Story

সানজানা - ২

October 21, 2026

93 views

পাব্লিক লাইব্রেরি

সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে, পাবলিক লাইব্রেরির ঐতিহাসিক সিঁড়ির উপ্রে বইসা আছে সানজানা। এক সময়ে বিটিভিতে প্যাকেজ নাটক হইতো। ওই নাটকগুলাকে ক্যান ‘প্যাকেজ নাটক’ বলা হইতো, সেই ইতিহাস সানজানার জানা নাই। ঢাকা ইউনিভার্সিটি আর প্রেমের দৃশ্য দেখাইতে হইলেই এই সিঁড়ির সামনে শুটিং হইতো- সেই হিসাবে এই সিঁড়ির ঐতিহাসিক ভ্যালু আছে ।

সিঁড়িতে বসা নিষেধ, লেখা আছে। মানুষজন যথেষ্টই ভদ্র- সেলফি টেলফি তুললেও কেউই বসে না। কেউ বসলেও বাকিরা এমন চোখে তাকায়- যে বসছে সে লজ্জা পায়া উইঠা যায়। সানজানা অনেকক্ষণ ধইরা বইসা আছে।কে ক্যামনে তাকাইলো, তাই নিয়া তার আপাতত মাথাব্যথা নাই। সে তাকাইয়া আছে সামনের দিকে, সরাসরি- সেখানে একটা ভিড়। ওই জায়গায়  একটু পরপর চৌকনা স্ল্যাব। একটা স্ল্যাবের উপ্রে বেশ কয়েকজন জমাইয়া বসার চেষ্টা করছে। চিপাচিপিই হইতেছে, আন্তরিকতা দিয়া কষ্টটা পোষাইয়া যাইতেছে মনে হইতেছে।

অন্ধকারের জন্য ওয়েট করতেছে সানজানা – বাতিগুলা জ্বইলা উঠার জন্যেও। এই পথটায় অল্প অল্প আলো জ্বলে – শেষে গিয়া ক্যান্টিন আর চত্বর- সেখানে আলো বেশি- ভিড়ও। এই জন্যেই এই দিকে বসা হইছে। আলোগুলা জ্বইলা ওঠার পরে কোনাকাঞ্চিগুলায় অন্ধকার ঘন হবে। তখন সেখানে দাঁড়াইয়া গাঞ্জা খাওয়া যাবে। সানজানার মাথায় আপাতত এই চিন্তা ছাড়া দুসরা কোনও চিন্তা নাই।

সিঁড়িতে বইসা বিড়ি খাওয়ার একটা প্রবল ইচ্ছা হইতেছে, ইচ্ছাটা সামলানো তার পক্ষে সম্ভব হইতেছে না। সে মাঝে মধ্যেই ব্যাগ থাইকা সিগারেট বাইর করতেছে, শুকতেছে। হাতে আর ঠোঁটে নিতেছে -  কিন্তু ধরাইতেছে না । সে দেখতেছে ওই লোকগুলারে- অনেকে পরিচিত, অনেকে অচেনা। বিকাল থাইকা অনেক পরিচয় পর্বের ভিতর দিয়া যাইতে হইছে- বিলা খাইয়াই সে দূরে আইসা বসছে। ঘটনাটা দৃষ্টিকটু হইলেও তার কিছু করার নাই।

পুরা আড্ডাটাই অদ্ভুত রকমের অকওয়ার্ড। সাহিত্য আড্ডা, লোকজন লেখালেখি দিয়া কানেকটেড। সানজানার এই রকমের শিক্ষিত আড্ডা খুবই বিরক্তিকর লাগে। একবার বাতিঘর আর একবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই ধরনের প্রোগ্রামে সে গেছিলো। আজকের এইটা ওই রকম ফরমাল না, কিন্তু জিনিস একই। একটা ফ্রেন্ডলি ফ্রেন্ডলি ভাব আছে- এই পর্যন্ত। বাতিঘর বা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আড্ডায় মদ খাওয়া যায় না, এইখানে সম্ভবত মদ খাওয়া হবে। জমায়েত একটু বাড়তেছিলো সময় এই নিয়া কথাবার্তা হইতেছিলো, কথা স্পষ্ট না, ফিসফাস। একটু দূরে গিয়া জটলা করলো কয়েকজন, দুইজন বাইর হইয়া গেলো তারপর – এইসব ভঙ্গি পরিচিত।

মদ খাওয়ার দিকে সানজানার বেশি আগ্রহ নাই। মদ খাইলে নিজেকে কেমন জানি নাম্ব লাগে, সব কিছু কেমন জানি ঝাপসা হইয়া যায়- বাজে ফিলিং। মদ খাইয়া মানুষের কী পিনিক হয়, সে বুঝতেই পারে না।

