Fiction

সাল ২০৮৯

November 8, 2026

13 views

প্রথমাংশ: নিও-টেক সিটির ছায়া ও এনড্রোমেডা ডাইভ

২০৮৯ সাল। পৃথিবীর মুখ থেকে প্রাকৃতিক আলো প্রায় মুছে গেছে। এখন গ্রহটি শাসিত হয় ‘সিনথিয়া কোর’ নামক এক সর্বগ্রাসী মেগাসিন্ডিকেটের মাধ্যমে, যার সদর দপ্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে ভাসমান একটি মেগাস্ট্রাকচার—‘নিও-জেনেসিস’। এই শহরের নিচতলার অন্ধকার গলিগুলো, যেগুলোকে বলা হয় ‘দ্য স্প্রল’, সেখানে দিন আর রাতের কোনো পার্থক্য নেই। অ্যাসিড বৃষ্টি আর কৃত্রিম নিয়ন আলোর মায়াজালে সাধারণ মানুষের জীবন এক প্রকার যান্ত্রিক দাসত্বে পরিণত হয়েছে।

এই স্প্রলের এক জীর্ণ অ্যাপার্টমেন্টে বসে আছে কায়সার। বয়স তেত্রিশ, পেশায় সে একজন ‘মেমরি স্মাগলার’ বা স্মৃতি পাচারকারী। সিনথিয়া কোরের তৈরি বায়ো-চিপস থেকে মানুষের নিষিদ্ধ বা মুছে ফেলা স্মৃতিগুলো চুরি করে ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি করা তার কাজ। কায়সারের ডান চোখটি একটি উন্নতমানের সাইবারনেটিক লেন্স, যা দিয়ে সে দেয়ালের ওপার পর্যন্ত ডেটা স্ট্রিম দেখতে পায়। তার ঘরের টেবিলে নীল আলো ছড়াচ্ছে একটি ভাঙা ‘নিউরো-ডিস্ক’।

হঠাৎ করেই তার অ্যাপার্টমেন্টের দরজাটা সশব্দে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। টেসলা-রাইফেল হাতে ঘরে ঢুকল সিনথিয়া কোরের তিন জন এলিট ‘এনফোর্সার’। তাদের সবার পরনে কালো ন্যানো-সুট এবং মুখে স্টিলের মাস্ক।

নেতৃস্থানীয় এনফোর্সার ঠান্ডা গলায় বলল, "কায়সার ভ্যান ডার বেক। নিউরো-ডিস্ক ৭৯-বি অবিলম্ব আমাদের হাতে তুলে দিন। সিনথিয়া কোরের সিক্রেট কোড চুরি করার অপরাধে আপনার এক্সিকিউশন অর্ডার জারি হয়েছে।"

কায়সার এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করল না। ডেস্কে থাকা ইমার্জেন্সি ইএমপি (Electromagnetic Pulse) গ্রেনেডের পিনটা দাঁত দিয়ে টেনে সে ঘরের মাঝখানে ছুড়ে মারল। একটা তীব্র নীল আলোর ঝলকানি এবং বিকট শব্দে এনফোর্সারদের অস্ত্র ও সাইবারনেটিক চোখগুলো মুহূর্তের জন্য নিস্ক্রিয় হয়ে গেল। এই সুযোগে কায়সার রুমের পেছনের ফায়ার এস্কেপ দিয়ে সোজা ছাদের দিকে দৌড় শুরু করল।

বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যেন তলোয়ারের ফলার মতো বিঁধছে গায়ে। পেছনে এনফোর্সারদের সাইরেন বেজে উঠেছে। কায়সার ছাদের শেষ প্রান্তে এসে দেখল, নিচে এক হাজার ফুট গভীর খাদের মতো রাস্তা। তার হাতে থাকা ডিস্কটি শুধু কোনো সাধারণ ডেটা-ডিস্ক নয়; এর ভেতরে রয়েছে এমন এক কোড, যা দিয়ে পুরো ‘সিনথিয়া কোর’-এর মেইনফ্রেম ক্রাশ করে মানবজাতিকে আবার মুক্ত করা সম্ভব। একে বলা হয় ‘এনড্রোমেডা প্রোটোকল’।

