সাহেব, রেশনের খাতার পাতা উল্টে লাভ নেই,
আমাদের পাঁজরের হাড়গুলো এখন দুর্ভিক্ষের ম্যানিফেস্টো।
রেশনের কেরোসিন তেলের ক্যানে পড়ে আছে মরা মশা,
আর গাছের পাতার মতো খসে পড়ছে মানুষের জীবন।
শহরের পিচঢালা রাস্তায় শুয়ে থাকা কংকালসার কুকুরটার
চোখের দিকে তাকাও, ওটা কোনো সাধারণ চোখ নয়,
ওটা আসলে এই স্বাধীন দেশের ডাসবিন থেকে উপচে পড়া আদিমতম অভিশাপ।
কলকারখানার ইঞ্জিনগুলো আজ বন্ধ,
কিন্তু পেটের ভেতরটা অবিরত বেজে চলেছে সাইরেনের মতো।
রাস্তায় নামলেই দেখা যায় কাস্তে হাতে একদল লোক,
যাদের চোখে, মুখে কেবল ক্ষুধার হাহাকার।
ওরা নাকি বিপ্লব করবে,
কিন্তু ওদের রক্তে তো শুধু খিদের চোটে জমে থাকা নোনা জল!
বড় বড় দালানকোঠার ছাদ চুয়ে নেমে আসছে থিকথিকে রক্ত,
আর নিচে দাঁড়িয়ে আমরা চিবিয়ে খাচ্ছি ইটের গুঁড়ো।
মৃত্যু এখানে কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়,
মৃত্যু হলো সংখ্যার মতো প্রতি মুহূর্তের এক দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চুক্তি।
সংসদের টেবিলে যখন কফি কাপের উষ্ণ বাষ্প ওড়ে,
তখন বস্তির রান্নাঘরে ফোটেই না কোনো চালের ভাত।
এ এক আশ্চর্য দেশ,
যেখানে মানুষ জন্মায় কেবল চালের দাম বাড়ার খবর শুনতে শুনতে।
মনে রেখো, আমাদের এই শূন্য থালাগুলো একদিন
আছড়ে পড়বে তোমাদের এই ভোজসভার টেবিলে।
তখন বুঝতে পারবে, ক্ষুধার চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই,
পৃথিবী ধ্বংস করে ক্ষুধা, পৃথিবী গড়ে ক্ষুধা।
আর তোদের এই সোনার বাংলায় আসলে ক্ষুধার চাষ হয়।
এটা একটা মস্ত বড় বধ্যভূমি!