বারান্দার জং ধরা রেলিং এ থমকে আছে এক প্রবীণ হাত,
নিচে রাজপথজুড়ে উছলে ওঠা তরুণ রক্তের অপ্রকৃতিস্থ প্রবাহ
যৌবনের কঙ্কালেরা এসে কড়া নাড়ে তার ভাঙ্গাচোরা অলিন্দে,
স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরাও তো ছুড়ে দিয়েছিলাম আস্ত এক একটা ফাল্গুন।
অক্ষরগুলো বারুদ হয়ে জ্বলে উঠেছিল যেবার,
মিছিলের গর্জন থামতেই কাঁধে চেপে বসেছিল সহযাত্রীর শীতল লাশ।
এক জোড়া নিষ্প্রাণ চোখ আর অনন্ত নীরবতার এক বিশাল বহর
আমরা দ্রোহের বীজ বুনেছিলাম ঠিকই,
ফসল কেটে নিয়ে গেল কোনো অদৃশ্যে বসে থাকা শকুন।
শাসকের রাজপ্রাসাদের দেয়ালগুলো মোটা বধির চামড়ায় তৈরি,
আমাদের হাহাকার সেই প্রাসাদে পৌঁছানোর আগেই বাষ্প হয়ে যায়।
ইতিহাস এক আত্মঘাতী চক্রাকার অন্ধগলি,
প্রতিটা প্রজন্ম এসে একই পাথরে আছাড় খায়,
ভেবে নেয় তারা বুঝি প্রথম ভাঙল রাষ্ট্রযন্ত্র।
এই সব স্লোগান, উল্লাস আর লাল পতাকার আস্ফালন,
দিনশেষে চায়ের কাপের গল্প হয়ে মিশে যায় কুয়াশায়।
শাসনব্যবস্থা তার পুরানো খিদে নিয়ে অক্ষত থাকে,
কেবল বদলায় কসাইয়ের মুখের ছদ্মবেশ।
মিছিলের তরঙ্গ রাজপথ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে ঠিকই
কিন্তু সমুদ্র পাওয়ার আগেই তা চুষে নেয় শূন্যতার শোষক কাগজ।
বৃদ্ধ মুখ ফিরিয়ে নেয়, যৌবন এক তীব্র কিন্তু অকার্যকর বিষের মতো উবে গেল।
নিচে যুবকের দল ভাবছে আজকেই শেষ যুদ্ধ,
এদিকে ইতিহাস ফিসফিস করে হাসছে অলক্ষ্যে।