ভাতের চালের থলেটা ঘরে তুলতে গিয়েই
ফুরিয়ে যেত জীবনের সবটুকু সামর্থ্য,
বাকি থাকত কেবল এক মুঠো শূন্যতা
আর রোদের মতো চিলতে নিশ্বাস।
বাজারের থলিতে কোনোদিন মাছের লাল টুকটুকে চোখ উঁকি দেয়নি,
আমাদের পাতে কেবল জলের ফেনায় সেদ্ধ শাকপাতার সবুজ মায়ামুগ্ধ দিন।
ছোট্ট কুঁড়েঘরের চালে যখন বর্ষার ফোঁটাগুলো টিনের বাক্সের মতো বাজত,
তখন চাল কেনার হিসাব মেলাতে গিয়ে
মায়ের চোখের জল লুকোনোর জায়গা থাকত না।
আমরা যারা দিন আনি আর দিন খাই,
আমাদের সকাল শুরু হয় ভাঙা চায়ের কাপে,
আর দুপুর গড়ায় কেবল
দীর্ঘশ্বাসের নোনা জলে ভেজা ক্লান্ত এক দুপুরে।
পৃথিবীটাকে বড় সুন্দর বলে যারা, তাদেরকেও দেখেছি,
কিন্তু আমাদের এই নুন-ভাতহীন উঠানে
পৃথিবীটাকে কখনো সুন্দর লাগেনি।
বিকেল নামলে দূরের মোড় থেকে ভেসে আসা মাংসের রান্নার গন্ধটুকু ছাড়া,
আমাদের জীবনে সুবাস বলতে কেবল ঘরের কোণে জমে থাকা পোড়া কাঠের ধোঁয়া।
তবুও বেঁচে থাকা,
এই বেঁচে থাকাটাই হয়তো সবচেয়ে বড় এক লড়াকু উপাখ্যান,
যেখানে ভাত বাঁচানোর লড়াইয়ে হারিয়ে যায় ছোট ছোট সব আবদার।
রাত বাড়লে অন্ধকার যখন চারপাশটা আরও নিবিড় করে গ্রাস করত,
আমরা তখন অভুক্ত পেটে স্বপ্ন দেখতাম,
কোনো এক ভোরে চালের সঙ্গে যদি একটু মাছও মিলত!