এস্তেজা: ইভান, আমরা একটা অদ্ভুত দেশে বাস করি। যেখানে লাখ লাখ তরুণের জন্য চাকরি খুঁজতে খুঁজতে আমরা পুরোনো কয়েকটা খাতের দরজায় বারবার কড়া নাড়ি। অথচ পৃথিবী যখন নতুন নতুন বাজার তৈরি করছে, আমরা সেসব বাজারের খবরই রাখি না।
ইভান: কোন বাজারের কথা বলছ?
এস্তেজা: এমন একটা বাজার, যেখানে মানুষের চুলের রং সাদা হয়ে যাওয়াই অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ইভান: সিলভার অর্থনীতি?
এস্তেজা: ঠিক তাই। নামটা শুনলে মনে হয় কোনো ব্যাংকের হিসাব। আসলে এটা বয়স বাড়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
ইভান: একটু সহজ করে বলো।
এস্তেজা: ধরো, একজন মানুষের বয়স সত্তর। তাঁর হয়তো চিকিৎসা লাগবে, ওষুধ লাগবে, পরিচর্যাকারী লাগবে। কিন্তু তিনি শুধু রোগী নন। তিনি খাবার কিনবেন, পোশাক কিনবেন, ভ্রমণ করবেন, ব্যাংক ও বিমা ব্যবহার করবেন, স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, নিরাপদ বাড়ি চাইবেন।
ইভান: অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের প্রয়োজন বদলায়। আর সেই বদলে যাওয়া প্রয়োজনকে ঘিরে যে পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তির বাজার তৈরি হয়—সেটাই সিলভার অর্থনীতি।
এস্তেজা: ঠিক। আর পৃথিবীর অনেক দেশ এখন এই বাজারকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।
ইভান: কারণ পৃথিবীর মানুষ বেশি দিন বাঁচছে কিন্তু অনেক দেশে সন্তান জন্মের হার কমছে।
এস্তেজা: হ্যাঁ। ফলে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু তাঁদের দেখাশোনা করার মতো কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত কমছে।
ইভান: ইউরোপে তো ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট।
এস্তেজা: ইউরোপে ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জাপানেও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাপ অনেক বেশি। দক্ষিণ কোরিয়াও একই সমস্যার মুখোমুখি। চীনও বুঝে গেছে—বয়স্ক জনগোষ্ঠী শুধু সামাজিক দায় নয়, একটি বিশাল ভোক্তা বাজারও।
ইভান: আর আমরা?
এস্তেজা: আমরা এখনো ভাবছি—বিদেশে আরও কতজন শ্রমিক পাঠানো যায়।
ইভান: কিন্তু মানুষ পাঠানোও তো অর্থনীতির একটা পথ।
এস্তেজা: অবশ্যই। কিন্তু শুধু মানুষ পাঠালে কেন? আমরা কেন সেই মানুষকে এমন দক্ষ করে তুলব না, যাতে তার আয় কয়েক গুণ বাড়ে?
ইভান: যেমন?
এস্তেজা: সাধারণ শ্রমিকের বদলে প্রশিক্ষিত প্রবীণ পরিচর্যাকারী। নার্সিং সহকারী। পুনর্বাসন সহকারী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পরিচর্যাকারী। বৃদ্ধদের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার প্রশিক্ষিত কর্মী।
ইভান: জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া—এ ধরনের মানুষের চাহিদা তো বাড়ছে।
এস্তেজা: শুধু চাহিদা বাড়ছে না, অনেক দেশে কর্মীর ঘাটতিও তৈরি হচ্ছে। জাপান আগামী বছরগুলোতে আরও বিপুলসংখ্যক পরিচর্যাকারী কর্মী চায়। দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভবিষ্যতে এই ঘাটতি আরও বাড়বে।
ইভান: তাহলে বাংলাদেশের জন্য এটা বড় সুযোগ।
এস্তেজা: সুযোগ কিন্তু সহজ সুযোগ নয়।
ইভান: কেন?
এস্তেজা: কারণ বিদেশে গিয়ে কারও বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনা করা আর সাধারণ শ্রমের কাজ এক জিনিস নয়। এখানে মানবিকতা, ধৈর্য, চিকিৎসাবিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান, শারীরিক সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা—সবকিছু লাগে।
ইভান: ভাষাও লাগে।
এস্তেজা: ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন জাপানি বৃদ্ধ যদি তার পরিচর্যাকারীকে নিজের প্রয়োজন বোঝাতে না পারেন, তাহলে শুধু হাত-পা চালানোর দক্ষতা দিয়ে কী হবে?
ইভান: তাহলে বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণের ধরনটাই বদলাতে হবে।
এস্তেজা: ঠিক। শুধু সনদ দিলেই হবে না। কাজ শেখাতে হবে। ভাষা শেখাতে হবে। সংস্কৃতি শেখাতে হবে। এমনকি কোন দেশে বৃদ্ধদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে খাবার দিতে হয়, কীভাবে ওষুধের সময় মনে করিয়ে দিতে হয়—এসবও শেখাতে হবে।
ইভান: আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কি এটা করতে পারে?
