"কথামালা -২"

October 19, 2026

20 views

কথামালা-২

মো: ফরহাদ

খা খা রোদে চারপাশ যখন চকচক করছে

তখনও আমার অপেক্ষার বীণা

বাজানো শেষ হচ্ছে না।

হাপিত্যেশ চারপাশ দেখে

হঠাৎ বীণা থামিয়ে

সবার মতো আমিও

মেঘ বৃষ্টির প্রতিক্ষায়রত।

ঠিক তখনি বৃষ্টির সজীবতা নিয়ে

তুমি এলে।

সদ্য গোসল করা মুখ থেকে

ঠিকরে বেরুচ্ছে

বৃষ্টি স্নাত ফুলের মতো লাবণ্যতা।

শ্যাম্পু দেয়া চুলের ঘ্রাণের সাথে

প্রাণপণ লড়াই করেও হেরে যাচ্ছে

অলিগলির দুর্গন্ধতা।

ভেজা চুলের পানির ফোঁটায়

প্রাণ পাচ্ছে তৃষ্ণাত্ব বালি কণা।

----------

আপন করতে গিয়ে

কখনো কখনো পর করতে হয়।

কি রকম?

কারো জন্য অপেক্ষা করা মানে তো পর করা।

ওওও(হাস্যভাবে)তাহলে পর না করে আপন থাকার উপায়?

রবীন্দ্রনাথ কিংবানজীবনানন্দে ডুবে যাওয়া।

সেটা আবার কেমন...

কল্পনার হারিয়ে আপন মনে বলে যেতে হবে:

"সমাজ সংসার মিছে সব

মিছে এ জীবনের কলরব।

কোমল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে

হৃদয় দিয়ে হৃদয়ে অনুভব।"

কিংবা:

"হায় চিল

সোনালি ডানার...।"

এতোগুলা গাছ!

প্রেমের পরিধি যেখানে শূন্য

প্রকৃতি সেখানেও পরিপূর্ণ।

আমার জায়গা তো সামান্য!

সরি,বিরক্ত হোও না।

থাকি মেসে,এতো জায়গা পাবো কোথায়?

খুব বেশি হলে

গোলাপের চারাটা রেখে বাকিগুলো

বান্ধবীদের দিয়ে দিও।

কই,একবারও তো বললেন না

আমার বান্ধবীদের জন্য এনেছেন।

তা ঠিক।তারপরও...

---------------------

আচ্ছা,কাঁটা মুকুটের গাছটা কেন দিয়েছেন?আমি তো কাঁটা ভয় পাই,যদি বিঁধে যায়!

দিয়েছি এজন্য,সুযোগ আছে মানুষকে আঘাতে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে দিতে তবুও না দিয়ে;

মানুষের হাজারো আঘাত বুকে নিয়েও নিঃসঙ্গ একাকী কিভাবে বাঁচতে হয় তা শেখাবে।

আর রক্তাক্ত লাল পাতাবাহারেরটা?

জানেন,রক্তেও আমার ভিশন এলার্জি;রক্ত দেখলেই মূর্ছা যাই!

ওটা দিয়েছি এই ভেবে-উপর্যুপরি আঘাত করে কেউ রক্তাক্ত করে দিলেও;শত আঘাত ও রক্তের চিহ্ন নিয়েও বাঁচতে হবে।

ক্যাকটাস টা তাহলে দিয়েছেন;

কীভাবে নানা প্রতিকূল পরিবেশ ও ঘটনার মাঝে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে বাঁচতে হয়!

ঠিক তাই।

কয়েকটা সবুজ গাছ।নাম অবশ্য বলতে পারবো না,এগুলো দিয়েছেন কেনো?

ওগুলো দিয়েছি-ইট পাথরের এই শহরে

যখন নিজেকে বন্দী মনে হবে;

তখন যেনো সবুজের মাঝে হারিয়ে যেতে পারো।

মা-বাবা,বোনের আদর দিয়ে

ঐ সবুজ গাছগুলো:

তোমাকে যেনো জরিয়ে রাখতে পারে।

বুঝলাম!গোলাপের কুঁড়িসহ গাছটা?ক্রিম কালার আমার পছন্দের।নিজের পছন্দ থেকেই দিয়েছি।সামান্য দুর্লভ।

ভালোবাসায় বাঁচে।

ভয় হচ্ছে!কুঁড়িগুলো যদি না ফোঁটাতে পারি।

পাগলী মেয়ে...

পৃথিবীর কোনোকিছুই তো চিরস্থায়ী নয়।

তুমি -আমি,সবাই তো ঝরে যাবো।

আর এটা তো গোলাপ!

আপনি না সত্যিই একটা পাগল!

সবাই বলে।আর কিছু...

অনেক রাগও হচ্ছে!

সেটাও জানি,এমন পাগলামি কে ই বা মানে।

একটা কথা তো ভুলেই গেছিলাম।

কোন কথা...

এতোগুলা গোলাপ দিয়েছেন কেনো?

গুনে দেখেছো...

হ্যা...

কয়টা...

৭টা...

৭-হচ্ছে লাকি নম্বর।

সেটা না হয় বুঝলাম কিন্তু

কেনো দিয়েছেন সেটা বলেন?

যদি বলি ভালো লাগা থেকে...

ভালো লাগাটা একটু সুনির্দিষ্ট করে

বললে ভালো হয় না!

সেটা না হয় ছোটগল্পের মতো অসমাপ্ত থাক।

নিজের মতো করেই সমাপ্ত করে নিও।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+35 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login