Fiction

ট্রাজেডি

October 20, 2026

17 views

এলাকার রাসেল ভাই বললেন, তোমার বড়বোনকে যখন রাস্তায় হেটে যেতে দেখি তখনই তাকে পছন্দ হয়। এখন তুমি তাকে এটা বলো।

আমার তখন কম বয়স মাত্র ১০ বছর। ক্লাস ৫ এ আছি। আমি বাসায় এসে তিশা আপুকে ঘটনাটা বলি। তিশা আপু শুনে হাসে৷ আমরা ভাইবোন ফন্দি করি কিভাবে এলাকার ভাইয়ের থেকে টাকা খাওয়া যায়।

তারপর থেকেই শুরু রাসেল ভাই দেখি রাস্তায় ক্রিকেট খেলছে। রাসেল ভাইকে বললাম, তিশা আপু আইস্ক্রিম খেতে চায়।

ওমনি রাসেল ভাই খেলা বাদ দিয়ে বাসায় গেলেন। ঘরের থেকে টাকা নিয়ে আইসক্রিম কিনে দিলেন। আমি দেখতে চাই তিশা আপুর জন্য উনি কতদূর যায়।

তার ২দিনপর বললেন, তোমাকে একটা ফোন দেই। এটা নিয়ে যাও বাসায়। তিশা আপুর সাথে কথা বলায় দাও।

তিশা আপু আর আমি সাদে আসি। মাস্টারমাইন্ড আমি। আপুকে বললাম ফোনটা দিয়ে কথা বলতে। আপু বললো কি করবো?

আমি বললাম আরে কানে ধরো ফোন। কিশোরী মেয়েরা যেমন হাসে। তেমনি হাসতে লাগলেন।

তিশা আপু বললেন, হ্যালো।

ওপাশ থেকে রাসেল ভাই বললেন, আপনাকে অনেক ভালোলাগে বুঝলেন।

তিশা আপু বললেন, হুম জানি।

এমন ভাব করলেন যেন উনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক। এর মাঝে দেখলাম উনাদের প্রেম হয়ে গেল। আর এখন আর আমাকে এটা সেটা কিনে দেয় না রাসেল ভাই।

এজন্য তিশা আপু যে লুকিয়ে ফোনে কথা বলে। সেটা আম্মুকে বলে দিলাম। তাদের ব্রেকআপ করিয়ে দিলাম। রাসেল ভাইয়ের বাটন ফোন তাকে ফেরত দেওয়া হলো। তিশা আপু নরমাল।

তবে একদিন রাস্তায় দেখলাম রাসেল ভাই সিগারেট খাচ্ছেন। আমার খারাপ লাগল। রাসেল ভাই বললেন, তোমার  আপুর সাথে সম্পর্ক থাকলে আমি নেশা করা, গুন্ডামি করা ছেড়ে দিব।

তারপর আবার উনাদের কানেকসন করিয়ে দিলাম। আপুর সাথে শুয়ে থাকতাম। আর রাত জেগে আপু প্রেম করতো। আমি তিশা আপুকে জড়িয়ে ধরলে এখন কেমন যেন রিয়েক্ট করে। সকালে তিশা আপু বলল, তুই রাতে ঘুমের ঘোরে আমার বুকে হাত দিয়ে শুয়ে ছিলি।

আমি বুঝলাম না। বড়বোনরা মায়ের মতো হয়। তিশা আপু কি প্রেমে পড়ে চেন্জ হয়ে যাচ্ছে। ভাইবোনের ভালোবাসাকে অন্যরকম নেগেটিভ লাগতে শুরু করেছে উনার? সেই ছোট মনে এসবের উত্তর পাইনি আমি।

এদিকে উনাদের প্রেমের ৩মাস হয়ে গেছে। তবে ঘুরতে যায়নি কেউই। একদিন তিশা আপুকে বললেন রাসেল ভাই, ঘুরতে যাওয়ার জন্য।

আমাকে না জানিয়ে আপু কলেজ শেষে ঘুরতে চলে গেল। আমি স্কুল থেকে ফিরে এসেও তিশা আপুকে দেখলাম না। বিকেল হয়ে সন্ধা গড়িয়ে এলো। তবুও তিশা আপু এলো না।

রাত ৮টা বাজে একটা রিকশায় তিশা আপু, রাসেল ভাই ও উনার মা আসলেন। আমি তো অবাক এতোক্ষণ লাগলো কেন? তিশা আপু দেখলাম চুপচাপ হয়ে গেল।

তখনও ব্যপারটা আমি ধরতে পারিনি। শুধু রাসেল ভাইয়ের মা বললেন, ওরা ভুল করেছে আপনার মেয়েকে মাইরেন না।

আমি বুঝলাম না কিছু করেছে উনারা। রাতে তিশা আপু বললেন, রাসেল আমার হোস্টেলে নিয়ে খারাপ কাজ করেছে।

শুনে আমার মেজাজ গরম হয়ে গেল। মন চাইলো রাসেল ভাইকে খুন করে ফেলি। আমার মনে হতে লাগলো আমার ই সব দোষ। আমি যদি সেদিন তাদের প্রেম করিয়ে না দিতাম।

এদিকে দেখলাম পরেরদিন রাসেল ভাই ও তার পুরো পরিবার নিয়ে আসলো হাতে মিষ্টি নিয়ে। বিয়ের জন্য। তবে আপু কেন জানি পরিবর্তন হয়ে গেল। আপু বলে দিল সে এই বিয়ে করবে না।

রাসেল ভাই বিয়ের জন্য কেমন পাগলের মতো হয়ে গেলেন। আমার স্কুল ছুটির পর দেখতাম দাড়িয়ে থাকতো। আমাকে দিয়ে খোজ খবর নিতো তিশা আপুর। তবে তিশা আপু এখন আর রাসেল ভাইয়ের সাথে কথা বলে না। এমনকি এই ঘটনার পর আমাদের বাসাও চেন্জ করে অন্যস্থানে চলে আসলাম।

সেখানে ওমর এক ছেলের সাথে পরিচয় হলো তিশা আপুর। এক আত্মীয়ের বিয়েটে তাদের পরিচয়। এদিকে রাসেল ভাই একসময় তিশা আপুর আশা ছেড়ে বিয়ে করে ফেললেন।

তিশা আপু অবশ্য বিয়ে করলেন না। প্রায় ১০বছর পর তিশা আপু ও ওমর ভাইয়া পারিবারিক ভাবে বিয়ে করলেন। দুজনেই দুজনের অতীত জানে এবং মেনেও নিয়েছেন। এখন তাদের একটা বেবী হয়েছে। সেই বেবীর নাম রাখা হলো এরিন। কি মিষ্টি চেহারা। কোলে নিলাম বাবুটাকে। আর আমার আঙুল চেপে ধরলো।

(সমাপ্ত)

#ট্রাজেডি

#রুদ্র_সিয়াম

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login