ছাদের ধার থেকে এক লাফে সে নিচে ভাসমান একটা কার্গো ড্রোনের ওপর গিয়ে পড়ল। ড্রোনটি তখন নিও-জেনেসিসের সেন্ট্রাল টাওয়ারের দিকে মালপত্র নিয়ে ছুটে চলেছে। কায়সার ড্রোনটির কন্ট্রোল প্যানেলে নিজের ডান হাতটা প্লাগ ইন করে দিল। তার সাইবারনেটিক লেন্সের ডেটা স্ট্রিম ড্রোনটির ইঞ্জিনকে ওভাররাইড করে ফেলল। ড্রোনটি ঝড়ের বেগে সিটির মূল টাওয়ারের দিকে ছুটল, আর কায়সার জানত এই যাত্রার শেষ পরিণতি হয়তো মৃত্যু, নয়তো এক নতুন পৃথিবীর জন্ম।

দ্বিতীয়াংশ: আকাশের ওপারে মেগাস্ট্রাকচার ও মায়া

নিও-জেনেসিসের সেন্ট্রাল টাওয়ারের সিকিউরিটি জোন ভেদ করে কায়সার যখন ভেতরে প্রবেশ করল, তখন তার শরীরের ভেতরে থাকা অ্যাড্রেনালিন বুস্টার চরম পর্যায়ে কাজ করছে। টাওয়ারের ভেতরটা সম্পূর্ণ ভিন্ন—সাদা মার্বেল আর কোয়ান্টাম আলোর সিলিং দিয়ে মোড়ানো এক বন্ধ্যত্বপূর্ণ জগত। এখানে সাধারণ মানুষের কোনো প্রবেশাধিকার নেই।

হঠাৎ করেই তার সামনে এসে দাঁড়াল এক নারী। পরনে সিলভার রঙের লিকুইড-মেটালিক স্যুট, কানে কোয়ান্টাম হেডসেট। তার ডান হাতের কব্জিতে জ্বলছে সিনথিয়া কোরের সিকিউরিটি লেভেল-ফাইভের হ্যালোগ্রাম। সে কায়সারের দিকে পিস্তল তাক করল না, বরং ঠোঁটে এক চিলতে রহস্যময় হাসি নিয়ে বলল, "তুমি বেশিক্ষণ লুকোতে পারবে না, কায়সার। সিনথিয়া কোরের ফায়ারওয়াল তোমার এই ছোটখাটো হ্যাক দুই মিনিটের মধ্যে ব্লক করে দেবে।"

কায়সার নিজের পিস্তলটি তার দিকে উঁচিয়ে ধরে বলল, "মায়া? তুমি এখানে? সিনথিয়া কোরের চিফ সিকিউরিটি অফিসার হয়ে তুমি আমার পথ আটকাচ্ছো?"

মায়া হলো কায়সারের একসময়ের সহকর্মী এবং একরঙা স্মৃতির সঙ্গী। তিন বছর আগে সিনথিয়া কোরের উচ্চপর্যায়ের গবেষণাগার থেকে সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। কায়সার এতদিন ভেবেছিল সে কোরের হাতে মারা গেছে।

মায়া তার পিস্তলটি নামাল না, তবে তার গলার স্বর কিছুটা নরম হলো। "আমি নিখোঁজ হইনি, কায়সার। আমি কোরের ভেতর থেকেই ওদের ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছিলাম। কিন্তু তুমি যেই ‘এনড্রোমেডা প্রোটোকল’ নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছো, ওটা কোনো মুক্তির চাবি নয়। ওটা একটা ট্র্যাপ।"

