একটি পুরোনো বটগাছের মগডালে ছোট্ট একটা চড়ুই পাখি থাকতো। ঝড় ঝাপটায় তার ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সে রোজ রোজ কষ্ট করে এদিক সেদিক উড়ে উড়ে খুব যত্ন করে কিছু শুকনো খড়কুটো আর নরম পালক সংগ্রহ করে জমিয়ে রেখেছিল। তার ইচ্ছে ছিল, বর্ষা আসার আগে এই খড়কুটো দিয়ে সে একটা ছোট্ট বাসা বুনবে।
একদিন চড়ুইটাকে খাবারের খোঁজে দূরের মাঠে যেতে হলো। যাওয়ার আগে সে পাশের ডালের এক কাঠবিড়ালীকে বলল, "ভাই, আমি একটু ওদিকের মাঠে যাচ্ছি, এই খড়কুটোগুলো একটু খেয়াল রেখো।" কাঠবিড়ালীও মাথা নেড়ে সায় দিল।
চড়ুইটা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বনের এক চিল এসে হাজির হলো। চিলটা কাঠবিড়ালীকে গিয়ে বলল, "চড়ুই আমাকে পাঠিয়েছে। ও বলল এই খড়কুটোগুলো এখনই আমার বাসায় নিয়ে যেতে,, ও নাকি ওখানেই বাসা বাঁধবে।"
কাঠবিড়ালী চিলের মতো অত বড় পাখিকে দেখে একটু ভয়ও পেল, আবার সরল বিশ্বাসে চড়ুইকে একটা ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও মনে করল না। সে বলল, "আচ্ছা, চড়ুই যখন বলেছে, নিয়ে যান।" চিল সবগুলো খড়কুটো নিয়ে উড়ে চলে গেল।
সন্ধ্যায় চড়ুই ফিরে এসে যখন দেখল তার জমানো খড়কুটো একটাও নেই, সে অবাক হয়ে কাঠবিড়ালীকে জিজ্ঞেস করল। কাঠবিড়ালী সব খুলে বলতেই চড়ুই চুপ হয়ে গেল।
একেবারে নিথর চুপ। কারণ চিল তার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবার ব্যাপারটা ভালো করেই জানতো এবং এটাও জানতো যে, সে রোজ রোজ অনেক কষ্ট করেই খড়কুটোগুলো জোগাড় করেছে নতুন করে বাসা বানানোর জন্য চড়ুইয়েরও ইচ্ছে ছিলো যেনো এবার বানানো ঘরে বিপদের সময় চিল, কাঠবিড়ালি সহ সবাইকে আশ্রয় দেয়া যায়।
চড়ুইয়ের খুব মন খারাপ হলো। আসলে কষ্ট খড়কুটো হারানোর জন্য অতটা ছিল না, ওগুলো সে আবার কষ্ট করে কুড়িয়ে আনতে পারবে। তার সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো যে, চিলটা বনের সবার সামনে চড়ুইয়ের ডানার ছায়া হয়ে ঘোরার ভান করত, সে আড়ালে চড়ুইয়ের নাম ভাঙিয়ে এমন একটা কথা বললো যা সম্পূর্ণই তার অজান্তে।
শেষ কথাঃ
কিছু খড়কুটো হয়তো আবার জমিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু চিলের মতো পাখিদের প্রতি যে বিশ্বাসটা হারিয়ে যায়, তা কি আর কখনো ফিরে আসে?