সত্যি বলতে,, এই গল্পটা লিখতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছি মনের চৌকাঠে। পুরোদস্তুর মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে হোক বা ইসলাম ধর্মানুসারী হিসেবে,, এই গল্পটা কলমে তুলে আনতে বড্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
উপরন্তু, একজন মুসলমান হয়েও ইসলামের একনিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের নিয়ে লিখতে কার ভালো লাগবে?
বলছি,,, কাজী বাড়ির কথা। 'ফতেহপুর' ইউনিয়নের সুপরিচিত 'কাজী বাড়ি '। পুরো এলাকায় বিরাট আধিপত্য এই বাড়ির। এই বাড়ির বললে ভুল হবে; কাজী বাড়ির বড়ো ছেলে মৌলানা কাজী তোফাজ্জল সাহেবের আধিপত্য।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফারুক সাহেব নিজে কখনো একা সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি চোখ রাখেন,তার পাশের চেয়ারে বসা তোফাজ্জল হুজুরের দিকে।
তোফাজ্জল হুজুর যেই নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত দিবেন সেটিই হবে একমাত্র সঠিক এবং নির্ভুল সমাধান।
আর এলাকা বাসীর কাছেও তা সন্তুষ্ট চিত্তে পালনীয়।
শুধু কি চেয়ারম্যান? আশেপাশের দশ গ্রামের আস্থাও এই তোফাজ্জল হুজুর।
যেকোনো আয়োজনে আলোচিত বক্তা তোফাজ্জল সাহেবের সরব উপস্থিতি যেন, একমাত্র কাম্য বিষয় সকলের।
চিন্তা করুন, যার আধিপত্য পুরো এলাকায় এতো বিস্তৃত, নিজের বাড়িতে সেই প্রভাব কতটা শক্তিশালী হবে?
"কাজী বাড়ি" নামটা উচ্চারণের সাথে সাথে সবার মস্তিষ্কে অবচেতনে ভেসে ওঠে তোফাজ্জল হুজুরের কথা । ঐ যেমন-বৃষ্টির দিনে বের হতে গেলে ছাতার কথা মনে পড়ে। কিংবা, হঠাৎ জিহাদ নামের কারো সাথে দেখা হতেই আপনার পুরানো বন্ধু জিহাদের মুখ মনে পড়ে,, তেমন।
এই 'কাজী বাড়ির ' তিন ছেলে। বড়ো ছেলের পরিচয় তো ইতোমধ্যেই পেলেন।
মেজো ছেলে 'কাজী শওকত ওসমান' একজন ব্যবসায়ী। যেন তেন ব্যবসায় নয় ; সেই ব্যবসার ডালপালা এখন বিদেশের মাটিতেও জায়গা করে নিয়েছে।
এই দুই সুপুত্র নিয়ে মা জোহরা খাতুনের গর্বের অন্ত নেই।
একজন শিক্ষায়-জ্ঞানে-প্রতিভায় ধর্মের আলো ছড়াচ্ছে, অন্যজন বিশাল বড় ব্যবসায়ী।
এই দুই সন্তানের কথা আসলেই ষাটোর্ধ জোহরা খাতুনের বুক টান টান হয়ে আসে।
দুই নেত্র ঝলমলিয়ে উঠে।
প্রগাঢ় প্রসন্নতায় চেয়ে যায় হৃদয়। ঠোঁটের কোণে খেলা করে গাম্ভীর্যময় হাসি।
ঠিক তেমনি বিরক্তিতে চোখমুখ খিঁচে উঠে ছোট ছেলে 'কাজী রওজান সোবহানের ' ক্ষেত্রে।
যেন জীবনের একমাত্র ব্যর্থতা এই বাউণ্ডুলে ছেলে জন্ম দেওয়া। ঠিক কোন শব্দ দিয়ে ভর্ৎসনা করলে, এই ছেলের সাথে যায় বুঝে উঠতে পারেন না জোহরা খাতুন।
ছোট ছেলে রওজান একজন শিক্ষক। ভার্সিটি শেষ করে নিজেই বেছে নিয়েছে এই পেশা।
ভাইয়ের ব্যবসা দেখাশোনা করলেই পারে! কিন্তু না, রওজান তো রওজানই। বড় ভাইয়ের কথা,মায়ের কথা অগ্রাহ্য করে সে এই পেশায় অটল।
এই.. নিয়ে মায়ের বিরক্তি র, আপসোসের শেষ নেই। মায়ের কথা অমান্য করছে মানা যায় ; কিন্তু বড় ভাইয়ের কথা কি করে অমান্য করে এই ছেলে। যার কথা কিনা এলাকার প্রতিটি মানুষ মান্য করে।
ছোট ছেলের এমন স্পর্ধায় ত্যক্ত-বিরক্ত জোহরা খাতুন দু কথা শুনাতেও ভুলেন না।
রোজ এই এক বিষয় নিয়ে, কথা শুনান ছোট বউ 'শেহতাজ মিম ' কে ।
-"একটা মুনাফেক জন্ম দিয়েছি। না আছে ধর্ম জ্ঞান, না আছে বোধ শক্তি। মূর্খ ছেলে। ধর্ম চর্চা নেই, বড় জনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই..। কোন পাপে যে এমন সন্তান জন্ম দিলাম!"
