শীতের সকালের কুয়াশায় ঢাকা কাঁচা ধানের গন্ধ,
বাঁশঝাড়ের ছায়ায় জমে থাকা শিশিরে প্রতিফলিত হয় এক চিলতে রোদ,
হিমালয়ের বাতাস ছুঁয়ে যায় আউশ ধানের মরা মাঠ।
আমাদের মরা নদী, যার বুক জুড়ে কেবল শুষ্ক বালুচর,
আর দূরে গঞ্জের হাটে ভোরের আলোয় ওড়ে রোদ পোহানোর ধোঁয়া।
মাটির চুলার ওপরে ভাতের হাঁড়ির আওয়াজ,
গৃহিণীর ক্লান্ত হাতে লেপে দেওয়া শিউলি ফুলের আল্পনা,
এখানে সময় বয়ে যায় নদীর মন্থর স্রোতের মতো।
শহরের ইট-পাথরের কোলাহল পেরিয়ে
এই নিসর্গ আজও লালন করে আদিম এক নিঃসঙ্গতা।
অন্য কোন নদীতে হয়ত নৌকার পালে বাতাসের ঝাপটা,
সেখানে গঞ্জের সদাগরদের নৌকাতে সদাই এর হিসাব চলে।
অথচ আমাদের নদীটা মরে গেছে।
আমাদের ওই ভাঙা ঘাটের পলিমাটিতে
এখন আর ফোটেনা কোনো বসন্তের শেষ পাপড়ি।