অবশেষে দীর্ঘ রাত্রির অবসান হলো,
অন্ধকার কেটে ভোরের আলো ফুটে উঠলো;
কিন্তু এখনো আসমানভরা ঘন কালো মেঘে,
তাই আর রক্তিম সূর্যের দেখা পেলাম না।
প্রতীক্ষার প্রহরের শ্রাদ্ধ করতে পারলাম না!
এই যে জমিনভরা কাদাজলে,
নিত্য আমি করি গড়াগড়ি;
শক্ত মাটিতে আশ্রয়ের আশায়,
হামাগুড়ি দিতে থাকি নিরালায়।
মঞ্জিল যেন আর কত দূর!
না পেলাম মুক্ত আকাশ,
তাই আর উড়তে পারিনি;
না পেলাম বুকসমান পানি,
তাই আর সাঁতরাতে পারিনি।
এই সংগ্রাম যেন আর কত দিন!
এই যে নিরন্তর সংগ্রাম আর প্রচেষ্টা,
ক্ষয়ে যাওয়া মেশিনে জং ধরা—
ইঞ্জিনের না জানি কী অবস্থা!
কখন জানি যায় থেমে চিরতরে,
অমীমাংসিত রণক্ষেত্রের মধ্যখানে!
অফলজ বৃক্ষের ন্যায় বেড়ে ওঠা,
গন্ধহীন ফুলের ন্যায় ফুটতে থাকা;
প্রান্তহীন মরুর বুকে ছুটতে থাকা,
তলহীন সমুদ্রের মাঝে ভাসতে থাকা—
শুধু কি সময়ের সমুদ্র পাড়ি দেওয়া?
এর কি আছে কিছু মানে,
নাকি এটাই মানে?
যিনি নাচান অদৃশ্য সুতায় বেঁধে,
তিনি হয়তো জানেন!
আর আমি ভাবি, লড়াইটা বুঝি আমারই।