এস্তেজা: কেন পারবে না? নতুন করে সবকিছু শূন্য থেকে বানানোর দরকার নেই। বিদ্যমান প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিশেষায়িত প্রবীণ পরিচর্যা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা যায়।
ইভান: আর ভাষা?
এস্তেজা: যে দেশে কর্মী পাঠানো হবে, সেই দেশের ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জাপানের জন্য জাপানি, জার্মানির জন্য জার্মান, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য কোরীয়।
ইভান: তাহলে একটা প্রশিক্ষণ শেষ করে একজন তরুণ বলতে পারবে—আমি শুধু শ্রমিক নই, আমি একজন পেশাদার পরিচর্যাকারী।
এস্তেজা: এবং তার পারিশ্রমিকও সেই অনুযায়ী হবে।
ইভান: কিন্তু তুমি শুধু মানুষ পাঠানোর কথা বলছ। সিলভার অর্থনীতি তো তার চেয়ে অনেক বড়।
এস্তেজা: অনেক বড়। ধরো, প্রবীণদের জন্য বিশেষ পোশাক।
ইভান: বাংলাদেশ সেটা তৈরি করতে পারে।
এস্তেজা: বিশেষ জুতা, সহজে পরা যায় এমন পোশাক, নিরাপদ আসবাব, চলাচলের সহায়ক যন্ত্র, হুইলচেয়ার, হাঁটার সহায়ক সরঞ্জাম।
ইভান: এমনকি স্মার্ট ঘড়ি বা পড়ে গেলে সংকেত পাঠানোর যন্ত্রও।
এস্তেজা: হ্যাঁ। বাড়িতে একা থাকা একজন বৃদ্ধ পড়ে গেলে পরিবারের সদস্যের ফোনে সতর্কবার্তা যাবে—এমন প্রযুক্তি তৈরি করা যায়।
ইভান: তাহলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও সুযোগ আছে।
এস্তেজা: বিশাল সুযোগ। দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ, ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেওয়া, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহায়তা—সবই ভবিষ্যতের বাজার।
ইভান: পুনর্বাসন কেন্দ্র?
এস্তেজা: সেটাও। শারীরিক পুনর্বাসন, মানসিক সুস্থতা, প্রবীণদের জন্য ব্যায়াম, নিরাপদ আবাসন—একটা বিশাল পরিসর।
ইভান: পর্যটনও কি এর মধ্যে পড়বে?
এস্তেজা: অবশ্যই। সবাই পাহাড়ে উঠে দৌড়াতে চায় না। প্রবীণ পর্যটকের জন্য আরামদায়ক পরিবহন, চিকিৎসা সুবিধা, সহজ চলাচল, নিরাপদ হোটেল—এসব নিয়েও আলাদা পর্যটন শিল্প তৈরি হতে পারে।
ইভান: বাংলাদেশ কি সেখানে ঢুকতে পারে?
এস্তেজা: কেন নয়? আমাদের সমুদ্র আছে, পাহাড় আছে, নদী আছে, প্রকৃতি আছে। যদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধার সঙ্গে নিরাপদ পর্যটনকে যুক্ত করা যায়, তাহলে বিদেশি প্রবীণ পর্যটকদের জন্যও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে।
ইভান: শুনতে ভালো লাগছে। কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে। এত বড় বাজারের কথা বলছ—এর আকার কত?
এস্তেজা: হিসাব পদ্ধতি ভেদে সংখ্যা আলাদা। প্রবীণ মানুষের মোট ভোক্তা ব্যয় ধরলে অঙ্কটা বহু ট্রিলিয়ন ডলারের। আর তাঁদের বিশেষ চাহিদা ঘিরে তৈরি পণ্য ও সেবার বাজারও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইভান: অর্থাৎ এটা কোনো ছোটখাটো কুলুঙ্গি বাজার নয়।
এস্তেজা: একদম নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বাজার আগামী বছর হঠাৎ তৈরি হবে না। এটা এখনই তৈরি হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দশক ধরে বাড়বে।
ইভান: চীন কী করছে?
এস্তেজা: চীন ২০২৪ সালে সিলভার অর্থনীতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা করেছে। প্রবীণদের উপযোগী পোশাক, খাবার, স্মার্ট বাড়ি, পরিধানযোগ্য যন্ত্র, পরিচর্যার রোবট, পুনর্বাসন সরঞ্জাম, বিমা, আর্থিক সেবা, পর্যটন—সবকিছুকে একই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে দেখছে।
ইভান: মানে তারা বৃদ্ধ মানুষকে শুধু ভাতা দেওয়ার মানুষ হিসেবে দেখছে না।
এস্তেজা: বরং তাঁকে একজন নাগরিক, ভোক্তা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখছে।
ইভান: আমাদের বড় ভুলটা তাহলে এখানেই?