মিম চুপচাপ শুনে যায়। মাঝে মাঝে কাজের ফাঁকে একবার শাশুড়ী র চেহারা দেখে। তারপর দূরবুদ্ধ হাসির রেখা টেনে কাজে মনোযোগ দেয়।
সংসারের প্রায় সব কাজের দায়িত্ব শেহতাজ মিমের উপর।
রওজানের এই চাকরি নিয়ে বরাবরই বাড়ির সকলে নাক ছিটকান। অল্প বেতন, তদুপরি সামান্য স্কুল মাস্টার,, এ যেন এই প্রভাবশালী বাড়ির সাথে বড্ড বেমানান। কিংবা প্রকাণ্ড এক অপরাধ।
কিন্তু সেই বিরূপ পরিবেশেও রওজানের এক টুকরো প্রশান্তির বাতাস আছে। আর সেই বাতাসের উৎস নিজের সহধর্মিণী শেহতাজ মিম। অসম্ভব ধৈর্য্যশীল এই মেয়েটি, নিরব সমর্থক রওজানের।
সবার ভৎসনার মাঝে এক ঝলক দ্যুতি ছড়ানো হাসি দিয়ে, স্বামী কে আশ্বস্ত করেন দু-হাত শক্ত করে ধরে।
রওজান বুঝে এই হাসির অর্থ।
-" এসব কথায় কিছু মনে করো না। আমি জানি তুমিই ঠিক। এই মহৎ যাত্রায় আমি সবসময়ই তোমার পাশে আছি। " এভাবেই স্ত্রীর না বলা কথাগুলো মনে মনে সাজিয়ে আওড়িয়ে নেয় রওজান।
বাড়িতে কাজের মেয়ে আছে দু'জন । তবুও দু দন্ড বসার জো নেই মিমের। এতগুলো মানুষের দায়িত্ব তো আর কম না।
শাশুড়ির খাবার,ওষুধ ঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া। বড় ভাইয়ের, মেজ ভাইয়ের,, সবার প্রয়োজনের তাগিদ সঠিক ভাবে পূরণ করে ; তবেই ভাবতে পারে নিজের স্বামী কে নিয়ে ।
এ বাড়ির সবার সেবা যত্নের সুযোগ হলেও ; নিজের অগোচালো মানুষটার খেয়াল রাখার সুযোগ হয় না মিমের। তাতে অবশ্য কোনো অভিযোগ ও নেই রওজানের।
সব কাজ সেরে ; ক্লান্ত শরীর টা যখন বিছানা পাই, সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে আসে চোখের পাতা।
জোহরা খাতুন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
ধর্মজ্ঞানের চেয়ে, ধর্মটান উনার বেশি।
তেমনি ধর্মচর্চার চেয়,ধর্মচর্চায় অবহেলা করা মানুষের হিসাব টা বেশি রাখেন।
জোহরা খাতুনের ধর্ম চর্চার একমাত্র শিক্ষক নিজের ছেলে তোফাজ্জল। ছেলেকে তিনি যে,কত বড়ো চোখে দেখেন সে কথা লিখে প্রকাশ করা দুষ্কর।
এই জীবনে এমন সুদর্শন, ভদ্র, সুশীল, সুকন্ঠের বক্তা তিনি দুটো দেখেন নি।
তিনি বুঝে উঠতে পারেন না, তার মতো মূর্খ মানুষের সন্তান এত বড় মৌলানা, এত গভীর তার ধর্মপ্রাণ।
মা হয়েও ছেলেকে তিনি বসিয়েছেন সম্মানের, আদর্শের উচ্চাসনে।
মুখভর্তি দাঁড়ি,লম্বা শুভ্র পাঞ্জাবী, নান্দনিক কারুকাজের টুপি আর আতরের স্নিগ্ধ গন্ধ ছড়িয়ে যখন ছেলেটা বের হয়ে যায়,,,মা জোহরা খাতুন নিষ্পলক চোখে দেখেন। রোজ দেখেও এই দেখার তৃপ্তি যেন মিঠে না। বরং বেড়ে যায়,,।
রোজকার মতো আজও ছেলেকে দেখে তৃপ্তির হাসি মুখে নিয়ে নামাজে দাঁড়ালেন জোহরা খাতুন।
হঠাৎ কারো কান্নার গুণগুণ শব্দ কানে এলো। মনোযোগ স্থির করলেন সেদিকে। বুঝতে পারলেন ছোট বউ মিমের ঘর থেকে এই শব্দ আসছে।
কিন্তু সে হঠাৎ কাঁদবে কেন?
