মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনো পুরোনো ফাটল
যেমন নিজের পথ নিজে খুঁজে নেয়,
এই শহরের বুকে কেউ তো কারো পায়ের ছাপ গুনে রাখে না,
সবাই কেবল একা একা বয়ে বেড়ায় নিজের ভার।
ঘরের জনালায় জমে থাকে থমথমে নীরব অথচ একই নগর,
তবুও মাঝরাতে বুকের ভেতর নদীর পাড় ভাঙার শব্দে কেঁপে উঠি;
আমরা কি তবে কেবলই স্থবির কোন নদী,
যেখানে স্রোত নেই, অথচ আমার নিজের মুখটুকুই ভাসে?
এই লম্বা জীবনে কাউকে তো ঠিকমতো ছুঁতেই পারলাম না,
হাতের তালুতে শুধু লেগে রইল পুঞ্জীভূত রোদের গন্ধ;
দরজা খুললেই হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়ে অচেনা বাতাস,
কেউ জানে না কে কার ঘরের জ্বলন্ত বাতিটা নিভিয়ে দিল।
ভোরবেলা যখন চারপাশটা কেমন ঝাপসা হয়ে আসে,
মনে হয় এই বিশাল ভিড়ে কেউ কখনো আমার ছিল না;
শুধু পড়ে থাকে একটা নিঃসাড় মস্তিস্ক আর কিছু পুরনো কথা,
যা এই শহরের ইট-পাথরের নিচে নীরবে শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমে।