অরুনী তার ফোন চেক করলো এটা দেখতে আবির তাকে মেসেজ করেছে কি না। আজ ২ মাস হয়ে গেল আবির তাকে ব্লক করে রেখেছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে
অরুনীর সাথে আবিরের পরিচয় ফেসবুকে। বেকার ছেলে আবির পড়াশোনা শেষে জব খুজছিল। আবির বলেছিল জব পেলেই তাকে বিয়ে করবে।
এজন্য অরুনী কত ছেলেকে রিজেক্ট করে দিল। প্রতিদিন তার বাসায় ছেলেপক্ষ দেখতে আসলো। সে বারন করে দিত।
কিন্তু যেই ছেলের জন্য এতোকিছু করলো। আজ তার ২২ বছর গেছে। বিয়ের বয়স পাড় হয়ে গেছে। তবে আবির ২ মাস আগে বিদেশ গিয়েছে ইতালি। তারপর থেকে ছেলেটার ফোন বন্ধ।
বিছানায় শুয়ে অশ্রুরত চোখে কান্না করছে অরুনী। তার মা এসে বলল, দুপুর হয়েছে যা ভাত খা।
অরুনী বলল, না খাব না। খিদা নাই।
মা বললেন, হইসে ঢং কত। একটা বালের পোলার লেগা এখনও কান্দোস। ওই পোলা বিদেশ গিয়ে তোকে ভুলে বিয়ে করে ফেলছে। খোজ নিয়ে দেখ।
অরুনী বলল, ও একটা করতে পারবে না। আবীর প্রমিজ করেছিল আমাকে বিয়ে করবে।
মা বললেন, এই আশাতেই থাক তুই।
অরুনী জানালার কাছে এসে দেখলো বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। হাত বাড়িয়ে সে বৃষ্টি ছুয়ে দিল। অরুনী ভাবছে আবিরের কি কোন বিপদ হলো? সে কি ঠিক আছে?
তখনই হঠাৎ জোরে বৃষ্টির ঝাপসা এসে তাকে ভিজিয়ে দিল।
অরুনী গামছা দিয়ে চুল মুছতেসে। তখনই হঠাৎ দেখলো আবির মেসেজ করেছে।
অরুনী চিরুনী ফেলে তাড়াতাড়ি ফোনটা ধরলো।
অপাশ থেকে আবির গম্ভীর গলায় বলল, কেমন আছো অরুনী?
অরুনী বলল, এতোদিন পর মনে পড়লো?
আবির বলল, মনে পড়েছিল। তবুও কখনও কখনও ভুলে থাকতে চেয়েও পারি না।
অরুনী বলল, আপনার কি সেখানে কাজ হয়েছে?
আবির ভাব নিয়ে বলল, দেখো অরুনী। আসল কথায় আসি। আমি ব্রেকআপ করতে চাই।
অরুনীর বুকে কথাটা কাটার মতো লাগে।জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলে সে। তাকে শরীর দিয়েছি মন দিয়েছি। আর কি দিলে সে আমার হবে?
নিজেকে সামলে অরুনী বলে, আমি জানতাম এরকম কিছুই হবে। ভালো থাকবেন।
তারপর রেগে ফোনটা কেটে দাও। এদিকে আবির বার বার ফোন করে অরুনী।
অরুনী দেখে আবিরের ফোন দিচ্ছে। অরুনী ফোন বন্ধ করে ফেলে। অরুনী নিজেকে বলে, বাদ দে তুই বদলে যা। এবার আমি আর ওর জন্য অপেক্ষা করব না। আমি বিয়ে করে ফেলবো।
অরুনী নিজের আম্মুকে ডাক দিয়ে বলে, আমি বিয়ে করব।
তার আম্মু একটু অবাক হয়। তবে একটুপরই উনার ঠোঁটে হাসি দেখা যায়।
এদিকে আবির বার বার কল করেছে যখন অরুনীকে ফোন বন্ধ পেল। তখন সে একটা বেন্চে গিয়ে বসলো। তখনই তার নববধু শারমিন কল করলো। ২ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। এটা সে অরুনীর কাছে লুকিয়েছিল। শশুড়বাড়ীর টাকা আবির ইতালি এসেছে। এখন অরুনীর সাথে সম্পর্ক রাখলে তার সংসার নষ্ট হবে।।আবার অরুনীর সাথে কথা না বলেও থাকতে পারছিল না। একদিকে তার ফ্যমিলি প্রেসার। তার শশুড়বাড়ী ধনী। এজন্য আবিরের মা ছেলেকে রাজি করানোর জন্য ভাত না খেয়ে থাকলেন। এদিকে বিয়েতে রাজি ছিল না আবির। তবুও মায়ের পাগলামি দেখে রাজি হয়। এখন শারমিনকে তেমন ভালোলাগে না।
শারমিন বলল, কেমন আছেন? খাইসেন দুপুরে।
আবির বলল, খেয়েছি। আপনার কি খবর?
শারমিন বলল, ভালাই আছি। মামার লগে দেখা করছিলেন? ইতালি এখন কার বাসায় আপনি?
আবির বলল, হ্যা। মামা শশুরের সাথে দেখা হয়েছে। উনার বাসাতেই আছি।
শারমিন বলল, জানেন কি হইসে? আমাদের বাড়ির উঠানে যে মরিচ গাছ লাগাইসি। ওইটায় এখন মরিচ হয়।
আবির বলল, আচ্ছা ভালো।
শারমিন বলল, আপনার মরিচ খাইতে পছন্দ। এজন্য এই গাছ লাগাইসি। লজ্জা মাথা খেয়ে কি সব বলি? সত্যি কি পছন্দ অপছন্দ সব আমি জানি। আর হুনেন একটা ভিডিও কল দিয়েন। আপনারে একটু দেখব।
আবির বলল, পরে সময় পেলে দিব। এখন রাখি।
শারমিন বলল, আচ্ছা। আচ্ছা বায় বায় আপনার হয়তো কাজে ডিস্টার্ব হচ্ছে।
শারমিন কল কেটে দিল।
তার ৭দিন পর আবিরকে তার বন্ধু সিরাজ কল করে বলল, তুই জানোস। তোর গার্লফ্রেন্ড অরুনীর বিয়া আজকে?
আবির কেন কথাটা বিশ্বাস করতে পারলো না।
আবির বলল, কি?
সিরাজ বলল, হ। ভালোই হইসে মেয়েটার বিয়ে হইসে। আর তুই তো এমনিতেও ওর সাথে টাইমপাশ করছোস।
আবির ভাবলো টাইমপাশ। কত সময় কথা বলে কাটিয়েছে ফোনে। সেসব স্মৃতি এখনও মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসে। আর তার বন্ধু টাইমপাশ বানায় দিল। এটা ভুল৷ আবির তো বিয়েই করতে চায়নি। তার প্রমিজ পূরন করতে চেয়েছিল। তবে ফ্যমিলির কাছে হেরে গেছে।
আবির বলল, হ টাইমপাশ। এখন মেয়ে খেয়ে ছেড়ে দিস। দূর টাইম নাই আমার।
সিরাজ বলল, আচ্ছা দোস্ত বায়।
#ত্রিভুজ_প্রেম
#রুদ্র_সিয়াম