এস্তেজা: অনেকটাই। আমরা প্রবীণ মানেই অসুস্থ, নির্ভরশীল, পরিবারের বোঝা—এমন ধারণায় আটকে থাকি।
ইভান: অথচ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা ব্যবসায়ী তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।
এস্তেজা: অবশ্যই। প্রবীণ মানুষ শুধু সেবা নেবেন না, সেবাও দিতে পারেন। পরামর্শ দিতে পারেন, প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, ছোট ব্যবসা করতে পারেন, পর্যটন করতে পারেন, নতুন পণ্য কিনতে পারেন।
ইভান: তাহলে বাংলাদেশে প্রথম কাজ কী হওয়া উচিত?
এস্তেজা: প্রথমে জাতীয় পর্যায়ে সিলভার অর্থনীতিকে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
ইভান: তারপর?
এস্তেজা: দেশভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ। কোথায় কত পরিচর্যাকারী লাগবে, কী ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার, কী ভাষা দরকার, কত বেতন, কোন সনদ গ্রহণযোগ্য—সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
ইভান: তারপর প্রশিক্ষণ।
এস্তেজা: প্রশিক্ষণ, ভাষা, সনদ এবং বিদেশি নিয়োগদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।
ইভান: আর দেশীয় শিল্প?
এস্তেজা: পোশাকশিল্পকে প্রবীণবান্ধব পোশাক তৈরিতে আনা যায়। ওষুধশিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার পণ্য ও সরঞ্জামে উৎসাহ দেওয়া যায়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রবীণবান্ধব প্রযুক্তি তৈরিতে প্রণোদনা দেওয়া যায়।
ইভান: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?
এস্তেজা: প্রবীণ স্বাস্থ্য, পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন, বার্ধক্যবিজ্ঞান—এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বাড়াতে হবে।
ইভান: আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এটা যেন আবার একটা সরকারি প্রকল্প হয়ে কাগজে আটকে না যায়।
এস্তেজা: সেটাই ভয়। আমরা প্রকল্প বানাতে খুব ভালোবাসি, বাজার বানাতে কম।
ইভান: তাহলে বাজারের সঙ্গে প্রশিক্ষণকে যুক্ত করতে হবে।
এস্তেজা: ঠিক। যে দেশে কর্মীর চাহিদা আছে, সেই দেশের প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তাহলে প্রশিক্ষণ শেষ করে চাকরি খোঁজার বদলে চাকরির প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।
ইভান: আর শুধু বিদেশে পাঠানোর কথা ভাবলে হবে না।
এস্তেজা: না। বাংলাদেশেও কয়েক দশক পর প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়বে। আজ আমরা অন্য দেশের প্রবীণদের জন্য কর্মী তৈরি করব, কাল আমাদের নিজেদের প্রবীণদের জন্যও একই অবকাঠামো প্রয়োজন হবে।
ইভান: অর্থাৎ সিলভার অর্থনীতি একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তার পরিকল্পনা।
এস্তেজা: ঠিক ধরেছ।
ইভান: তাহলে একটা কথা বলি?
এস্তেজা: বলো।
ইভান: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী নয়। আমাদের আসল শক্তি হবে—তরুণদের দক্ষতা এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা—দুটোকে একই অর্থনীতিতে যুক্ত করতে পারা।
এস্তেজা: আর পৃথিবী যখন বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে, বাংলাদেশ যদি শুধু দর্শক হয়ে থাকে, তাহলে সুযোগটা অন্য দেশ নিয়ে যাবে।
ইভান: কিন্তু আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিই?
এস্তেজা: তাহলে বিদেশে দক্ষ পরিচর্যাকারী পাঠাব, দেশে নতুন সেবা তৈরি করব, প্রবীণবান্ধব পণ্য রপ্তানি করব, প্রযুক্তি তৈরি করব, পর্যটন বাড়াব।
ইভান: আর লাখ লাখ তরুণের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে।
এস্তেজা: ঠিক।
ইভান: মজার ব্যাপার কী জানো?
এস্তেজা: কী?
ইভান: পৃথিবীর অনেক দেশ এখন বলছে—আমাদের প্রবীণ মানুষের যত্ন নেওয়ার মতো লোক নেই।
এস্তেজা: আর বাংলাদেশ বলছে—আমাদের তরুণদের কাজ নেই।
ইভান: তাহলে সমস্যা কি সত্যিই কাজের অভাব?
এস্তেজা: সবসময় নয়।
ইভান: তাহলে?
এস্তেজা: অনেক সময় সমস্যা হলো—আমরা ভবিষ্যতের কাজটা দেখতে পাই না।
ইভান: আর সিলভার অর্থনীতি সেই ভবিষ্যতের দরজাগুলোর একটা।
এস্তেজা: শুধু একটা দরজা নয়, ইভান—সম্ভবত এমন একটা দরজা, যার ওপাশে বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থান, বৈদেশিক আয় আর নতুন শিল্প—তিনটিই অপেক্ষা করছে।
ইভান: তাহলে দরজাটা খুলতে হবে।
এস্তেজা: এখনই।