" আপনার জব টা আর হলো না। "
আমি সার্টিফিকেট গুলো নিয়ে উঠে পড়লাম। ৫ লাখ টাকা ঘুষ লাগবে চাকরীর জন্য। দুপুরবেলা খুব ক্ষুদার্ত, দোকান থেকে ১টা সিঙারা খাচ্ছি। এমন সময় অবনী কল করলো।
অবনী বলল, অভি, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তুমি তো এখনও বেকার। তাই আমার বাবা মায়ের সামনে তোমাকে নিতে পারছি না। আমরা আর যোগাযোগ করব না। বায়।
কথাগুলো শুনে খাবার যেন আর ভেতরে যাচ্ছে না। চোখ দিয়ে জল পড়ছে। লোকজন দেখার আগে শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছলাম। ছেলেদের কাঁদতে নেই।
ইন্টারভিউ শেষে বাসায় ফিরলাম। সেখানে আপু বলল, অভি। তোর দুলাভাই আর তোকে রাখতে চাইছে না। প্রতিদিন ঝগড়া হয় আমাদের। তোর কি জব টা হলো?
আমি বুঝতে পারলাম আপু ইন্ডাইরেক্টলি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলছেন।
মানুষের খারাপ সময় যখন শুরু হয়, তখন চলতেই থাকে। বুঝলাম আমার খারাপ সময় শুরু হয়ে গেছে।
রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম নিজের ঘরে এমন সময় আপু আর দুলাভাইয়ের কথা কাটাকাটি শুনতে পারছিলাম।
দুলাভাই বলছেন, বাংলাদেশের পড়াশোনা শেষ করেছে তো কি হয়েছে। কত শিক্ষিত বেকার ছেলে রিকশা চালায় সে কি রিকশা ও চালাতে পারে না। নালায়েক কোথাকার।
নিজের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে উঠলো। আমি আর নিতে পারলাম না। শেষচিঠি লেখার আগেই দড়িটা ফ্যনের ওপর ঝুলিয়ে দিলাম। ভালো থেকো তোমরা।
আমি একজন ব্যর্থ মানুষ ছিলাম নাকি সমাজ আমায় ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ছোটগল্প: বেকার
লেখক: রুদ্র সিয়াম