আবার যদি দিন ফেরে কোনোদিন,
তবে আর রূপকথার রাজপুত্র হয়ে ফিরতে চাই না।
এই থিতু হওয়া জীবনে, মাঝবয়সের ছাইরঙা কুয়াশা ঠেলে
হয়তো কোনো পুরনো অ্যালবাম থেকে চেনা একটা ছবি ভেসে উঠবে।
যে নামগুলো আজ বয়সের চড়ায় আটকে গিয়ে ভুলে গেছি,
সেগুলো আবার চোখের সামনে উজ্জ্বল হবে, নদীর স্রোতের মতো।
না, আমি আর ফের উথালপাথাল যুবক হতে চাই না,
যুবক বয়সের ওই রক্তাক্ত জেদ, ওই অকারণ ছুটে চলা,
তার চেয়ে বরং বুক জুড়ে যে প্রৌঢ়ত্বের ধূসর ভার জমেছে,
মন থেকে কেবল সেই ক্লান্তির ভাবনাগুলো খসে পড়ুক।
একদিন খুব ভোরে, যখন শহরটা কেবল ঘুম ভাঙার কষ্টে কাৎরাচ্ছে,
আমি চুপিচুপি গিয়ে দাঁড়াব নদীর ধারে।
হালকা বাতাসে তখনো সকালের আলোর গন্ধ মাখা,
নদী আর মাটির মাঝখানে কোনো দেনাপাওনার হিসেব নেই।
নদীর ওপর টলটল করছে ভোরের আলো,
সেখানে উড়ে যাচ্ছে একজোড়া চেনা চিল,
যেন বহু বছর আগে ফেলে আসা কোনো একটা গান
কেউ হঠাৎ পিছন থেকে শিস দিয়ে গেয়ে উঠল।
আমি নদীর ভেজা ঘাসে কেবল দুটি পা রাখব,
আর বুঝে নেব, বেঁচে থাকাটা আসলে কোনো যুদ্ধ ছিল না।
আকাশের নীল এখন অনেক বেশি গাঢ়,
আর আমার বুকের ভেতরের নদীটাও এখন শান্ত, থিতু, সমর্পিত।
আবার যদি দিন ফেরে কোনোদিন,
আমি অন্যরকম আবেগ নিয়ে পৃথিবীতে থাকব তখন।