ভাঙা ঘাটের পাড়ে জমে থাকা শেওলা,
মরিচা ধরা নোঙরে আটকে আছে জলের স্রোত;
ডুবন্ত সূর্যের শেষ আলোয় ভেসে ওঠে
কাকপক্ষীহীন চরের মরা হাড়গোড়।
নৌকার খোলা খোলে পড়ে থাকে মৃত শামুক,
লবণাক্ত বাতাসে ওড়ে জালের সুতো;
কালের স্রোতে খসে পড়ে খামখেয়ালি লিপি,
যেখানে অক্ষরগুলো এখন শুধুই বালুচর।
নিথর পাতার ফাঁকে জমে নীল অন্ধকার,
শুকিয়ে যাওয়া নদীর বুক তখন স্রেফ নিসর্গ;
মাটির গভীরে চাপা পড়া আদিম গন্ধ,
জেগে ওঠে পুরোনো কোনো শেকড়ের আহ্বানে।
শ্যাওলা সবুজ জলে কাঁপছে তামাটে আকাশ,
নৌকার ওপারে শুধু কুয়াশার দীর্ঘ ছায়া;
ফুসফুসের অতল গহ্বরে ফুরিয়ে আসে নিঃশ্বাস,
স্মৃতির পাড়ে পড়ে থাকে একা একটি চাবি।
শব্দগুলো হারিয়ে যায় জলের বুদ্বুদে,
আর জেগে থাকে শুধু সময়ের নিঃসঙ্গ নীরবতা;
তখন কালের কঙ্কালসার ফ্রেমে ঝুলে রয়,
একটি মলিন, অর্থহীন ও অনন্ত দুপুর।