচিন নক্ষত্রের রুক্ষ বুকে?
নাকি মহাজাগতিক এক দুর্ঘটনায় সে
হারিয়ে ফেলেছে তার নীল নীড়?