অবশ্য আজকের এই সভায় কেউ পিনিকের জন্য মদ খাবে না মনে হয়, খাবে এক ধরনের লিগ্যাসি মেইনটেইন করার জন্য। কার সাথে মদ খাইলে কবি সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, না খাইলে যায় না- এই সব নিয়া হাসাহাসি হইতেছিলো খানিক আগে।

কবি হওয়ার জন্যে যদি মদ খাইতে হয়, কবিনীরা তাইলে কী করবে! ‘কবিনী’ শব্দটা মনে পইড়া মনে মনে হাসলো সানজানা। আসলে তো এরকম কোন শব্দ নাই, নাকি আছে!

সানজানা ব্যাগে হাত দিয়া দ্বিতীয় সিগারেটের প্যাকেটটা বাইর কইরা একটু দেখলো। খোলা হয় নাই। প্যাকেটটা হেভিলি কাস্টমাইজড। বারোটা বেনসনের ছোট প্যাকেট, সোনালি চামড়া তুইলা ফেইলা তার উপ্রে কলম দিয়া ছবি আঁকা হইছে। পপ আর্টের মতন ছবি, খুব প্রিসাইজড লাইন ড্রইং দিয়া পুরা প্যাকেট কভার করা। এই প্যাকেটে নিটলি রোল করা অনেকগুলা জয়েন্ট থাকার কথা। কয়টা- সানজানা জানে না এখনও।

‘এক্সকিউজ মি’ বইলা একজন সুবেশা মহিলা সানজানার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, সানজানা চমকায় উঠলো- তার হাত থাইকা প্যাকেটটা পইড়া যাইতে নিছিলো- রিফ্লেক্স বশত ধইরা ফেলা গেলো। সে অসম্ভব বিরক্ত হইয়া মহিলার দিকে তাকাইলো। অথচ সানজানার এতটা চমকানোর পিছনে উনার তেমন দায় নাই। উনি হাঁইটা কাছে আসছেন,বেশ অনেকটাই কাছে – যতটা কাছে হইলে এমন কোমলভাবে কথা বলতে চাইতে পারা যায়- ততটাই। উপরন্তু মানুষটার পরনে একটা জমকালো সিল্কের শাড়ী – নীল শাড়ীর সাথে ম্যাচ করা পাথরের গয়না। মুখে হালকা মেক-আপ। শাড়ী গয়না সবই মার্জিত- রুচিশীল- রাবিন্দ্রীক। তার উপ্রে দামী পারফিউমের মৃদু মাদকতাও বিরাজমান।

সানজানার তাকানো দেখলে যে কারোরই মেজাজ খারাপ হবে- অন্তত অবাক তো হওয়ারই কথা। মুখে কিছু না বইলাও যতটা বিরক্তি দেখানো সম্ভব, পুরাটা নিজের এক্সপ্রেশনে ঢাইলা দিছে সানজানা। একজন অচেনা মানুষের দিকে, বিশেষত এত সুন্দরী আর পোলাইট একজন লোকের দিকে এভাবে তাকানো নিতান্তই খারুজমার্কা একটা কাজ হইছে- কিন্তু এমন মেজাজ খারাপ! সন্ধ্যা হইতে কত দেরী! বাল-

মহিলা ওই আড্ডাতেই আসছেন, আড্ডা বা প্রোগ্রাম না বইলা ‘ইভেন্ট’ বইলা উল্লেখ কইরা কোথায় হচ্ছে জানতে চাইলে আঙ্গুল তুইলা ভিড়টা দেখায় দিলো সে। অত ভিড় রাইখা তারে ক্যান জিগাইতে আসলো, ব্যাপারটা ঠিক বোধগম্য হইলো না। উনি কি ভিতরে গিয়া ‘ইভেন্ট’ খুঁইজা আইসা পায় নাই! নাকি! এরকম ইনফরমাল সাহিত্য সভা মনে হয় উনি আশা করেন নাই।       

আরে আজব! সন্ধ্যা হয় না ক্যান! কী মাস এটা! সেপ্টেম্বর না! দিন ছোট হইয়া আসার কথা না, বছরের এই সময়ে! সানজানার মুখের ভিতর তিতা তিতা লাগতেছে। অতিরিক্ত রাগ উঠলে তার এরকম হয়। সকালে ঘুম থাইকা উইঠা সিগারেট ধরানোর আগে পর্যন্ত যেমন মুখ তিতা হইয়া থাকে- সে রকমের।