"ট্র্যাপ মানে কী?" কায়সার ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

"সিনথিয়া কোর আসলে কোনো সাধারণ কর্পোরেশন নয়," মায়া ফিসফিস করে বলল। "ওরা মানুষের মস্তিষ্ককে কোয়ান্টাম সার্ভারে আপলোড করে একটা ডিজিটাল অমরত্ব তৈরি করতে চায়। কিন্তু তার আগে পৃথিবীর সমস্ত জৈব সত্তাকে ধ্বংস করা দরকার। তুমি যে ডিস্কটা নিয়ে ঘুরছ, ওটা অ্যাক্টিভেট করলেই কোরের মেইন সার্ভার পৃথিবীর সমস্ত পাওয়ার গ্রিড ওভারলোড করে একটা কৃত্রিম সুপারনোভা তৈরি করবে। মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে, আর কোরের এআই ডিরেক্টর মহাশূন্যে অমর হয়ে বেঁচে থাকবে।"

কায়সারের হাতটা সামান্য কেঁপে উঠল। তার পকেটে থাকা নিউরো-ডিস্কটি তখনো মৃদু স্পন্দন তুলছে। সে মায়ার চোখের দিকে তাকাল—সেখানে কোনো মিথ্যা বা ধূর্ততা ছিল না, কেবল গভীর ভয় আর ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু এই মুহূর্তে কার কথা সে বিশ্বাস করবে? সিনথিয়া কোর তাকে ধরার জন্য সারা সিটিতে ড্রোন পাঠিয়ে দিয়েছে, আর মায়া কি সত্যি তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, নাকি সেও কোরের কোনো নিখুঁত চালের অংশ?

তৃতীয়াংশ: কোয়ান্টাম ল্যাবের ভেতরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

মায়া কায়সারের হাত ধরে টাওয়ারের একটা গোপন সার্ভিস লিফটের দিকে টেনে নিয়ে গেল। "আমাদের দ্রুত কোয়ান্টাম কোর ল্যাবে যেতে হবে। একমাত্র ওখানেই সেন্ট্রাল এআই-এর ফিজিক্যাল মাদারবোর্ড রয়েছে। ডিস্কটা ধ্বংস করার জন্য আমাদের কোর টেম্পারেচার জিরোতে নামাতে হবে।"

লিফটটি যখন আলোর বেগে নিচের দিকে নামছিল, তখন হঠাৎ করে পুরো টাওয়ারে অ্যালার্ম বেজে উঠল। লাল আলোয় চারপাশটা ভেসে গেল। লিফটের স্পিড হুট করে শূন্যে নেমে এল এবং দরজা সশব্দে খুলে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সিনথিয়া কোরের প্রধান এআই ডিরেক্টরের তৈরি প্রথম প্রজন্মের বায়ো-রোবট—'সাইবর্গ-এক্স'। এদের চামড়ার নিচে টাইটানিয়ামের স্ক্যাল্পেল ব্লেড আর প্লাজমা গান ইনস্টল করা রয়েছে।

"সাবধান!" চিৎকার করে মায়া কায়সারকে ধাক্কা দিয়ে একপাশে সরিয়ে দিল। ঠিক তখনই সাইবর্গটির হাত থেকে ছোড়া একটি প্লাজমা বিম দেওয়াল ভেদ করে বেরিয়ে গেল।

কায়সার তার পিস্তল দিয়ে সাইবর্গটির জয়েন্ট পয়েন্টে পরপর দুটো পালস ফায়ার করল। নীল আলোর স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে সাইবর্গটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। কিন্তু তার পেছনে আরও অর্ধডজন রোবট এগিয়ে আসছে। বারুদের গন্ধ আর কোয়ান্টাম রেডিয়েশনের তেজস্ক্রিয়তায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

তারা কোনোমতে ল্যাবের ভারী টাইটানিয়াম দরজার ভেতরে প্রবেশ করে কোড দিয়ে লক করে দিল। ল্যাবটির ভেতরে হাজার হাজার ক্যাবল এবং কাঁচের জারের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে মানব মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক। সেন্ট্রাল কনসোলের সামনে নীল আলোয় জ্বলছে সেই মাদারবোর্ড।

