আজ আমার ফাঁসি
মাহমুদ আলী খন্দকার
গতকাল লোকে লোকারণ্য ছিল আদালত পাড়া
কাভার্ড ভ্যানে করে আমি এসেছিলাম এখানে
উপরের সামান্য ফাঁক গলে যতটুকু আলো এসেছিল
রায় হওয়ার আগে সে ই আমার শেষ সুর্যস্নান।
রাস্তার ধারে বসে থাকা ভিখারির উৎসুক চোখ
আমাকে দেখার কৌতূহলে ভুলে গেল ভিক্ষার থাল
মাথাল মাথায় রাজপথে খাবি খাচ্ছিল কৃষকের দল
ক্ষোভের আগুনে পুরো শহর যেন টালমাটাল।
পুরোনো কাঠের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম
একি সত্যি বিচারের মাঠ নাকি নিছক প্রহসনালয়
সত্যের আলোয় এখানে কি অন্যায়ের বিচার হয়!
নাকি সব বিক্রি হয়ে যায় নষ্টদের টাকার খেলায়?
যখন মৃত্যুদন্ডের হলো রায় তিনটে খুনের দায়
শুনেছি পুরো শহর ভেসেছিল মিষ্টির বন্যায়
আমি একবারো মাথা নত করিনি পাইনি ভয়
শুধু ভেবেছি আমার মৃত্যু কি বাঁচাবে সব কন্যায়?
আমার তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল
শোনো হে ভগিনী কন্যার দল চিৎকার করে
রাষ্ট্রের কানে বল, এ মাটি কেন নয় আমার
নিরাপদ খেলার মাঠ, ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল?
ওরা তিনটে ছিল বদ্ধ মাতাল দখলে পাতাল
সদলবলে খুবলে নিয়েছে সোনা মেয়ের সারা গা
দুনিয়ার তাবত সভ্য মানুষ যতই অসহায় বাবা-মা
কারো পক্ষেই মেয়ের এমন করুণ চিত্র সহ্য হবার না।
আমি না হয় মরেই যাবো ফাঁসির দড়িতে ঝুলে
তোমরা যারা সভ্য আছো যাচ্ছি তাদের বলে
মেয়ের শোকে জল্লাদ আমি আমার হাতে গিলোটিন
বিচারপতি,তোমার সাথে দেখা হবে শেষ বিচারের দিন।