সিগারেট না ধরাইলে এই তিক্ততা কাটানো সম্ভব না। না পাইরা সানজানা শেষমেশ একটা সিগারেট ধরাইয়া ফালাইলো। সিগারেটের নিকোটিন জগতকে সহনীয় করে। নীল সিল্ক নারীকে খুঁটাইয়া দেখার মতন মুড চইলা আসলো দ্রুতই। ভদ্রমহিলা কারো সাথে কথা বলতেছেন- কলহাস্যের টুকরা ভাইসা আসতেছে- সিল্ক আর পাথরের ঝিলিকও দেখা যাইতেছে। উনি মূল মঞ্চে- অর্থাৎ মূল স্ল্যাবে এখনো যান নাই- সানজানা আর মঞ্চের সাথে তার দূরত্ব প্রায় সমান।

আজান শোনা গেলো।

আকাশ লাল হইয়া আছে অনেকক্ষণ ধইরাই। সানজানা মাটি থাইকা চোখ সরাইয়া আকাশের দিকে তাকাইলো- আজকে কি সে আকাশ দেখছে! এমনি দেখা না- ঘাড় উঁচা কইরা- মহাশূন্য আর তার মধ্যবর্তী বায়ুমণ্ডলের মধ্যে ঝুইলা থাকা নানান রঙ দেখার জন্য সে আজকে উপরে তাকায় নাই। আজান শুনতে শুনতে আকাশ দেখতে দেখতে আরাম কইরা সিগারেট শেষ কইরা আর একটা ধরাইলো সে।

মদিরার সন্ধানে বাইর হইয়া যাওয়া দুইজনকে ফিরা আসতে দেখা যাচ্ছে- দেইখা মনে হইতেছে মিশন অ্যাকমপ্লিশড- বেশ।

আযান শেষ হইলো।

সানজানা উইঠা দাঁড়াইলো।

দাঁড়ানোর সাথে সাথে তার মাথায় একটা চক্কর দিলো। পেটেও পাক দিলো একটু। দেয়াল ধইরা সামলানোর কথা ভাবলেও লাস্ট মোমেন্টে মনে হইলো দরকার নাই। ব্যাগ থাইকা পানির বোতল বাইর কইরা পানি খাইলো সে। মনে পড়লো – সারাদিন ভালো কইরা খাওয়া হয় নাই।

সকালে দশটার দিকে দুইটা পরোটা – ডিম দিয়া । দুপুরের দিকে অর্ধেকটা বার্গার আর কোক- আর প্রচুর সিগারেট আর অনেক পানি।

লাইব্রেরি খোলা আছে- বাথরুমে যাওয়া যাক। সানজানা সিঁড়ি ভাইঙ্গা উঠতে শুরু করলো। ওঠা শেষ হইতেই তার ফোনে মেসেজ আসার বিপ বিপ শোনা গেলো। কতক্ষণ লাগে এই সিঁড়ি দিয়া উঠতে! কেন, কী সমাচার জাইনাও লাইব্রেরিতে ঢুইকা বাথরুমের দিকে হাঁটতে হাঁটতে অভ্যাস বশে ফোন চেক করলো, মেসেজ আসছে, ‘কই যাও?’ – টেক্সটটার দিকে তাকাইয়া দাঁতে দাঁত চাইপা, পুরাটা বিষ ঢাইলা দিয়া, নিজেরে শুনাইয়া বিড়বিড় করলো সে, ‘চুদতে’- রাগে তার মুখে থুতু আইসা পড়লো, বাথরুমে ঢুইকা হিসু করতে ঢোকার আগে বেসিনে থুতু ফেললো, কুলি করলো, মুখ ধুইলো।

পানির উপ্রে জগতে কিছু নাই। সানজানা আবারও বোতল বাইর কইরা পানি খাইলো। এই বাথরুমে দুর্গন্ধ নাই।

বাথরুমে অনেক সময় নিলো সানজানা। যথেষ্টর চেয়ে বেশি- দ্বিতীয় দফা হাত মুখ ধুইলো, চোখে কাজল দিলো, ঘাড়ের কাছে ব্যান্ড দিয়া বাইন্ধা রাখা পনিটেইল টান দিয়া খুইলা নির্মম ভাবে চুল আঁচড়াইলো। এবার উঁচা কইরা বাইন্ধা নিলো, লিপস্টিক লাগাইলো। বাইর হইতে হইতে যেন অন্ধকার ঘনায় আসে- ধীরেসুস্থে চারপাশ দেখতে দেখতে বাইর হইলো সে।