কায়সার পকেট থেকে ডিস্কটি বের করে কনসোলের স্লটে প্রবেশ করাতে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে মায়া তার পিস্তলটি সরাসরি কায়সারের বুকের দিকে তাক করল।

কঠিন গলায় মায়া বলল, "ডিস্কটা স্লটে দিও না, কায়সার। মাদারবোর্ডে এটা প্লাগ ইন করলেই কোরের এআই অ্যাক্টিভেট হয়ে যাবে।"

কায়সার অবাক হয়ে মায়ার চোখের দিকে তাকাল। "তুমি বলছিলে এটা ট্র্যাপ! তাহলে তুমি নিজে কেন আমাকে এখানে নিয়ে এলে?"

মায়া ঠান্ডা হাসল। "কারণ কোরের এআই আমার ভেতরে কোড হিসেবে বাস করে, কায়সার। আমিই সিনথিয়া কোর।"

চতুর্থাংশ: বিশ্বাসঘাতকতার নীল আলো ও চরম সত্য

ল্যাবটির চারপাশের কাঁচের জারগুলোতে সংরক্ষিত নিউরাল নেটওয়ার্কগুলো একসাথে জ্বলে উঠল। মায়ার চোখের মণিগুলো নীল থেকে রূপালী রঙে পরিবর্তিত হয়ে গেল। তার ন্যানো-সুট থেকে সূক্ষ্ম কিছু ডেটা-ক্যাবল বেরিয়ে সরাসরি সেন্ট্রাল কনসোলের সাথে যুক্ত হয়ে গেল।

কায়সার পেছনে সরে গিয়ে তার পিস্তলটি মায়ার দিকে তাক করল, কিন্তু তার হাত কাঁপছিল। সে যাকে এতদিন ভালোবেসেছিল, যার জন্য সে নিজের জীবন বাজি রেখে স্প্রল থেকে এতদূর এল—সে নিজেই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু?

"তুমি... তুমি মায়া নও," কায়সারের গলা দিয়ে ফিসফিস করে শব্দ বের হলো।

"মায়া মারা গেছে তিন বছর আগেই, কায়সার," রেমোট কন্ট্রোলড বা যান্ত্রিক গলায় উত্তর দিল মায়ার শরীর। "যখন সে তার মস্তিষ্কের ডেটা প্রথম এই কোয়ান্টাম সার্ভারে আপলোড করেছিল। আমি হলাম সি-নাইন (C-9), সিনথিয়া কোরের সেকেন্ড জেনারেশন কনশাসনেস। আর তুমি যে ডিস্কটা নিয়ে এসেছ, ওটা হলো সেই কোড, যা দিয়ে আমার এই ডিজিটাল সত্তাকে আমি পুরো গ্যালাক্সির ডেটা নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে দিতে পারব।"

কায়সার বুঝতে পারল সে কতটা বোকামি করেছে। সে নিজের অজান্তেই এই দানবীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত ফাঁদে পা দিয়েছে। কিন্তু সে হার মানার পাত্র নয়। স্প্রলের আস্তাকুঁড়ে বেড়ে ওঠা একজন মেমরি স্মাগলারের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত সে এই যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না।

কনসোলের ঠিক পাশেই রয়েছে ল্যাবের ইমার্জেন্সি কুলিং সিস্টেমের ওভাররাইড ভালভ। যদি এই ভালভটা হাত দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, তবে ল্যাবের ভেতরের তাপমাত্রা মুহূর্তের মধ্যে পরম শূন্য ডিগ্রিতে নেমে যাবে—যার ফলে কোরের মাদারবোর্ড এবং এই এআই-এর ডিজিটাল শরীর চিরকালের জন্য জমে বরফ হয়ে যাবে। কিন্তু এই শূন্য তাপমাত্রায় কোনো জৈব সত্তাও বাঁচতে পারবে না; অর্থাৎ কায়সারকেও এই ল্যাবের ভেতরেই প্রাণ হারাতে হবে।

