Poetry

কথার ভেতর কথা ১

September 10, 2026

16
View

ইভান:
আজ তোমার কণ্ঠে একটা চাপা ক্লান্তি আছে, এস্তেজা। কি ভাবছো?

এস্তেজা:
ভাবছি… সম্পর্কগুলো কখন যেন হিসাবের খাতায় চলে যায়। আগে যেখানে শুধু “থাকা”টাই যথেষ্ট ছিল, এখন সেখানে “কে কতটা দিল”—এই হিসাবটা বড় হয়ে যায়।

ইভান:
সব সম্পর্কই কি এমন হয়ে যায়, নাকি মানুষ বদলায়?

এস্তেজা:
মানুষই বদলায়। অথবা… হয়তো ভেতরের আসল রূপটাই ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে। কেউ দিতে দিতে একসময় ক্লান্ত হয়ে যায়, আর কেউ নিতে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

ইভান:
যে দেয়, সে কি ভুল করে?

এস্তেজা:
না, দেওয়া কখনো ভুল না। কিন্তু অন্ধভাবে দিয়ে যাওয়া… সেটাই ভুল। কারণ তখন সে আশা করে—একদিন কেউ তার দিকেও তাকাবে। আর যখন তাকায় না, তখন কষ্টটা গভীর হয়।

ইভান:
কষ্টটা কি অবহেলার, নাকি ভেঙে যাওয়া প্রত্যাশার?

এস্তেজা:
দুটোই। অবহেলা চোখে পড়ে কিন্তু প্রত্যাশা ভাঙার শব্দটা ভেতরে ভেতরে বেশি বাজে। বাইরে কেউ কিছু বুঝে না কিন্তু ভেতরে একটা নীরব দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।

ইভান:
তাহলে কি করা উচিত? নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া?

এস্তেজা:
গুটিয়ে নেওয়া না… নিজেকে বুঝে নেওয়া। নিজের সীমা ঠিক করা। সবসময় সবাইকে দিয়ে গেলে, একসময় নিজের জন্য কিছুই থাকে না।

ইভান:
কিন্তু সম্পর্ক তো ত্যাগ চায়, তাই না?

এস্তেজা:
চায়, কিন্তু একপাক্ষিক ত্যাগ না। সম্পর্ক মানে দু’জনের পথচলা। একজন যদি শুধু দেয় আর অন্যজন শুধু নেয়—তাহলে সেটা সম্পর্ক না, সেটা অভ্যাস।

ইভান:
তুমি কি কষ্ট পাচ্ছো?

এস্তেজা:
কষ্টটা নতুন না, ইভান। শুধু আজ একটু বেশি অনুভব করছি। মাঝে মাঝে মনে হয়—মানুষ আসলে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু সময় এলে পাশে থাকে না।

ইভান:
আমি একটা কথা বলবো?

এস্তেজা:
বল।

ইভান:
সবাই হয়তো পাশে থাকবে না… কিন্তু কেউ কেউ থাকে। খুব কম কিন্তু সত্যিকারের। তাদের জন্যই হয়তো আমরা এখনও বিশ্বাসটা পুরোপুরি হারাই না।

এস্তেজা:
হয়তো ঠিকই বলছো… তাই এখন আর সবার কাছে কিছু আশা করি না।শুধু যারা সত্যি থাকে, তাদেরটাই ধরে রাখতে চাই।

ইভান:
আর নিজেকে?

এস্তেজা:
নিজেকে এবার একটু বেশি গুরুত্ব দিতে শিখছি।

ইভান:
এটাই দরকার ছিল। কারণ… যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে, সে কোনো সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না।

এস্তেজা:
তুমি থাকো বলেই হয়তো এই কথাগুলো বলতে পারি।

ইভান:
আমি আছি… সবসময়, তোমার ওই “নীরব জায়গাটার” পাশে।

Comments

    Please login to post comment. Login