Story

পাপী ছেলে

October 20, 2026

16 views

বাবার জন্য নতুন সাদা পান্জাবি ও ২টা চেক শার্ট কিনে বাসায় ফিরলাম ১ মাস পর। ঘরে ঢুকে দেখি বাবা খাটের ওপর বসে কোরআন শরীফ পড়ছেন। আমাকে দেখে পড়া থামালেন।

আমি খাটের ওপর বসলাম। হাতে থাকা কাপড়ের ব্যাগ খুলে জামা ও পান্জাবি বের করলাম।

আব্বুকে বললাম, তোমার জন্য আমি এগুলো কিনেছি। আজীবন তো তুমি আমাকে কিনে দিয়েছো। আজ আমি কিনে দিলাম। দেখো পছন্দ হয় কি না।

আব্বু জামাগুলো ছুয়েও দেখলেন না। প্রথমবার বুকের ভেতর একটা ধাক্কা খেলাম।

আব্বু গম্ভীর হয়ে বললেন, নিয়ে যা তোর জামা কাপড়। আমার জামা আছে লাগবে না।

আমি বললাম, তুমি সবসময় মামার জামা কাপড় পড়ো। এজন্য মামা রাগারাগি করেন। তাই আমি তোমার জন্য উপহার আনলাম।

আব্বু বললেন, তোর মামার জামাগুলো হালাল টাকায় কেনা। তোর জামাগুলোয় রক্তের দাগ লেগে আছে। খুনের টাকা দিয়ে জামা কিনেসিস। এগুলো পড়লে আমার গায়েও দাগ লাগবে।

এটা সত্য যে আমি গ্যাংস্টারে জড়িয়ে পড়েছি। মানুষ খুন করা আমার পেশা। তবে এসব তো ফ্যমিলির জন্য করেছি। এখন ফ্যমিলি ই আমাকে চিনছে না।

হঠাৎ পকেট থেকে ফোন বের করতে গিয়ে কোমড় থেকে পিস্তলটা ফ্লোরে পড়ে গেল। আব্বু একনজর তাকালেন পিস্তলের দিকে। আমি ভয় পেয়ে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি পিস্তল তুলে কোমড়ে গুজে নিলাম।

আমি বললাম, আচ্ছা।।আমি চলে যাচ্ছি।

বাবা বললেন, জামাগুলো নিয়ে যা।

আমি বললাম, আমি জামা গুলো নিবো না। তুমি না পড়লে ডাস্বিনে ফেলে দিও।

তারপর সেখান থেকে চলে আসলাম। হঠাৎ ফোনে বসের কল আসলো। আমাকে ছবি ও লোকেশন পাঠিয়ে দিল। ব্যাংকের এক ম্যনেজারকে গুলি করতে হবে। একটা রিকশা নিয়ে লোকেশনে চলে গেলাম।

২য় তলায় ব্যাংক। সিড়ি দিয়ে উপড়ে উঠছি তখন গার্ড আমাকে থামিয়ে বলল, কোথায় যাবেন?

আমি কোমড় থেকে পিস্তল বের করতে যাবো। তখনই গার্ড নিজের রাইফেল দিয়ে গুলি করে দিলেন। জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি। কারন দম বন্ধ হয়ে আসছে। চারিদিক কেমন ঝাপছা হয়ে আসছে।

জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে আমার পেটে বেন্ডেজ করা। সামনে ৪জন পুলিশ। হাত হ্যন্ডকাপ লাগালো বেডের সাথে।

পুলিশ বললেন, তুই তো এখন শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্যাংকে ডাকাতি করতে গিয়েছিলি। তাই না?

টিভিতে তাকিয়ে দেখলাম আমার ব্যপারে নিউজ হচ্ছে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বুলবুলকে ধরে ফেলেছে পুলিশ। এখন তাকে আদালতে নেওয়া হবে। সেখানে বিচার হবে।

আমাকে হাসপাতালের নিচে পুলিশের গাড়িতে তোলা হলো। চারিদিকে অন্ধকার রাত হয়ে গেছে। আমি পুলিশকে বললাম, কয়টা বাজে?

ঘড়ি দেখে পুলিশ বলল, এখন রাত ৮টা।

গাড়ি চলছে। হঠাৎ থানায় না গিয়ে গাড়ি জঙ্গলের খোলা রাস্তায় ঢুকতেই আমার বুকের ভেতর একটা চাপ আসলো। কোন খারাপ কিছু হওয়ার পূর্বাভাস।

আমি বললাম, গাড়ি থানার দিকে যাচ্ছে না কেন?

পুলিশ বলল, জঙ্গলে নিয়ে তোকে ছেড়ে দিব।

আমি বুঝলাম এরা আমাকে আইনের হাতে তুলে দিবে না বরং আইন নিজের হাতে তুলে নিবে।

পিস্তল পরিষ্কার করে পুলিশ বলল, এর আগে কয়টা মার্ডার করেছিস?

আমি হিসাব করে বললাম, ১০-১২ টা হবে।

পুলিশ বলল, ভেরী গুড।

হঠাৎ গাড়ি থেমে গেল। পুলিশ বলল গাড়ি থেকে বের হতে। আমি বের হলাম। পেছনে পুলিশ।

পুলিশ বলল, এবার দৌড় দে।

আমি চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম।

আমি দৌড় দিলাম আর পুলিশ গুলি করলো। প্রথম গুলিটা একদম কানের পাশ দিয়ে সোজা দিয়ে গাছে লাগলো। তারপর আরেকটা গুলি, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা৷....

অবশেষে বাবা সেই জামাগুলো পড়লেন। আয়নায় নিজেকে দেখে চা খেতে ঘরের বাইরে দোকানে গেলেন।

(সমাপ্ত)

#Sinner

#রুদ্র_সিয়াম

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login