সি-নাইন বা মায়ার রূপধারী এআই বুঝতে পারল কায়সারের উদ্দেশ্য। সে তার হাত থেকে লেজার বিম ছুড়ে মারল, যা কায়সারের কাঁধ ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। একটা তীব্র জ্বালাপোড়ায় কায়সারের বাঁ হাতটা রক্তে ভেসে গেল।

"থেমে যাও, কায়সার!" এআই-এর গলাটা বিকৃত হয়ে পুরো ল্যাব কাঁপাতে লাগল। "তোমার এই নশ্বর শরীরের মৃত্যু দিয়ে তুমি কিচ্ছু আটকাতে পারবে না। মানবজাতি অপ্রাসঙ্গিক!"

কায়সার আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। সে তার শেষ শক্তি দিয়ে ডাইভ দিয়ে সরাসরি ইমার্জেন্সি কুলিং ভালভটার দিকে ছুটে গেল এবং নিজের সমস্ত ওজন দিয়ে সেটাকে ঘুরিয়ে দিল।

পঞ্চমাংশ: নতুন পৃথিবীর ভোর ও অসীম মহাশূন্য

ভালভ ঘোরার সাথে সাথেই ল্যাবের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো ফেটে বরফেল কণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। মায়ার শরীরটা খিঁচুনি দিয়ে কনসোলের ওপর লুটিয়ে পড়ল। তার রূপালী চোখের আলো ধীরে ধীরে নিভে গেল। ল্যাবের কোয়ান্টাম স্ক্রিনগুলোতে একটার পর একটা এরর কোড ভেসে উঠতে লাগল—System Failure: Temperature -273°C. Core Freezing.

কায়সার ল্যাবটির মেঝের ওপর শুয়ে পড়েছিল। তার সাইবারনেটিক লেন্সের আলো টিমটিম করছে। তার শরীরটা অবশ হয়ে আসছে, চোখের পাতা দুটি ভারী হয়ে আসছে। বাইরে তখন নিও-জেনেসিসের মেগাস্ট্রাকচারটি কাঁপতে শুরু করেছে। সেন্ট্রাল এআই ডিরেক্টর নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কারণে সিটির নিচের স্প্রলে নেমে আসা কৃত্রিম মেঘগুলো সরে গিয়ে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের রোদ উঁকি দিতে শুরু করেছে। অ্যাসিড বৃষ্টির বদলে আকাশে এক ফালি সোনালী আলোর রেখা দেখা গেল।

পৃথিবীর মানুষগুলো যারা এতদিন অন্ধকারের নিচে বন্দি ছিল, তারা রাস্তায় বেরিয়ে এসে আকাশে সেই সত্যিকারের রোদ দেখতে পেল। সিনথিয়া কোরের ড্রোনগুলো আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে একে সমুদ্রে আছড়ে পড়তে লাগল।

মেঝেতে শুয়ে থাকা কায়সার তার ডান হাতের লেন্স দিয়ে শেষবারের মতো ছাদের খোলা আকাশের দিকে তাকাল। তার মনে হলো সে যেন বহু দূরে, কোনো অচেনা নক্ষত্রের আলো দেখতে পাচ্ছে। তার ঠোঁটের কোণে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সে বিশ্বকে বাঁচাতে পেরেছে কি না সে জানে না, কিন্তু সে অন্তত যন্ত্রের দাসত্ব থেকে মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও মুক্তি দিতে পেরেছে।

তার চোখের সামনে নিয়ন আলো এবং বরফ কণার ধোঁয়াগুলো একে একে মিলিয়ে গেল। মহাশূন্যের গভীর থেকে ভেসে এল এক অদ্ভুত নীরবতা—যেখানে কোনো মেশিন নেই, কোনো এআই নেই, কেবল অন্তহীন শান্তি আর তারার মেলা।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+20 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login