গতিবেগ পরিবর্তন না কইরা – একদম সমান পেসে, মনে মনে পদক্ষেপ গুনতে গুনতে, সিঁড়ি দিয়া নামতে নামতে, আবার হাঁটতে হাঁটতে সে এক সময় ওই আড্ডার কাছে পৌঁছাইয়া গেলো।

 লোকজন আরও বাড়ছে, ছোট ছোট দলে ভাগ হইয়া আড্ডা চলতেছে, তবে আড্ডার কেন্দ্র একই আছে। আজকে যে বই নিয়া আড্ডা তার বেশ অনেকগুলা কপি- গোটা পঞ্চাশ হবে- ওই স্ল্যাবের ওপর একপাশে রাখা- বইয়ের সাথে বইয়ের লেখক সভার নিউক্লিয়াস হইয়া বসা, চারপাশে ইলেকট্রন প্রোটনের মতন ছোট ছোট গ্রুপগুলারও আড্ডা চলতেছে- চলতেছে মদ বিনিময়ও। সানজানা আর নীল সিল্ক ছাড়া তৃতীয় একজন নারীও এখন উপস্থিত- সাদা কালো কম্বিনেশনের সালওয়ার কামিজ অন্ধকারে ফুলের মতন ফুইটা আছে, কী জানি একটা ফুলের গন্ধও পাওয়া যাইতেছে- ওই মহিলা সম্ভবত চুলে সাদা একটা ফুল গুঁজছেন, তার হাসিটাও খুব উজ্জ্বল, অন্ধকারেও দেখা যাইতেছে।

নিউক্লিয়াসের কাছে গিয়া সানজানা তার কবি প্রেমিকের কাছে লাইটার চাইলো। সাহিত্য সভার প্রধান ব্যাক্তি হবার দরুন সে কথা থামাইতে পারলো না। তবে লাইটার আগাইয়া দিলো,মুখ দেইখা মনে হইলো সানজানা এখনো চইলা যায় নাই দেইখা সে আনন্দিত  – লাইটার নিতে সানজানাকে অনেকটা ঝুঁকতে হইলো, কোন এক ইয়াং কবি কিম্বা লেখক কিম্বা পাঠকের মাথায় তার ওড়নার ঝাপটা লাগলো। ‘সরি’ বলবে কি বলবে না ভাবতে ভাবতেই লাইটার নিয়া একটু পিছে সইরা আসলো সে, ছবি আঁকা প্যাকেট বাইর কইরা একটা জয়েন্ট ধরাইলো- গাঞ্জার গন্ধ পাওয়া গেলো।

সানজানা আশপাশে একটু লক্ষ্য করলো, গাঞ্জার গন্ধে কিছু কিছু সভাসদের মধ্যে একটু একটু চাঞ্চল্য দেখা গেলেও বিষয়টা গুরুগম্ভীর সাহিত্য আলোচনায় চাপা পইড়া গেলো বইলা মনে হইলো। তা ছাড়াও বুক লঞ্চিং টাইপ সাহিত্য সভায় মদ যত মানানসই, গাঞ্জার তত বেইল নাই। অপরিচিত কারো সাথে এই জয়েন্টগুলা শেয়ার করার কোন ইচ্ছাও নাই সানজানার- কবিতার বইয়ের লেখক অবশ্য বলছিলেন যে তার কিছু জুনিয়র ফ্রেন্ড আছেন, যারা এই বিষয়েও আগ্রহী। না চাইলে সাইধা সাইধা দেওয়ার দায় নিশ্চয়ই তার নাই! সে তো আন্দাজি একটা ইয়াং পোলারে গিয়া বলতে পারে না, ‘ভাই আপনি কি উইড খাবেন! আমার কাছে আছে, আজকে যে কবির বই উৎসব হচ্ছে, আমি তার প্রেমিকা’ – ভাবতে গিয়া হাসি চইলা আসলো তার। গাঞ্জাটা ভালো- দ্রুত ধরতেছে।   

নিউক্লিয়াসটা এবার ভাংলো- বই বিতরণ চলতেছে। লেডিস ফার্স্ট পদ্ধতি অনুসরণ কইরা প্রথমে নীল সিল্ক তারপর সাদা সালওয়ার কামিজ বই পাইলেন, তারপর পাইলেন কিছু সিনিয়র পুরুষ- এরা সকলেই সম্ভবত কবি লেখক বুদ্ধিজীবি- একজন চেকের শার্ট পরা লোকের চেহারা পরিচিত লাগতেছে- টক শোতে যান মনে হয় উনি, কথা বলতেছেন প্রমিত ভাষায়।

লেখক শুরুতে বই এমনি দিতেছেন, যারা নিতেছেন তারা সকলেই লেইখা নাম সই কইরা দিতে বলতেছেন, লেখক তখন খুবই লজ্জা লজ্জা ভঙ্গিতে নাম সই করতেছেন- প্রত্যেকের সাথে একই ঘটনা হইতেছে। সানজানা গুনলো। পর পর চারজনের সঙ্গে এই নাটক করলো তার প্রেমিক। পোলাইটনেসটা দেখার মতন! কে বলবে তার বন্ধুদের সাথে টি এস সি বা চারুকলায় দেখা হইলে এই লোক নাকটা আকাশে বাইন্ধা রাইখা কথা বলে! এত বিনয়ের শতভাগের এক  ভাগও তার মধ্যে দেখা যায় না তখন!

