Story

জামিলার সংসার

October 27, 2026

18 views

রিপন মাস্টার বৌয়ের ঘনিষ্ঠ হতে চাচ্ছে। জামিলা রিপন মাস্টারের অবাধ্য হাত সরিয়ে দিয়ে বললো,"আপনে তো কিচ্ছু পারেন না। খালি শরীরের জ্বালা বাড়ান।সারারাত কষ্ট পাই।"

মাস্টারের সোহাগী হাত মুহূর্তে অনশন করে ।জামিলা জানে,আদরের মুহূর্তে তার বিরক্তি লাগলে এটা প্রধান অস্ত্র। মাস্টার অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে পড়ে। মিনিট দশেক পরে নাক ডাকার শব্দ। বেপারী বাড়ী ছাড়িয়ে কান পাতলে ডালি বাড়ী পর্যন্ত শুনা যায়। জামিলা ফিস ফিস করে এবার বলল," ঘুমাইয়া পড়ছেন?"

"না কও।"

"আমাগো একটা বাচ্চা কাচ্চা অইবো না! দুই বছর তো হইয়া গেলো।"

"কেমনে হইবো। তুমি তো কাছে ঘেঁষতেই দেও না।"

"যহন দেই তহন তো কিছু করবার পারেন না। খালি ওঠেন-নামেন। এরম ওইলে পেটে বাচ্চা আইবো?"

রিপন মাস্টার অন্যদিকে মুখ করে ঘুম ঘুম চোখে বলে, "এহন ঘুমাতে দেও। কাইল সকালে উঠেই স্কুল রেজিস্ট্রি বিষয়ে উপজেলা সদরে যাইতে হইবো।"

জামিলা মুখ গোমরা করে বলে, "আমনের তো রাইত পোহাইলে স্কুল স্কুল। এদিকে আমনের মার প্রতিদিন এককথা।পোয়াতি হইনা ক্যান? নাতি নাতনির মুখ দেখব। অন্যদিকে মুখ ঘুইরা নাক ডাইকা ঘুমাইবেন। আর হেরা নাতি নাতনির মুখ দেখবো?"

জামিলা একসাথে কথাগুলো বলে স্বামীর বিপরীত দিকে মুখ দিয়ে শুয়ে থাকে। বিয়ের দুই বছর এই ভাবে দাম্পত্যের রাতগুলো কাটছে,জামিলা-রিপন মাস্টারের।

মাস্টারের অবশ্য এটা দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বিয়ে স্থায়িত্ব ছিলো বছর খানেক।মেয়ে রিপন মাস্টারের প্রতিষ্ঠিত প্রাইমারীতে একসাথে শিক্ষকতা করতো। দুজনে গ্রামের মাঠ-ঘাট, বনে-বাদারে, এবাড়ি-ওবাড়ি ঘুরত স্টুডেন্ট কালেকশন করতে। কিন্তু গ্রামে নতুন স্কুল। তারপরে আবার বেসরকারি প্রাইমারি। এখনও রেজিস্ট্রি হয়নি। গ্রামের বেশিরভাগ অর্ধ শিক্ষিত অভিভাবকগণ রিপন মাস্টারের স্কুলে তাদের ছেলে পুলেকে দিতে আগ্রহী হতো না। রিপন মাস্টার, তাঁর স্কুলে আরেকজন ছেলে টিচার থাকলে ও নাসরিন ম্যাডামকে নিয়ে ছাত্র ছাত্রীর খোঁজে বেরোত। নাসরিনের কথায় জাদু ছিলো। অভিবাবকদের কিছুক্ষণ বুঝানোর ফাঁকে হবু ছাত্র বা ছাত্রীর হাতে একখান লেবেন চুস্ ধরাইয়া দিত। দেখা যেতো লেবেন চুস চুষতে চুষতে ছিলেট-পেন্সিল নিয়ে ষ্টুডেন মাস্টার-ম্যাডামের পিছু পিছু স্কুলের পথে হাঁটা দিয়েছে।

যাই হোক, নাসরিন ম্যাডাম ও রিপন মাস্টারের নিজেদের পছন্দে বিয়ে হয়ে গেলো। আস-পাশের মানুষ জনের ফিস ফাঁস, কানা ঘুষা থেমে গেলো। বিয়েতে উভয় ফ্যামেলি আপত্তি করেনি। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো তখনি, যখন নাসরিন ম্যাডাম সরকারি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হওয়ার সুবাদে পাশের থানায় পোস্টিং হয়ে গেলো। দুজনে আলাদা বসবাস। মাঝে মাঝে আসা যাওয়া , দেখা সাক্ষাৎ। স্থানের দূরত্ব থেকে মনের দূরত্ব। শারীরিক দূরত্ব ছিলো বিয়ের শুরু থেকেই।সেটা ও চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশ পেলো ডিভোর্সের পর। শ্বশুর বাড়ী ত্যাগ করার পূর্বে শাশুড়িকে গোপনে একটা কথা বলে গেলো-"আম্মা একটা কথা বলে যাই। আপনার ছেলে জীবনে বাবা হতে পারবে কিনা সন্দেহ। ডাক্তার কবিরাজ দেখায় ফের বিয়ে করাইয়েন। আর না হয় যে মেয়ে ঘরে আনবেন তার কপালে দুঃখ আছে।" (চলবে)

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+30 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login