জোহরা খাতুন যতদূর জানেন এই মেয়ে স্বভাবে বেশ ভারি। হাসি,কান্না,কথা সবকিছুতেই ভারি। সারাদিন কাজ নিয়ে ই পড়ে থাকে। গরীব ঘরের মেয়ে, অন্য বউদের সাথে মেশার সাহসও করে না হয়তো। কার কি প্রয়োজন, সেই ফরমায়েশ পূরণ করেই দিনাতিপাত করে দিব্যি। যেন এতেই তার শান্তি।
কিন্তু আজ হঠাৎ কি হলো?
প্রথম নিয়ত শেষ করেই ছোট বউয়ের ঘরে গেলেন জোহরা।
দরজা ভিজিয়ে খাটের কার্নিশে মাথা ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে মিম।
সবসময়ের পরিপাটি শাড়ীর কুঁচি গুলো আজ অগোছালো। খোঁপায় বাঁধা চুলগুলোর কয়েক গোছা বেরিয়ে গেছে। শাড়ির আঁচল টা টান টান করে দরে রেখেছে, শরীরে জড়িয়ে। যেন কিছু ঢাকার চেষ্টা!
জোহরা রাশভারি কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, " কি হয়েছে মিম? কাঁদছ কেন?"
মিম নিরুত্তর।
জোহরা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন।
মিম নিচু স্বরেই উত্তর দিলো-কিছু না মা,এমনি।
-এমনি কাঁদার মেয়ে তুমি না, সে কথা আমি ভালো জানি । কি হয়েছে তাই.. বলো। আমি অর্ধ নামাজ রেখে এসেছি।
মিম অল্পক্ষণ ছলছল চোখে শাশুড়ী কে দেখলেন। তবে এই সংসারে কেউ তার স্বভাবও খেয়াল করে!
সে তো ভেবেছিল কেউ তাকে মানুষ ই মনে করে না।
জোহরা মিম কে নীরব দেখে, ভ্রু কুঞ্জিত করে, চলে যেতে পা বাড়ালেন।
মিম বিষাদমাখা গলায় ডাকলো-"মা, শুনবেন একটু।"
জোহরা পা থামিয়ে ফিরে তাকালন জিঙ্গাসু দৃষ্টিতে।
-বড় ভাই,আজ আমাকে খুব খারাপ কিছু কথা বলেছেন। বলেছেন,,!
-কি বলেছে,তোফাজ্জল? কোনো ভুলের জন্য বকা দিয়েছে? আর সেজন্য তুমি এভাবে কাঁদছিলে? বড় জন কি..?
-না, মা। আপনি যা ভাবছেন,তা নয়।
তিনি..! তিনি আমাকে খারাপ কিছু ইঙ্গিত করেছেন। বড়ো ভাবি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় দীর্ঘদিন নাকি তিনি কষ্টে আছেন। আমি যদি উনার মনোবাসনা পূরণ না করি, তবে আমাকে ঘরছাড়া করবেন। পুরো এলাকার মানুষ জড়ো করে অপবাদ দিবেন।
তারপর আমা,,।
-চুপ করো মেয়ে। কি বলছো জানো তুমি? হুশ আছে তোমার? নির্লজ্জ মেয়ে। আমার অমন ফেরেশতার মতো ছেলেকে নিয়ে এতো জগন্য কথা বলছো।
এ তো ধর্ম সইবে না,আল্লাহ সইবে না।
-মা..!