এক জায়গায় বই বিক্রিও হইতেছে, যারা ছোট লেখক তাদের কপালে মনে হয় মাগনা বই নাই, মদটা মাগনা খাইয়া বইটা পয়সা দিয়া কিনবে তারা। সেদিকটা আর একজন সামলাইতেছেন। বইয়ের দাম একশ টাকা, সানজানা দুইটা কপি কিনবে কিনা ভাবলো একবার, তারপর বাদ দিলো। এই বইয়ের কবিতা সে কিছু কিছু পড়ছে। কবিতা সুন্দর, কিন্তু বইটা সুন্দর না। বইয়ের কভারের ছবিতে গাছের কাণ্ডের মতন একটা জিনিসের ছবি, প্রথম দেখায় গাছ মনে হইলেও মন দিয়া দেখলে বুঝা যায় গাছ না, ভ্যাজাইনার একটা মেটাফোর এটা। বইয়ের উপ্রে ভ্যাজাইনার ছবি বিষয়টা খুব লুথা লাগে- এই বই কাউরে গিফট করাও সম্ভব না।

দ্বিতীয় জয়েন্টটা ধরানোর পরে সানজানা দেখলো সুবেশা মহিলারা এবং বয়স্ক পুরুষেরা বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে থামানো হইলো, একজন পিছনের ক্যান্টিন থাইকা ছোট ছোট কাগজের কাপে কফি নিয়া আসছে, সেই কফি তাদের খাইতে হইলো। উনারা কি সুরাপানে অভ্যস্ত না, নাকি এরকম খোলা জায়গা বইলা বিরত থাকতেছেন তা বোঝা গেলো না, কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে এই বিস্বাদ কফি তাদের খাইতে হইলো দেইখা সানজানা লিটারালি হাইসা দিলো। এই সময় কর্তৃপক্ষের একজন আইসা গাঞ্জার গন্ধের উৎস জানতে চাইলেন।

কিছু তরুণ বিষয়টা ডিল করার জন্য ঝাঁপাইয়া পড়লো, কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ব্যাক্তিকে বলা হইলো, এখানে গাঞ্জা খাওয়া হয় নাই, শুধু সিগারেট খাওয়া হইছে, এটা একটা লেখক কবিদের আড্ডা, এখানে ভদ্রমহিরা আছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। বড় ও ছোট লেখক,কবি ও পাঠক সবাই মিল্লা ভাই-ভাই হইয়া পোলাইটনেসের একটা মারামারি লাগাইয়া দিলো। কিন্তু গার্ড ভদ্রলোক কিছুই শুনতে না চাইয়া একবার বাঁশি বাজাইয়া দিলেন- বেশ জোরে। কথাবার্তা গাঞ্জা দিয়া শুরু হইলেও পরে মদ্যপানটও ইস্যু হইয়া গেলো। সানজানা দেখলো, উপস্থিত নারীরা যে যার মতন পুরুষ সঙ্গীসমেত দূরে সইরা যাইতেছেন, একদম চইলা যাইতে মনে হয় তাদের বাধো বাধো ঠেকতেছে। সাহিত্য চর্চা করতে আইসা এরকম ঝামেলায় পড়তে হবে কে জানতো! কিন্তু একজন কবিকে বিপদে ফেলাইয়া তো যাওয়া যায় না- ফেলো ফিলিং বইলা একটা বিষয় আছে। সিনিয়র লেখকদের মধ্যে একজন, যিনি টক শো করেন তিনি এক সময় টেক ওভার করলেন।

চুপচাপ জয়েন্টটা শেষ কইরা কাউরে কিছু না বইলা গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করলো সানজানা। পাবলিক লাইব্রেরি প্রিমাইস ফাঁকা ফাঁকা থাকলেও ক্যাম্পাসে বেশ ভিড়, টি এস সি পার হইয়া মুক্তমঞ্চে পৌঁছাইতে বেশ সময় লাগবে। লাগুক- সানজানার কোন তাড়া নাই।  

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login