আজ রাজের রুমডেট এর দিন। বাসে করে ঢাকা থেকে একটি দূরে প্রথমবার ৩মাস পর দেখা করছে সারা'র (গার্লফ্রেন্ড) সাথে।
রাজ ফেবুকে মেসেজ দিল, 'এই তো এসে পড়েছি আর মাত্র ৩মিনিট'।
সারা'র রিপ্লাই, বাস স্টানে দাড়াও আমি আসছি।
রাজ বাসস্থানে দাড়িয়ে আছে ১৫মিনিট ধরে। রাজের হাতে একটা কাপড়ের ব্যাগ। আশেপাশে মানুষজন তাদের মাঝে সারা'র চেহারা খুজছে রাজ। তবে ৫মিনিট পর হিজাব পড়া সারা' কে দেখা গেল। চোখাচোখি হতেই মুচকি হাসি আদান প্রদান হলো।
দুজনে হাত ধরে একটা খালি হোস্টেল ফ্লাটে আসলো। সারা বসে আছে খাটে। রাজ দরজা লাগিয়ে ব্যাগের ভেতর থেকে একটা চোখ বাধার কাপড় বের করলো।
সারা বলল, আমার আসলে ভয় করছে। প্রথমবার তো তাই।
সরু চোখে তাকিয়ে রাজ বলল, ভয় করছে। আমি কমফোর্টেবল করতে পারি আমার অভিজ্ঞতা আছে।
তারপর রাজ সারা চোখে লাল কাপড় পড়িয়ে দিল। সারা কিছু দেখতে পারছে না৷ সারা'র মনে পড়লো তার এক্স জহিরের কথা। জহির অন্যমেয়ের সাথে বিয়ে করে তাকে ধোকা দেয়। সেখান থেকে ট্রমায় চলে যায় সারা। তখন তার জীবনে রাজ আসে। তাকে সেখান থেকে তুলে। তবে রাজ তাকে রুমডেট এর কথা বলায় সারা প্রথমে ভয় পায়। যে এই রাজ কি তাকে ধোঁকা দিবে। শরীর পাওয়ার পর কি তাকে ছেড়ে দিবে?
অতীতে অনেক বার ঝগড়া হয়েছে তাদের তবুও রাজ এখনও আছে। রাজ চাইতো সারা তাকে অন্ধবিশ্বাস করুক।।এজন্য রাজ সবসময় বলতো, আমাকে অবিশ্বাস করলে বিপদ। কারন আমি অবিশ্বাস পছন্দ করি না।
সারা বলেছিল, সন্দেহ করি। ভালোবাসি তো তাই।
রাজ বলেছিল, সন্দেহ একটা পোকার মতো। এটা তোমার মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করবে। তুমি ধ্বংসের পথে চলে যাবে।
২মাস আগে রাজ বলেছিল, সে অন্যমেয়েদের সাথে কথা বলে না। তবে সারা জানতো রাজ মিথ্যা বলে। তবুও রাজ বলেছিল তাকে বিশ্বাস করতে। একদিন রাজের পাসওয়ার্ড নিয়ে সারা তার আইডিতে ধোঁকে। সেখানে দেখে যে অনেক মেয়ের ফ্লাটিং কথাবার্তা। পরে অবশ্য রাজ মাফ চেয়েছিল। তাই সারা ও তাকে ক্ষমতা করে দিসে।
তারপর ১মাসে আগে সারা বলেছিল, জহির এখন তাকে কলেজ যাওয়ার পথে ডিস্টার্ব করে।
রাজ বলেছিল, জহির কে খুন করে ফেলবো।
ভয় পেয়ে সারা বলল, না। তুমি এমনটা করবা না।
রাজ হঠাৎ ঠান্ডা গলায় বলল, আচ্ছা।
পরেরদিন ই সারা কলেজের বাইরে দেখলো জহির দাড়িয়ে আছে কানে হাত ধরে তার মাথা ফাটা। জহিরের শার্ট ধরে হাসিমুখে তাকিয়ে আছে রাজ। যেন জহিরকে মেরে সে নিজেকে প্রমান করলো। জহির দূর থেকে কানে ধরে মাফ চাইলো সারার কাছে। সারা ভয় পেয়ে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যায়।
এখন বর্তমানে এসব ই ভাবছিল লাল কাপড়ে চোখ বাধা অবস্থায় সারা। তার চোখ বাধা থাকলেও আশেপাশের শব্দ শুনতে পারছে। এই যে মাথার ওপর ফ্যন ঘুরছে। কিসের যেন লোহার শব্দ হচ্ছে। একটা চাকু ঘষারও শব্দ পেল সে। যেন কেউ চাকু ধার দিচ্ছে। ভয় পেল সারা তবুও চোখ খুললো না।
হঠাৎ সারা রাজের শরীরের সেন্টের গন্ধ পেল মিষ্টি সুভাষ। গন্ধ শুনেই সারা বুঝলো রাজ তার একদম কাছাকাছি দাড়িয়ে।
রাজ ডান হাত বাড়িয়ে সারা কে খাটের বসা থেকে দাড়া করালো। ভয় ও উত্তেজনায় হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে সারার। হঠাৎ সারা কপালে একটা ঠোঁটের স্পর্শ অনুভব করলো। লজ্জায় লাল হয়ে গেল সারা। তারপর গালে, নাকে, ঠোঁটে।
রাজ তাকে ঘুরিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। এইতো রাজের নিঃশ্বাস পড়ছে সারার ঘাড়ে। অনুভব করলো সারা। রাজের ডানহাত তার পেট হাতিয়ে দিচ্ছে।
হঠাৎ রাজ ডান হাত দিয়ে চাকু ধরলো সারা'র গলায়। চাকু অনুভব করেই বুঝলো সারা। ভয়ে ঢেউক গিলল সে।
রাজ গম্ভীর গলায় কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, এখন বলো তুমি কি বিশ্বাস করো যে আমি চাকুটা তোমার গলায় চালাবো কি না? তুমি যদি বিশ্বাস করো। তাহলে আমি চালাবো না। আবার যদি অবিশ্বাস করো তাহলে চাকুটা দিয়ে তোমার গলায় আঘাত হানবো।
সারা কোন কথা বলতে পারলো ভয়ে তার গলায় ঘাম জমা হয়েছে। সে ঘামতে লাগলো। রাজের মনের কথা বলতে না পারলে এখন তার জীবন দিতে হবে। তো এখন রাজ কি করবে?কেন করছে? রাজ কি সাধারন ছেলে নাকি মনস্টার? এটাও কি তার কোন পরীক্ষা?
#সাইকোপ্যাথ
#রুদ্র_সিয়াম