কিছু বলতে চাচ্ছিলো মিম। কিন্তু তাকে থামিয়ে দিয়ে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন জোহরা খাতুন -
" একদম চুপ। বেহায়া মেয়েছেলে কোথাকার। তোমাদের মতো ফকিন্নিদের স্বভাব ই এমন। কিন্তু এতবড় কথা বলার আগে তোমার বুক কাঁপলো না? যাকে এতো গুলো মানুষ শ্রদ্ধা করে। যার চারিত্রিক সৌন্দর্যে মানুষ মুগ্ধ হয়ে যায় তাকে নিয়েই তুমি,,,! শুন, মেয়ে। তুমি এক্ষুণি এই ঘর থেকে বের হয়ে যাবা। এক্ষুণি,,।
মিমের চোয়াল শক্ত হলো। জলমিশ্রিত চোখে কৌতুক হাসি ফুটে উঠলো।
জোরালো কন্ঠে বললো-শুধু আজ নয়, এর আগেও অনেক বার আপনার ছেলে আমাকে খারাপ ইঙ্গিত দিয়েছেন। উনার দৃষ্টি বিকৃত । সবসময় উনার দৃষ্টি একরকম থাকে না। পাঞ্জাবি আর টুপির আড়ালের মানুষ টা খুব কুৎসিত।
এতোক্ষণ রাগে থিরথির করা জোহরা খাতুন আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। দিগবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটে গিয়ে মিমের দুই গালে সপাটে চড় বসালেন।
এতেও স্থির থাকতে পারলেন না তিনি।
মিম কে ধাক্কা দিয়ে বললেন -এক্ষুনি বের হয়ে যা।এমন নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়ের মুখ আমি দেখতে চাই না।
সেই ধাক্কার ছোটে, তাল সামলাতে না পেরে, মিমের মাথা গিয়ে ঠেকলো এক পিলারে।
প্রচন্ড যন্ত্রণায় মাথায় হাত দিয়ে পড়ে গেলো নিচে।
গলগলিয়ে রক্ত বের হচ্ছে কপাল বেয়ে।
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে শাশুড়ির অগ্নিমূর্তি ধরা মুখের পানে চেয়ে ঠোঁট ছাড়িয়ে হাসলো মিম।
তখনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেন বড়ো বউ 'আফরোজ '।
সাত মাসের পেটে একটা হাত রেখে, অন্য হাতে মিম কে তোলার চেষ্টা করলেন একবার। ব্যর্থ হয়ে, একটা কাজের মেয়েকে ডাকলেন।
দারোয়ান কে গাড়ি বের করার নির্দেশ দিলেন।
মিমের কপাল টা বেঁধে দিলেন। প্রাথমিকভাবে রক্ত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।
তারপর নির্লিপ্ত, শূন্য দৃষ্টিতে এলোমেলো পা ফেলে শাশুড়ির সামনে এসে দাঁড়ালেন।
জোহরার আগুন ঝরা চক্ষুদ্বয় এবার আফরোজের উপর পড়লো। এই মেয়ের প্রতি হঠাৎ এতো দরদ কিসের আফরোজের সেটাই ভাবছিলেন জোহরা।
তার ভাবনায় ছেদ পড়লো বড়ো বউ আফরোজের শান্ত,স্থির কন্ঠে -
"মা, আপনার ছেলে আমার প্রতি রাতের, চোখের জলের কারণ।
ছেলের সম্পর্কে আপনাকে শুধু এতটুকু ই বলি; আপনি, আপনারা সবাই উনাকে যেমন দেখেন উনি তেমন নন। উনার দুটো রুপ।
একটা সবাই দেখে। আরেকটা তারা দেখে, যাদের উনি দেখান। আর দেখেন আল্লাহ!
জোহরা খাতুন মুহূর্তেই যেন ভেঙে গেলেন। থুবড়ে পড়লো যেন মুখ। দম্ব,অহমিকা, গৌরব সব যেন একসাথে ধিক্কার জানালো। কানে শা শা শব্দ ছাড়া কিছুই শুনতে পেলেন না। বুকের মাঝখানে কেউ ছুরি বিদ্ধ করলেও হয়তো এতটা যন্ত্রণা হতো না!
চোখের দৃষ্টি যেন মুহূর্তে ই ক্ষীণ হয়ে এলো।
সতর্পনে, দেয়াল ধরে, চেয়ারে গিয়ে বসলেন।
জোহরা খাতুন একবার দেখতে চাইলেন মিম কে।কিন্তু দেখার সাহস হলো না। মিমের সেই কৌতুক মাখা দূর্বদ্ধ হাসি দেখার সাহস হলো না।
সেই হাসিতে কি শুধু ঘৃণা ছিলো?
নাকি ছেলেকে অন্ধ বিশ্বাস করা মায়ের প্রতি করুণা হয়েছিল মিমের!
না,, সে হাসিতে আরো অনেক কিছু ছিলো।
হয়তো ছিলো এমন মুখোশ ধারী মানুষের গল্প,ছিলো যুগ যুগ ধরে চলতে থাকা মুখ ও মুখোশের গল্প।
কয়েকজন মিলে মিম কে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, গাড়ি এসেছে।
জোহরা খাতুন, নির্জীব শরীর টুকু দরজা অবধি টেনে এনে, শক্ত খোলস আবৃত চিত্তে থাকালো মিমের যাওয়ার পানে।
নিস্তেজ প্রায় মিম হঠাৎ, ধীরে, পেছনে ফিরে তাকালো। সেই একই হাসি..!
যেই হাসিতে লুকিয়ে আছে গভীর প্রহেলিকা।
কুলচুমা ইয়াছমিন কনা