আমি তো জানি না আয়না আমায় কিভাবে দেখে।
তবে আমি যখন আয়না দেখি,
আমি দেখি বেলে-দোয়াশ এর কাদা।
আমি দেখি এক বিষ্ময়হীন, তৃষ্ণার্ত চোখ।
এই চোখে দেখি এখনো আশার জোয়ারের দাগ,
চোখ দুটো ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু ডুবতে নারাজ।
আয়না? এই ফাটা ঠোটে কিভাবে চুমু খেতে?
এই শুষ্ক গালে হাত রেখে কি দেখতে, আয়না?
আমি যখন আয়না দেখি,
আমি দেখি এক কুৎসিত ক্যানভাস;
বর্ষাকালে পুরান ঢাকার কর্দমাক্ত রাস্তার পাশে রাখা ক্যানভাস।
আমি দেখি কাদা; নর্দমার ওপরের ফ্যানাযুক্ত কাদা।
আমি আয়না দেখি, আয়নায় পৃথিবীর রহস্য খুঁজি।
আয়না চিৎকার করে ফিসফিসিয়ে বলে,
চোখে চোখ রেখে বলে ফেলে, পৃথিবীর কাছে-
সামনের বস্তুর অপ্রয়োজনীয়তা।
ঠুনকো জীবনের পথহারা পথিক হয়ে,
যখন ঢাকার রাস্তায়, আগন্তুক রিকশা দেখি আর হাটি,
আমি তোমাকে খুঁজি। হেমন্তের অলস বিকেলের-
নরম রোদ আর ঠান্ডা বাতাসে আমি তোমায় খুঁজি।
এমনই এক বিকেল আমায় উপহার দিয়েছিল তোমার অবয়ব;
চিকন ঠোঁটের হাসিমাখা মুখ, কোমরে বেধে থাকা রেশমি লালচে চুল!
ওই চোখের মমতা আমায় ডেকেছিল কাছে, স্মৃতির মাঝে।
সেদিন আয়না ছিলনা, তবু আমি আমায় দেখেছি, ময়না!
পারিনি যেতে কাছে, এই তৃষ্ণার্ত চোখ নিয়ে।
শুধু দেখেছি ওই বাংলো তে তাকিয়ে সেই গালভরা হাসি,
আর রাস্তার কাদা মুখে নিয়ে, নর্দমার পানিতে মাখামাখি হয়ে একদম চুপিচুপি,
একবার মাত্র বলেছিলাম। শুধুমাত্র একবার বলেছিলাম, "ভালোবাসি!"