খালা ফোনে বললেন, তুই নাকি তোর বউয়ের নালিশ শুনে তোর মায়ের সাথে ঝগড়া করেছিস। যেই মা তোকে জন্ম দিল তার মনে কষ্ট দেস কেন?
রকি বলল, প্রথমত ঝগড়া করিনি। আমি অফিস থেকে বাসায় আসার পর নিতু বলল আম্মু নাকি ওর খাবার বেশি খায়। এটা নিয়ে কথা শুনেয়েছিল। এখন তার ক্ষুদা লাগলে বেশি খাবে কম খাবে এটাই তো নরমাল। সামান্য ভাত নিয়ে তাকে কেন শোনানো হলো?
খালা বললেন, এই জন্য তুই তোর মা কে কথা শুনাবি।
রকি বলল, আগে কি হইসে শোনেন। আমি আম্মুকে বললাম, যে উনি এটা কেন বলল। আম্মু বললেন, যে বেশি খাওয়া উনার পছন্দ না। তখন আমি মনে করায় দিলাম যে তুমিও তো বলতা তোমার শাশুড়ি বেশি খাওয়া পছন্দ করে না এখন তুমি নিজেই এরকম করছো? আর তখন আম্মু কান্নাকাটি শুরু করলো। এই হলো ব্যপার। আম্মু কোন লজিক বুঝে না। অল্পতেই ইমোশনাল হয়ে যায় বলে, তোর দাদী তো ভালো। আমাকে কত কষ্ট দিসে।
খালা বললেন, শোন। তুই বিয়ের পর চেন্জ হয়ে গেসোস। সবসময় বউয়ের কথা শোনোস।
রকি হতাশ হয়ে বললাম, আমি বুঝলাম না মেয়েদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা হলেও ছেলেদের স্বাধীনতা নিয়ে কখনও কথা বলা হয় না। ছোটবেলায় মা- বাবা কন্ট্রোল করতে চায়। বিয়ের পর বউ কন্ট্রোল করতে চায়। কেন? আমি কি কোন খেলনা পুতুল?
খালা বললেন, ওইটা কন্ট্রোল না। তোর ভালোর জন্যই বলে।
রকি হতাশ হয়ে বলে, দেখেন খালা আমি আপনাকে সম্মান করি। তবে মেয়েদের সাইকলোজি ই এমন। আর শাশুড়ি ই এমন বাংলাদেশে বউয়ের সাথে মিলে না। ঝগড়া হবেই। আমি এটা মেনে নিসি। এই নিয়ম চেন্জ করা আমি পারব না। আরেকটা কথা। আপনি আর আমাদের পারিবারিক ব্যপারে নাক গলাবেন না। আচ্ছা। রাখি। বায়।
তারপর রাজ ফোন কেটে দিল। জোরে একটা নিঃস্বাস নিল ভেতরে।
#সংসার
#রুদ্র_সিয়াম