Article

৩৬শে জুলাই

August 29, 2026

48
View

কি ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট। দেখতে দেখতে প্রায় দুটি বছর চলে গিয়েছে। একটা সময় দেখা যাবে চোখের পলকে ধরে যায় ২০২৬ শেষে ২০২৭ চলে এসেছে। ঠিক তেমনি ২০২৪ ও চলে গিয়েছিল চোখের পলকে। কিন্তু, এই ২০২৪ অজস্র স্মৃতি রেখে গিয়েছিল বাংলা ইতিহাসে। এই সালটিতে যেন বাঙালিরা পেয়েছে একটি নতুন স্বাধীনতার মুখ। এই বছরটিতে ঘটে গিয়েছিল অনেক জানা-অজানা ঘটনা। 

বছরের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, অন্যান্য দেশে নির্বাচন হলে জনগণ নিজের ভালো-মন্দ দেখার পর যেকোনো একজনকে তাদের নেতা হিসেবে বেছে নেয়। তবে এ দেশে তার উল্টোটা হয়। যাই হোক,গত  বছরও সেই বিশাল  জোঁকবাহিনীর  বিজয় হয়েছিল।

এরা হলো সেই জোঁকবাহিনীর যারা ১৫ টি বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের রক্ত চুষে খেয়েছে । গতবারও তারা মানুষের রক্ত খাওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছিল। কিন্তু কারাই বা জানতো যে এই জোঁক বাবা জীবনদের এটাই শেষ বিজয়। এই জোঁকবাহিনী টার বেশ সুনাম ছিল দেশে-বিদেশে। অন্য দেশরা হয়তো ভেবেছিল এই জোঁকবাহিনী আমাদের এই দেশকে উন্নত করে তুলবে। ভিনদেশীরা জানতো না এই জোঁকবাহিনীটা ছিল বাইরে ফিটফাট; ভিতরে সদরঘাট। তারা বিজয়ী হওয়ার পর উন্নয়নের নামে বিভিন্ন অপকর্ম করতে থাকে। তারা আবারো  বাঙ্গালীদের উপর জুলুম করতে শুরু করে। এভাবে কিছু মাস কেটে যাওয়ার পর জুন-জুলাই মাস থেকে দেখা যায় ১৯৭১ এর প্রতিচ্ছবি। শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। 

এটি “কোটা আন্দোলন ” নামে পরিচিত ছিল। বাংলার অদম্য ছেলে - মেয়েরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। তবে আন্দোলনের প্রধান বিষয় ছিল “কোটা পদ্ধতি ”। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক অযোগ্য শিক্ষার্থী যোগ্যের পাত্র হয়। আর যারা যোগ্য তাদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়। এই কোটা পদ্ধতি একটি অভিশাপ, যার যোগ্য এবং অযোগ্য এর মধ্যে মিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলে। এতে করে আমাদের দেশের প্রতি অনেক বড় প্রভাব পড়ে।

পরবর্তী অংশ........

যা অনেক সময় দূর্ঘটনা ও দূর্দশার কারন হয়ে দাড়ায়। ছাত্র ছাত্রীরা এই যোগ্য মানুষ ও দেশের কথা ভেবে নেমেছিল তাদের অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু সেই স্বৈরাচারীর দল তাদের উপর জ্বালিয়েছিল নির্মমতার মশাল। প্রথম দিকে স্বৈরাচারী দলের প্রধান সবাইকে একটি মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিল। জোঁকবাহিনী ভেবেছিল এই মিথ্যা আশ্বাস ছাত্র-ছাত্রীদের দমিয়ে রাখতে পারবে কিন্তু তারা পারেনি। ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে জোঁকবাহিনীর প্রধান ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। জোঁক প্রধানের নাম ছিল 'হা' জোঁক, এই 'হা' জোঁকের নির্দেশে নিহত হয় অসংখ্য শিক্ষার্থী। ঐ 'হা' জোঁকের নির্দেশে পুলিশ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর চালায় মর্মান্তিক রণক্ষেত্রের গুলি । তাদের গুলিতে মারা যায় কারো ভাই, কারোর বোন বা কারোর আদরের সন্তান। রাস্তায় রাস্তায় রক্তের বন্যা বলছিল এ যেন এক ১৯৭১ এর প্রতিচ্ছবি। এই আন্দোলনের মধ্যে আবু সাঈদও ছিল একজন সমন্বয়ক। আবু সাঈদ আমার কাছে বাংলায় নায়ক। আবু সাঈ নিজের প্রাণের ঝুকি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো অস্ত্রধারী কুকুরদের সামনে তারপর.....আবু সাঈদ চলে গেল এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। আবু সাঈদের মত সমন্বয়ক মুগ্ধ। সে মানুষের মাঝে পানি বিতরণ করছিল। তার মুখের বাণী ছিল, "পানি লাগবে পানি..."

