লোভের তাপে পুড়ো নাকো লাভের আশায় ঘুরে
জীবন থেকে সুখের তরী চলে যাবে যে দূরে।
অতৃপ্তির এই বিষম জ্বালা পোড়ায় দিবারাতি
লোভের আঁধার কেড়ে নেয় যে শান্ত মনের বাতি।
স্বর্ণমৃগের মায়ায় ভুলে হারায় সরল প্রাণ
ঝড়ের মুখে মিলিয়ে যায় মধুর সুখের গান।
অনেক পাওয়ার ব্যাকুলতায় অল্প যা রয় পাশে
চোখের পলকে নিঃস্ব হয়ে হারিয়ে যায় বাতাসে।
নদীর বুকে বাঁধ দিলে কি সাগর মেলে কভু?
অল্পে যে জন তুষ্ট থাকে, সহায় তাহার প্রভু।
রত্নখচিত সিংহাসনেও শান্তি নাহি মেলে
তৃষ্ণা কি আর মেটে কভু বিষের পাত্র ঢেলে?
কাঙাল বেশে ঘুরে মরে অন্ধ লোভী মন
চিনতে পারে না সে কোনটা অমূল্য রতন।
সরল হাসি, আপন মানুষ, এক চিলতে রোদ
লোভের নেশায় হারিয়ে মানুষ পায় না কোনো বোধ।
আকাশ সমান বৈভব চাও, মাটির সাথে আড়ি
খাঁচার পাখি উড়াল দিলে ভাঙবে সোনার বাড়ি।
কাফন তো আর ধনরত্নে সাজানো নাহি যায়
শূন্য হাতেই বিদায় নিতে হয় যে শেষবেলায়।
লোভের অতল সাগরে ডুবলে ওঠে না আর তরী
চোরাবালির মায়ায় পড়ে জীবন যায় যে সরি।
স্বার্থের এই অন্ধ খেলায় হারায় বিবেক-হৃদয়
লোভের টানে বাড়লে পা নেমে আসে সংশয়।
ভোরের শিশির ঘাসের ডগায় মুক্তো সম হাসে
সেই মাধুর্য পায় না লোভী মোহের সর্বনাশে।
মোহকে বিদায় জানাও ভাসাও ন্যায়ের নাও
শুদ্ধ চিত্তে শান্তি নিয়ে আপন পথে যাও।
দিন ফুরালে হিসেব হবে কেমন ছিল মন
সাথে রবে পুণ্য শুধু, রবে না কোনো ধন।