Story

জামিলার সংসার (শেষ পর্ব)

October 30, 2026

44 views

জামাল কবিরাজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সিরাজ ও জামিলা বাড়ী যাবার উদ্দেশে হাঁটছে। সিরাজ জামিলকে তাড়া দিচ্ছে, ভাবি পা চালাইয়া হাঁটেন। দক্ষিণে কালা মেঘ করছে। বৃষ্টি নামলে রক্ষা নাই।

জামিলা বললো, পা আর চলেনা বাপু। এত দূর মাইনষে আয়ে!

সিরাজ বলে, ঠেকছেন এহন কি করবেন।জামিলা কোনো উত্তর দেয়না। মনে মনে ভাবে,বাচ্চা হওনের জন্য খালি মেয়ে মাইনষের ঠেক পড়ে। পুরুষ মানুষের কিছু না।

বড় রাস্তায় উঠে রিকশা পাওয়া গেলো। রাস্তা কোথাও কাঁচা মাটির আবার কোথাও লাল ইট বিছানো। এর মধ্যে হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামে।

বাধ্য হয়ে রিক্সার হুড তুলতে হলো। একে তো ইট, কাদা মাটির রাস্তা,বৃষ্টির কারণে হুড তুলে দেয়ায় দেবর সিরাজের পাশে বসে জামিলা গাদাগাদি তে অস্বস্তি অনুভব করছে। রিকশার ঝাঁকিতে দু একবার সিরাজের কনুইয়ের ঘুতা জামিলার বা পাশে লাগে। সিরাজ বোকা হলে ও বিষয়টা বুঝতে পেরে জামিলকে সহজ স্বাভাবিক করার জন্য বলে, ভাবির একটু কষ্ট হইতেছে। জামিলা সিরাজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলে,তাড়াতাড়ি বাড়ি যাইতে পারলে হয়।

সিরাজরা যখন হিজলা খেয়া ঘাটে এসে পৌছে তখন সন্ধ্যা শেষে রাতের অন্ধকার নেমে এসেছে। বাতাস আর ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। নদীর ওই কুলে দুর আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আকাশে কালো মেঘ। খেয়া ঘটে আট দশটা চায়ের দোকানের অর্ধেক বন্ধ। বাকি গুলোয় হারিকেনের আলো টিম টিম করে জ্বলছে। একটা মাত্র সেলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা ঘাটে বাঁধা। সিরাজ আশ পাশ তাকিয়ে ডাকলো , এই নৌকা কার?

এক বুড়ো বিড়ি টানতে টানতে অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে এসে বললো," আমার বাপজান, ওপার যাইবেন?"

হুম। তয় ভাড়া কত?

নদীর অবস্থা বেগতিক খারাপ। ওপার যাওয়ার লোক নাই। তোমাগো জামাই বৌরে নিয়া যাইমু। ভাড়া সত্তর দিবা।

সিরাজ বুড়োর সাথে ধরা ধরি করে পঞ্চাশ টাকায় ঠিক করে। বুড়ো বলে,তাড়া তাড়ি নৌকায় উডো। বৃষ্টি একখান নামবো। মাঝির কথায় তাড়া হুরো করে নামতে গিয়ে জামিলা আবছা অন্ধকারে নদীর ঢালুতে পা পিছলে পড়ে যায়। মাঝি যেনো এককাঠি সরেস।বলল,ভাতিজা চাইয়া কি দেহ।বৌমা রে কোলে নিয়া নৌকায় তুলো।" সিরাজ লজ্জা পেলো মাঝির কথায়।কিন্তু মুখে কিছু বলল না।সে মনে মনে বলল তিন বছর পর সৌদ তন ফিররা জামিলা ভাবির মতো সুন্দর একটা বো পাইলে খারাপ হইত না। সিরাজ মাঝির কথায় কান না দিয়ে জামিলার বা হাত শক্ত করে ধরে নৌকায় তুললো।

নৌকা কিছুদূর চলার পর ঝুম বৃষ্টি নামে। মাঝি নৌকার পিছনে বসে নৌকার হাতল ধরে আছে। ইঞ্জিনের ভট ভট শব্দ আর ঝুম বৃষ্টি এক অদ্ভুত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির ঝাঁট যাতে ভিতরে না আসে এজন্য সিরাজ ভালো করে নৌকার দুই মাথার পলিথিন ভালো করে বেঁধে দেয়। ভিতরে হারিকেনের আলো নিভু নিভু করে জ্বলছে। জামিলা নৌকার মাঝখানটায় ঘুটি স্যুটি করে বসে। এতক্ষণ বোরখায় মুখ ঢাকা ছিল। মুখ তুলে ফেলায় তার বিষাদ মুখখানি সিরাজের চোখে পড়ে। সিরাজ বলে, ভাবি বেশি ব্যথা পাইছেন।

