মেঘের ওপারে ওই রূপালি আকাশ
বহে চিরস্নিগ্ধ এক উদাসী বাতাস।
নিঃশব্দে জেগে রয় সুদূর শিখর
ধরণীর কোলাহল ছেড়েছে প্রহর।
নীলিমার আঁচলেতে ভোরের কিরণ
মুছে দেয় নিমিষেই ব্যথিত রোদন।
মাটির মায়াটি ফেলে দূরে বহু দূর
ভেসে আসে কোথা হতে মায়াবী সুর।
ধবল বরফ-ঢাকা গিরিশ্রেণী মাঝে
অনন্ত শান্তির সুর হৃদয়েতে বাজে।
রক্তে দোলা দিয়ে যায় অপার্থিব গান
শান্তিতে জুড়িয়ে রয় তৃষিত এ প্রাণ।
এখানে পথের শেষে পাওয়া যায় দিশা
কেটে যায় জীবনের যত অমানিশা।
পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কুয়াশার ছায়া
জগতের সব ভুল যেন মিছে মায়া।
পাখিদের কলতানে জেগে ওঠে ভোর
ছুটে যায় মহাকালো আঁধারের ঘোর।
প্রকৃতির বুকে যেন মেলেছে পশরা
ভেঙে চুরে একাকার সকল অধরা।
কাছে এলে মনে হয় ধুয়ে গেছে পাপ
জুড়িয়ে গিয়েছে বুক মুছে গেছে তাপ।
রবের পদধ্বনি বাজছে অবিরত
চিরতরে ভালো হয় হৃদয়ের ক্ষত।
সীমানার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়ায় প্রাণ
স্তব্ধতায় মুখরিত বিধাতার দান।
মাটি ও অম্বর মিলে হয়েছে বিলীন
স্বর্গের কাছাকাছি আমি একা স্বাধীন।