সুমাইয়া যে মাদ্রাসায় পড়তো, সেখানের এক হুজুরকে তার ভালোলাগে। কিন্তু সুমাইয়া লাজুক স্বভাবের তাই কিছু বলতে পারে না।
হুজুরটা মাদ্রাসায় নতুন এসেছে, বয়স কম। বিয়ে করেনি। চাপ দাড়ি রেখেছেন। কথা বার্তা বলেন নিচু স্বরে। আচার ব্যবহার খুব ভালো।
হুজুরটা তখন গাছের ডাল দিয়ে মেশওয়াক করছিল। তখন সুমাইয়া হুজুরের সামনে আসলো।
সুমাইয়া: হুজুর আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।
হুজুর: হ্যা। বলো।
সুমাইয়া: আমি আপনাকে ভালোবাসি।
হুজুরের হাত থেকে গাছের ডালটি পড়ে গেল মাটিতে। তার মনে সুরা ইউসুফের একটি আয়াত বাজতে লাগতো।
'নি:শ্চই মেয়েরা ছলনাময়ী'.
হুজুর নিজেকে সামলে নিলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, দেখো সুমাইয়া। প্রেম ভালোবাসা বিয়ে আগে হারাম। আর তুমি যেহেতু আমাকে পছন্দ করো। তাই আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলবো।
সুমাইয়া চলে গেল। বিকেলবেলা চায়ের দোকানে সুমাইয়ার বাবা চা খাচ্ছিলেন। ওনার নাম সোবহান মিয়া। হুজুর সোবহান মিয়ার দিকে এগিয়ে গেলেন।
হুজুর: আসসালামু আলাইকুম।
সোবহান: ওয়ালাইকুম সালাম, হুজুর। বসুন। ওই একটা চা দে হুজুর রে। তা হুজুর। সুমাইয়ার পড়াশোনা কেমন চলছে?
হুজুর: আমি আসলে আপনাকে অন্য একটা কথা বলতে আসছিলাম।
সোবহান: জ্বী। বলুন।
হুজুর: আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করতে চাই।
সোবহান: সে কি আপনাকে কিছু বলেছে?
হুজুর: হ্যা। বলেছে।
সোবহান মিয়া দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। বাসায় ফিরে তিনি সুমাইয়ার গালে চড় থাপ্পড় মারলেন।
সোবহান মিয়া সুমাইয়ার ভাইকে বলল, ওই হুজুরের কত বড় সাহস আমার মেয়ের সাথে প্রেম করে। যা ওকে গ্রাম থেকে মারতে মারতে তাড়িয়ে দে।
হুজুর বসে ছিলেন গাছের নিচে। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওনাকে সবাই মারতে শুরু করলো। আর ওনার নামে বদনাম সরিয়ে দিল। এই হুজুর লুইচ্চা। হুজুর তখন মনে মনে বলল, আমার আল্লাহ জানে আমি কি।
উনাকে সবাই ইট পাথর মারতে লাগলো। একসময় উনি মাটিতে পড়ে যান আর উনার সারা শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে উনি মারা যান।
(সমাপ্ত)
ছোটগল্প: হুজুরের সাথে প্রেম
লেখক: RUDRO SIYAM