হঠাৎ একটা শব্দ.... মুগ্ধ লুটিয়ে পরলো মাটিতে আর শেষ... মুগ্ধও চলে গেল।

এভাবে প্রাণ গিয়েছে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর। 'হা' জোঁক এসব ঘটনা মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে বলেছিল বুলেট গুলির গল্প। বুলেট গুলির গল্পের পেছনে হা জোঁকের বাহিনী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা করেছিল হেলিকপ্টারের সাহায্যে সাথে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য আসল গুলির ব্যবহার করেছিল। হা জোঁক যখন তার নির্মমতার চরম পর্যায়ে চলে যায় তখন আন্দোলনকারীরা উত্তেজিত হয়ে যায় আর এই আন্দোলন রূপ নেয় গণ আন্দোলনে। কিছুদিন যাওয়ার পর, যখন হা জোঁক সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তখন পরিবেশ অনেক থমথমে হয়ে যায়। জোঁক বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল পুরো দেশের। দেশের মানুষের ভোগান্তি দেখে ছাত্র-জনতা ক্ষেপে গিয়ে আবারো আন্দোলন শুরু করে। এবার তারা সরাসরি সংসদ ভবনের দিকে যেতে থাকে। সবকিছু উপেক্ষা করে পুরো দেশের মানুষ এগিয়ে যাচ্ছিল ঢাকার সাভারে। আর কেউ তাদের থামাতে পারেনি কারণ, সবাই জানতো ছাত্ররা যদি কোনো লক্ষ্য আদায়ের জন্য লড়তে থাকে তাহলে তাদেরকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।

৫ আগস্ট ২০২৪ সকালের ঘটনা :

সকালে ফজরের আজান দিয়েছে।হা জোঁক সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করে আল্লাহর নিকট দুহাত তুলে দোয়া করে। তবুও তার দোয়াটা কেন জানি কবুল হলো না। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে খবর পাই আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের দিকে ধেয়ে আসছে। এমনকি দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ ও ছাত্র জনতার পক্ষে। এসব শোনার পরও 'হা' জোঁক দমতে চাইনি। তিনি তার বোন 'রে' জোঁক এবং তার ছেলে 'জ' জোঁকের সাথে বৈঠক করেন। তার বোন এবং ছেলে তাকে আরাম আয়েশ এবং মানুষের উপর অত্যাচারের ইতি টানতে বলে। অর্থাৎ তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে হা জোঁক রাজি হতে চাচ্ছিল না। তাহার ছেলে 'জ' জোঁক তার মাকে বেশ কিছুক্ষন বোঝানোর পর সে পদত্যাগ করতে রাজি হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার পদত্যাগ হয়। এরপর সেই 'হা' জোঁক হেলিকাপ্টারের সাহায্যে দেশ থেকে পালিয়ে যান। তার সাথে সাথে দেশ থেকে সব অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, গুম ও মানুষের কষ্টের শেষ হয়। আমরা আগেও স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু তার স্বাদ গ্রহণ করতে পারিনি। এটি আমাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ নতুন করে স্বপ্ন দেখার ও বাস্তবায়ন করার। দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে যেমন সতর্ক হতে হবে তেমনি সরকারকে শুধু নিজের স্বার্থ দেখলে হবে না জনগণের কথাও ভাবতে হবে। সবাই সবার অবস্থান থেকে অন্যায় বিরোধী, প্রতিবাদী এবং ন্যায়পরায়ণ হলেই আমাদের এই বাংলাদেশ সুন্দর হয়ে উঠবে। তবেই না একটি দেশ পরিপূর্ণ হবে।

Comments

    Please login to post comment. Login