স্টেশন রোডের তেলের ল্যাম্পপোস্টে ওপর ওড়ে সন্ধ্যার বাদুড়,
ছবি, তোমার নীল শাড়ির আঁচলে লেগে আছে ভৈরব নদীর মরচে ধরা গন্ধ।
আমরা দুজন রিকশায়, পায়ের তলায় বরাবরের মতো ওই ভাঙা পিচের রাস্তা,
আর রেলগেটের ইশারায় থমে থাকে একখণ্ড মফস্বল সন্ধ্যা।
গ্রিক বা ট্রয়ের কোনো পোড়ামাটির ইতিহাস এখানে টেকে না,
কেবল সাইকেলের ঘন্টি আর চায়ের দোকানের কেটলির বাষ্প
ডেকে নেয় আমাদের মাঝখানের সব না-বলা দূরত্ব।
ছবি, তোমার চোখের কিনারায় জমে আছে এই শহরের ক্লান্তি,
ডালিমের মতো লালচে সন্ধ্যার রোদ গলে পড়ে চালের খড়ের ওপর।
আমরা কি সত্যিই বেঁচে আছি, নাকি কোনো পুরনো উপন্যাসের পাতা?
দোকানগুলোর শাটার পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে খড়ের গাল্লি,
অথচ তোমার হাতের মুঠোয় এখনো লেগে আছে উষ্ণ বসন্তের চিল।
হে অবরুদ্ধ মফস্বল, তোমার এই ধুলোমাখা শহরের ক্যানভাসে
সমস্ত মহাকাব্য পুড়ে ছাই হয়ে যাক,
আমাদের এই ছোট শহরের প্রেম রক্তে লেখা একলা বিস্ফোরণ হয়ে থাকুক।