খোকা চুরি করতে ঢুকেছে রাজের ঘরে। রাজ তখন লুঙ্গি পড়ে বিছানায় শুয়ে ছিল। খোকা দেখলো বাড়ির দরজা খোলা। সেখান দিয়ে ঘরে ঢুকে আস্তে আস্তে আলমারীর কাছে গেল৷ ঘর অন্ধকার তাই ঘরে কাউকে দেখতে পেল না।
খোকা আলমারী খুলতে চেষ্টা করে দেখলো আলমারী লক করা। খোকা ভাবলো চাবী কই? চাবী সবসময় বাঙালিরা বালিশের নিচে রাখে।
খোকা বাটনফোনের লাইট জালিয়ে রাজের খাটের সামনে আসলো। রাজের মুখে লাইট পড়তেই রাজ চোখ না খুলে বলল, কি রে চোর। এতোরাতে কি করে আমার স্বপ্ন চুরি করলে।
খোকা এক সেকেন্ড এর জন্য ভয় পেয়ে গেছিল। কারন সে ভাবছিল রাজ বুঝে গেছে যে ঘরে চোর আসছে। কিন্তু আসলে রাজ কিছুই বুঝেনি ঘোরে কথা বলছে।
খোকা যখন বালিশের নিচে আসতে আসতে হাত ঢুকালো। তখনই রাজ শরীর মোচড় ঘুমের ভেতর বলে উঠলো, কেউ এক গ্লাস পানি দে আমাকে।
ভয় পেয়ে খোকা ৩বার নিজের বুকে থুথু দিল। তারপর দৌড়ে গিয়ে পানি এনে পানির গ্লাস ধরলো রাজের সামনে। রাজ ঘুমের ঘোরেই গ্লাস নিয়ে শুয়ে শুয়ে পানি খেল।
তারপর রাজ বলল, তুই চুরি করতে আইসোস। চাবি তো বালিশের নিচে নাই। চাবি আমার পকেটে।
এবার খোকা সাহস করে রাজের পকেট এর দিকে হাত বাড়ালো। পুরো হাত পকেটে ঢোকানোর পরই খোকার হাত চেপে ধরলো রাজ। আর তখন পুরো ঘরে কারেন্ট চলে গেল। পুরো ঘর অন্ধকার।
খোকা তাড়াহুড়ো করে বাটনফোন বের করে টর্চ জালায়। খোকা দেখে আশেপাশে কেউ নাই। এটা দেখে খোকা প্রচন্ড ভয় পায়। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে খোকা দেখে সেখানে একটা লাল ছাপ পড়ে গেছে অন্যকারো হাতের।
খোকা এক সেকেন্ডে বুঝে যায় এটা কোন সাধারন বাড়ি লয় লা এ হচ্ছে ভুতের বাড়ি।
তখনই খোকা ভালো করে বাড়িটা লক্ষ্য করে। দেখে এটা ২০০ বছর আগের বাড়ি। ঘরের দেয়ালগুলো পোড়া। তার মানে এই বাড়িতে ২০০ বছর আগে আগুন লেগেছিল। তাই কেউ আর থাকে না। আলমারীটাও পুড়ে কালো হয়ে গেছে।
খোকা ভয়ে ভয়ে আলমারী খুলে ভেতরে টর্চ লাইট মারতেই খোকা দেখে একটা মানুষের মাথা (নিচের বডি নাই, শুধু মাথা।) মাথার চুল বেয়ে রক্ত পড়ছে। ভয়ে খোকার গলা শুকিয়ে যায়।
' ইন্না-লিল্লাহ ' বলে খোকা দৌড় দিতে ধরে।তখনই কে যেন পেছন থেকে খোকার ঘাড় মটকে দেয়।
#প্রমত্তময়_প্রণয় (ছোটগল্প)
#রুদ্র_সিয়াম