জামিলা পায়ের পাতা দেখিয়ে বলে,একটু কাইট্যা গেছে। সিরাজ কই দেহি বলে সময় না নিয়ে জামিলার পা ধরে কাটার জায়গা দেখে। তারপর বলে, এত অনেক কাটছে। এই বলে সে সঙ্গে থাকা গামছা বের করে ছিঁড়ে জামিলার আক্রান্ত পা বান্ডিজ করে। জামিলা তা তাকিয়ে দেখে। এই নির্জন নৌকায় তারা দুজন মানুষ। পুরুষ মানুষ টি তার সেবা করছে, সামনে হারিকেনের নিবু নিবু আলো আর ভরা নদীতে বৃষ্টিময় মেঘের গর্জন, সব মিলিয়ে জামিলার ভালো লাগছে। সিরাজ বলল, ভাবি বুড়া মাঝি লোকটা ভাবছে আমরা স্বামী স্ত্রী।

তাতে আমনে লজ্জা পাইছেন না নিজেরে স্বামী স্বামী মনে হইছে।

আমার্ডে ভালোই লাগছে।

ভালো লাগলে বিদেশ যাওয়ার আগে একটা বিয়া কইরা যান। জামিলা বলে।

তোমার মতো সুন্দর মাইয়া পাইলে করুম। সিরাজ বলে।

ইশ শক কতা! জামিলা বলে।

সিরাজ জামিলার মাঝে এভাবে কথাবার্তা চলে। হঠাৎ কাছাকাছি বজ্র পড়ার প্রচণ্ড শব্দ। জামিলা ভয়ে সিরাজের বুকে নিজের অজান্তে ঝুঁকে পড়ে। সিরাজ যেনো এই অপেক্ষায় ছিল। সে জামিলকে জড়িয়ে ধরে। জামিলা নিজেকে সরিয়ে নেয়না। বাহিরে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে মাঝি ভিজে নৌকা চালিয়ে যাচ্ছে। নৌকার ভিতরে দুই মানব মানবী একে অন্যকে জড়িয়ে। একজন বজ্রপাতের ভয়ে আশ্রয়ের খোঁজে। অন্যজন উষ্ণতার সন্ধান পেয়ে গেছে। জামিলা তার বুকে আলতো ভাবে কিছু একটা চাপ অনুভব করে। তবু নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়না। চাপটা মৃদু ভাবে বাড়তে থাকে। জামিলার শরীরে কিছু একটা জেগে উঠে। সে নিজেকে বলে আজ এই মুহূর্তে যা ঘটে ঘটুক। সে বাধা দিবে না। জামিলার দিক থেকে বাধা না পেয়ে সিরাজ আরও সাহসী হয়ে উঠে। সে জামিলার ব্লাউজের ভিতর দিয়ে হাত চালিয়ে দেয়। মাথা নুইয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মেলায়। জামিলা তার শরীরের নিয়ন্ত্রণ সিরাজের হাতে শপে দেয়। এভাবে কতক্ষণ কেটেছে দুজনের কেউ বুঝতে পারে না। বুড়ো মাঝির ডাকে হুশ ফেরে।

"ভাতিজা ঘাটে চইলা আইছি।"

নৌকা থেকে নেমে তারা একটি রিকসা পেয়ে যায়। পথে তাদের কোনো কথা হয়না। আকস্মাৎ ঘটনায় তারা দুজন যেনো পাথরের মূর্তি হয়ে গেছে।বাড়ী পৌছে দেখে শাশুড়ি মা কপি হাতে নিয়ে জামিলার ফেরার অপেক্ষায়।

সিরাজ তার পরের সপ্তায় সৌদীর প্লেনে চড়ে। যাওয়ার আগে জামিলার সাথে দেখা করে।একটু আড়ালে নিয়ে মুচকি হেসে জামিলকে বলে, "ভাবি জামাল কবিরাজের উছিলায় এই বার দেখবা তোমাগো একটা পোলা হইবো।" সিরাজের এই ইঙ্গিত পূর্ণ কথায় জামিলা ভাবে, এক রাতের অসতর্ক সম্পর্কে সিরাজের সম্বোধন আমনে থেকে তুমিতে নামছে।

রিপন মাস্টারের স্কুল রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। এই খুশিতে বাজার থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়ি এসে শুনে তার একটি ছেলে সন্তান হয়েছে।(শেষ)

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login