খলিল তখন একটা কুকুরের পেট ছিড়ে মাংস বের করে খাচ্ছিল। তার পেছনে টর্চলাইট হাতে দাড়ালো গফুর।
গফুর বললেন, এই খলিল, খলিল। কি করিস?
রাত সবে মাত্র ১২ টা। তবে গ্রাম বলে এখন সবাই ঘুমিয়ে গেছে৷ আকাশে আজ জোসনা পড়েছে।
গফুর মিয়া অন্ধকারে চটলাইট মেরে দেখলেন৷ পুরো গ্রাম অন্ধকার। এখন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বাসায় যেতে হবে।
গফুর মিয়া ভুত প্রেত এসব বিশ্বাস করেন নাৃ তবে জ্বীনে বিশ্বাস করেন উনি। একবার উনাদের পুকুর পাড়ে রাত ২টা বাজে উনি নিজের চোখে দেখেছেন একটা সাদা কাপড় পড়া মহিলা ওই ঠান্ডার শীতে পুকুরে লাফ মারে। আর কখনও উঠেনি পুকুর থেকে। লোক মুখে শোনা যায় মহিলাটাকে নাকি অনেকে দেখছে। তবে সকালবেলা গোসলের সময় কেন তাকে দেখা যায় না।
কিছুদূর জঙ্গলের ভেতর এগিয়ে যাওয়ার পর গফুর দেখলেন কিসের যেন শব্দ হচ্ছে। কে যেন মাংসের হাড় চিবিয়ে খেলে যে শব্দ সেরকম শব্দ। শব্দ অনুসর করে গফুর সামনে এগোয়। তখনই দেখে খলিল একটা মৃত কুকুর এর পেট ছিড়ে মাংস খাচ্ছে।
গফুর বললেন, এই খলিল, খলিল। কি করিস?
খলিল পেছন ফিরে তাকালো। তার মুখে রক্ত লেগে আছে। তার চোখগুলো কেমন লাল হয়ে আছে।
তারপরই খলিল চর্টের আলোয় ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলো জঙ্গলের শ্মশান খাটের দিকে। তার পেছনে টর্চ হাতে ধাওয়া করতে লাগলেন গফুর।
গফুর চেচাচ্ছেন, এই খলিল। থাম, দৌড়াচ্ছিস কেন?
খলিল এক মূহুর্তেও পেছন ফিরে চাইলো না। দৌড়াতে দৌড়াতে তারা দুজন শ্মশান খাটে এসে পৌছায়। তখনই খলিল একবার পেছনে তাকায় তারপর শ্মশান পুকুরে লাফ মেরে পড়ে।
তারপর আর সেই গ্রামে খলিলকে দেখা যায়নি। সেই শ্মশান পুকুরে হাটু পানি ছিল। সেখানে গফুর লাইট মেরেও দেখেছে। না পানিতে দম বন্ধ করে এতোক্ষন কোন মানুষের পক্ষে থাকা সম্ভব না।
ভোর হওয়া অব্দি গফুর সেখানেই অপেক্ষা করেন খলিল ফিরে আসবে। তবে খলিল কখনও ফিরে আসেনি।
#কুকুর_খেকো
#লেখক_রুদ্র_সিয়াম