পর্দার মতো খসে পড়ে বিবর্ণ দিন,
কুয়াশার জালে ঢেকে আছে বন্দর ও ধোঁয়াটে গলি;
অতীতের টেরাকোটারা মূর্ত হয়ে ওঠে
ভাঙা ইট আর তামাটে রোদের স্মৃতিতে।
শব্দেরা মরে গেছে অথবা মরে যাচ্ছে,
শুষ্ক পাতার মতো ঝরে পড়ে ফুটপাতে,
হেমলকের বিষাক্ত ঘ্রাণে ভারী হয় বাতাস,
অফিসের ঘড়িতে টিকটিক করে যান্ত্রিক মৃত্যুঘণ্টা।
দুপুরের রোদ থামে না আর পুরোনো দালানের ঘাটে,
হিজল গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে নীরব আক্ষেপ;
চোখের পলকে মুছে যায় বসন্তের সুবাস,
কংক্রিটের জং ধরা বনে একা হাঁটে পথভ্রান্ত যুবক।
শেওলা ধরা সিঁড়ি, প্রাচীন পুঁথির গন্ধ,
ঝুলে থাকা আলোয় ম্লান হয় ইঁদুরের চোখ;
ভাষার অতল গহ্বরে খুঁজে ফিরি হারানো লিপি,
যেখানে এক ফোঁটা জলের তৃষ্ণায় কাঁদে সময়।
রাস্তার জনস্রোতের মুখহীন ভিড়ে হঠাৎ ঝিলিক দেয় চেনামুখ,
বর্ষার জলের মতো ভিজে যায় বিবর্ণ রাত;
কালের স্রোতে ভেসে যায় সব অর্থহীন মিথ,
শুধু থেকে যায় পাথরে খোদাই করা একটি দীর্ঘশ্বাস।